ঢাকা-১৫: কামাল মজুমদারের বিরুদ্ধে সমন, ২৩ তারিখ হাজির হওয়ার নির্দেশ

‘কুখ্যাত রাজাকার’ বলায় ঢাকা-১৫ আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী কামাল আহমেদ মজুমদারকে লিগ্যাল নোটিশ দিয়েছেন ধানের শীষের প্রার্থী ডা. শফিকুর রহমান। পাশাপাশি নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে সমন জারিও করা হয়েছে।

তদন্ত কমিটি কামাল আহমেদ মজুমদারকে অভিযোগের জবাব দেয়ার জন্য আগামী রোববার (২৩ ডিসেম্বর) সকাল ৯টার মধ্যে নির্বাচন তদন্ত কমিটি-৭৮ এ স্বশরীরে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করে।

প্রচার প্রচারণায় বাধা, হামলা, মামলা, নেতাকর্মী ও সমর্থকদের গ্রেফতারের অভিযোগের মধ্যেই রাজাকার বলায় কামাল আহমেদ মজুমদারকে লিগ্যাল নোটিশ ও নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে তুলেন জামায়াত নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

তার পক্ষে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী মো. আসাদ উদ্দিন গত ১৫ ডিসেম্বর কামাল আহমেদ মজুমদারের কাছে উক্ত লিগ্যাল নোটিশ প্রেরণ করেন। লিগ্যাল নোটিশে বলা হয়, ‘বিগত ১০ ডিসেম্বর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আপনার একটি ভিডিও বক্তব্য প্রকাশিত হয়েছে।

উক্ত ভিডিও বক্তব্যে আপনি বলেছেন, ‘সে কুখ্যাত রাজাকারকে এখান থেকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে…বিএনপি কাউকে খুঁজে না পেয়ে একজন রাজাকারকে এ এলাকায় মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। আমরা দীপ্ত কণ্ঠে ঘোষণা করতে চাই মিরপুরের মাটিতে তাকে ঢুকতে দেব না। নেতাকর্মীদের শপথ নিতে হবে,

যেখানে আমরা রাজাকারদের পাব একটা একটা করে ধরে আইনের হাতে সোপর্দ করব। আমরা তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করছি। কাজেই আমাদের নেতাকর্মীর মনে রাখতে হবে, রাজাকাররা যাতে এই এলাকায় ঘাঁটি গাড়তে না পারে।’

কামাল আহমেদ মজুমদারের বক্তব্যকে অবমাননাকর ও মানহানিকর আখ্যায়িত করে অ্যাডভোকেট আসাদ উদ্দিন বলেন, আমার মক্কেল ডা. শফিকুর রহমানকে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে উল্লেখিত মানহানিকর বক্তব্য প্রদান করে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী

বাংলাদেশ দণ্ডবিধি ধারা-৫০০ এর অধীন দণ্ডনীয় অপরাধ ও দণ্ডবিধি ধারা ৫০৬ ধারার অধীন শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।অত্র নোটিশ প্রাপ্তির ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বক্তব্য প্রত্যাহার পূর্বক জনসম্মুকে ক্ষমা না চাইলে উপযুক্ত আদালতে আইনগত ব্যবস্থা

গ্রহণে ডা. শফিকুর রহমান বাধ্য হবেন বলে জানান তার আইনজীবী।অন্যদিকে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে কামাল আহমদ মজুমদারের বিরুদ্ধে সমন জারি করা হয়েছে।

ঢাকা-১৫ সংসদীয় আসনের ধানের শীষ প্রার্থীর মিডিয়া সমন্বয়ক মু. আতাউর রহমান সরকার জানান, কামাল আহমদ মজুমদার কর্তৃক নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন বিষয়ে ডা. শফিকুর রহমানের পক্ষে দায়ের করা অভিযোগ বিষয়ে নির্বাচনী তদন্ত কমিটি-৭৮তে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

কমিটির চেয়ারম্যান দ্বিতীয় যুগ্ম-মহানগর দায়রা জজ নিত্যা নন্দন সরকার ও সহকারী জজ বেগম নুসরাত শাহারা বিথী সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টায় শুনানি করেন। এর আগে ডা. শফিকুর রহমানের পক্ষে রিটার্নিং অফিসার ও নির্বাচন কমিশন সচিব বরাবরে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ

মনোনীত প্রার্থী কামাল আহমেদ মজুমদারের নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন ও নির্বাচনী কর্মীদের মারধর, পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা, প্রচারণায় ব্যবহৃত মাইক ও সিএনজি ভাঙচুর, ধানের শীষের প্রার্থীকে নির্বাচনী এলাকায় প্রতিহত করার হুমকি দেয়ার বিষয়ে

গত ১১ ডিসেম্বর অভিযোগ দাখিল করা হয়। তবে সোমবার পর্যন্ত কামাল আহমেদ মজুমদার আত্মপক্ষ সমর্থন করে কোনো বক্তব্য না দেয়ায় ডা. শফিকুর রহমানের আইনজীবীরা সরাসরি আবেদনের মাধ্যমে শুনানি করেন।

শুনানি শেষে তদন্ত কমিটি কামাল আহমেদ মজুমদারকে অভিযোগের জবাব দেয়ার জন্য আগামী রোববার (২৩ ডিসেম্বর) সকাল ৯টার মধ্যে নির্বাচন তদন্ত কমিটি-৭৮ এ স্বশরীরে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করে।

Comments

comments