বিএনপি-জামায়াতের লোকদের ফাঁসানোর অভিযোগ

  • আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে বোমা হামলা ও অগ্নিসংযোগের নাটক সাজিয়ে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের নামে ষড়যন্ত্রমূলক মামলা

খুলনায় নিজেদের অফিসে ককটেল ফুটিয়ে ও অগ্নিসংযোগ করে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে। খুলনা-৫ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী জামায়াত নেতা অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার এসব অভিযোগ তুলে একটি বিবৃতি প্রদান করেন। আর খুলনা-৩ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী রকিবুল ইসলাম বকুল সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও খুলনা-৫ আসনে ২০ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার তার বিবৃতিতে বলেন, ধানের শীষের গণজোয়ার দেখে ক্ষমতাসীনেরা দিশেহারা হয়ে পড়েছে। তারা পরাজয় আঁচ করতে পেরে নিজেদের রক্ষা করার জন্য বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা-মামলা ও অত্যাচার-নির্যাতন করছে। প্রচার-প্রচারণার শুরুতেই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ধানের শীষের পোস্টার ছেঁড়া, গণসংযোগ ও প্রচারকাজে বাধা, প্রচারের জন্য ব্যবহৃত মাইক ভাঙচুর, নেতাকর্মীদের হুমকি-ধমকি প্রদান ও মারধর করে আহত করছে। সাধারণ ভোটাররা তাদের কর্মকাণ্ডের কারণে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।

এরপর তারা নিজেদের অপকর্ম ঢাকতে এবং বিরোধী দলকে নির্বাচন থেকে দূরে সরিয়ে দিয়ে ফাঁকা মাঠে গোল দেয়ার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। তারই অংশ হিসেবে ফুলতলায় আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে বোমা হামলা ও অগ্নিসংযোগের নাটক সাজিয়ে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের নামে ষড়যন্ত্রমূলক মামলা দিয়েছে। বোমা হামলা ও অগ্নিসংযোগের চার ঘণ্টা আগে খুলনা জেলা জামায়াতের আমির প্রবীণ রাজনীতিবিদ মাওলানা এমরান হোসাইন, জামায়াতকর্মী জারজিস হোসেন মোড়ল ও শেখ আলী আকবরকে আটক করলেও ওই সাজানো মামলায় তাদেরকে আসামি বানিয়ে গ্রেফতার দেখিয়েছে। এটি একটি কল্পকাহিনী। যার সত্যতার লেশমাত্র নেই। এ ঘটনার পর ফুলতলা এলাকায় গণগ্রেফতার শুরু করে এবং দামোদর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ফিরোজ জমাদ্দার, জামিরা বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবীর মোল্লা, ছাত্রদল নেতা আনিসুর রহমান রনি, মিজানুর রহমান, মো: হাবিবুর রহমান, মো: সোহেল রানা ও রিপনসহ ১২ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করে। এ ছাড়া বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি পুলিশ তল্লাশির নামে হয়নারি করছে। এ সময় তারা পরিবারের সদস্যদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং এলাকা ছাড়ার হুমকি দিয়ে আসছে। তিনি এসব ঘটনার তীব্র নিন্দা ও গ্রেফতারকৃতদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান।

তিনি বিবৃতিতে আরো বলেন, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ডুমুরিয়া উপজেলার ভান্ডারপাড়া ইউনিয়নের উলা গ্রামের ছাত্রশিবির নেতা বেলাল হোসেনসহ তিনজনকে মারধর করে। আঠারো মাইল বাজারে ধানের শীষের গণসংযোগ করাকালে ইউপি সদস্য রবিউল ইসলাম ও চুকনগর বাজারে গণসংযোগ করাকালে বিএনপি নেতা ইউপি সদস্য কামরুল ইসলামকে মারধর করে। তিনি জনগণকে সাথে নিয়ে সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করার ঘোষণা দেন।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ও পুলিশ প্রশাসনের এ ধরনের কর্মকাণ্ডের কথা ইতঃপূর্বে রিটার্নিং অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারদের জানানো হয়েছে। কিন্তু তাদের ভূমিকা দেখে মনে হচ্ছে, তারা অসহায়। আমার বিশ্বাস পুলিশ প্রশাসন ও কোনো রাজনৈতিক দলের চাপে নতি স্বীকার না করে বরং নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে উল্লিখিত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ইসি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড করতে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন। অপর দিকে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মী ও ব্যবসায়ী নেতাদের গ্রেফতারের তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ ও গ্রেফতারকৃতদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়ে খুলনা মহানগরী, জেলা জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবির পৃথক পৃথক বিবৃতি দিয়েছেন। বিবৃতিদাতারা হলেনÑ জামায়াতে ইসলামীর খুলনা মহানগরীর ভারপ্রাপ্ত আমির মাস্টার শফিকুল আলম, দক্ষিণ জেলা আমির গোলাম সরোয়ার, উত্তর জেলার ভারপ্রাপ্ত আমির মাওলানা কবিরুল ইসলাম, মহানগরী সেক্রেটারি অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান, উত্তর জেলা সেক্রেটারি মুন্সি মিজানুর রহমান, দক্ষিণ জেলা সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান, উত্তর জেলার সহকারী সেক্রেটারি মুন্সি মঈনুল ইসলাম, অধ্যাপক মিয়া গোলাম কুদ্দুস, মাওলানা সিরাজুল ইসলাম, গাউসুল আযম হাদী, হাফেজ আমিনুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট ফিরোজ কবীর, মহানগরী ছাত্রশিবির সভাপতি হাবিবুর রহমান ও সেক্রেটারি শাহরিয়ার ফয়সাল, জেলা সভাপতি তাওহিদ উর রহমান ও সেক্রেটারি নাহিদ হাসান।

খুলনা-৩ আসনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী রকিবুল ইসলাম বকুল গত রোববার বিএনপি অফিসে আহূত এক সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, শনিবার সন্ধ্যায় আড়ংঘাটা এলাকায় গণসংযোগ করেন। সেখান থেকে চলে আসার পর রাত ৮টায় এলাকার মনিরুল মেম্বরের বাড়ির সামনে আওয়ামী লীগের লোকজন কয়েকটি ককটেল ফাটায়। এরপর তার দায় বিএনপি কর্মীদের ওপর চাপিয়ে দিয়ে তাদের পুলিশ দিয়ে ধরানোর চেষ্টা করছে।

পোস্টার ছেঁড়ার প্রতিবাদ করায় বিএনপি নেতাকে গ্রেফতার : ছাত্রলীগের এক সাবেক ক্যাডারের নেতৃত্বে ধানের শীষের পোস্টার ছিঁড়ে ফেলতে বাধা দেয়া ও তর্কে লিপ্ত হওয়ার অপরাধে নগর বিএনপির সহপ্রকাশনা সম্পাদক হাসানুর রশিদ মিরাজকে চাঁদাবাজি, লুটপাট, নাশকতা ও মাদকের তিন মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। মহানগর বিএনপির নেতৃবৃন্দ এক বিবৃতিতে ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে মিরাজের নিঃশর্ত মুক্তি, সব বানোয়াট মামলার কার্যক্রম স্থগিত এবং পুলিশের কিছু অতি-উৎসাহী কর্মকর্তার ধানের শীষের কর্মীদের বেছে বেছে গ্রেফতার অভিযান বন্ধের দাবি জানান।

বিবৃতিতে বিএনপি নেতারা জানান, গত ১৫ ডিসেম্বর রাত ১টায় ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জুর কর্মী বিএনপি নেতা হাসানুর রশিদ মিরাজ কাজ শেষে দারোগাপাড়ার বাড়িতে ফিরছিলেন। এলাকায় প্রবেশ করতেই দেখেন ছাত্রলীগের সাবেক দুর্ধর্ষ ক্যাডার ও বহু অপরাধ সংঘটনের হোতা এ কে এম শামীম রচি তার বাহিনী লেলিয়ে দিয়ে ধানের শীষের পোস্টার ছিঁড়ছে। মিরাজ এ ঘটনার জোর প্রতিবাদ করেন। স্থানীয় একটি দোকানের সামনেই ঘটনা ঘটছিল। দোকানদার কেন পোস্টার ছেঁড়ায় বাধা দেয়নি, তা জানতে চেয়ে মিরাজ তার সাথে তর্কে লিপ্ত হন। এরপর মিরাজ বাড়ি ফিরে গেলে কিছু সময় পর একদল পুলিশ বাড়িতে প্রবেশ করে মিরাজকে আটক করে গাড়িতে তোলে। তারা থানায় নেয়ার পথে সারা পথ মিরাজকে বেদম মারধর করে। সেখানে যাওয়ার পর ওই দোকানদারকে জোরপূর্বক থানায় ডেকে এনে মিরাজের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, লুটপাট এবং পুলিশ বাদি হয়ে মাদকের মামলা দেয়। একই সাথে রাজনৈতিক নাশকতার একটি মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে চালান দেয়। পুলিশ তাকে তিন দিনের রিমান্ডের আবেদন করে। পুলিশ একই মামলায় ঘটনাস্থল থেকে কমপক্ষে এক কিলোমিটার দূরে অবস্থানরত ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আলম হাওলাদার ও যুবদল নেতা আব্দুল্লাহ আল মামুনকে আসামি করে। মামলার পর থেকে ধানের শীষ প্রতীকের এই দুই কর্মীর বাড়িতে পুলিশ ও গোয়েন্দারা দফায় দফায় অভিযান চালাচ্ছে।

বিবৃতিদাতারা হলেন : চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এম নুরুল ইসলাম দাদু ভাই, মহানগর সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু, সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনি, সাহারুজ্জামান মোর্তজা, কাজী সেকেন্দার আলী ডালিম, মীর কায়সেদ আলী, শেখ মোশারফ হোসেন, সেকেন্দার আলী ডালিম, সৈয়দা নার্গিস আলী, মীর কায়সেদ আলী, শেখ মোশারফ হোসেন, জাফরউল্লাহ খান সাচ্চু, জলিল খান কালাম, সিরাজুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট ফজলে হালিম লিটন, শেখ আমজাদ হোসেন, অধ্যাপক আরিফুজ্জামান অপু, সিরাজুল হক নান্নু ও ইকবাল হোসেন খোকন।

Comments

comments