গোলাম রব্বানীকে ঠেকাতে এবার আ.লীগ-পুলিশ একাকার!

রংপুর-৫ মিঠাপুকুর আসনে বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন ২৩ দলীয় জোটের প্রার্থী অধ্যাপক গোলাম রব্বানীকে ঠেকাতে এবার তার নির্বাচনী প্রচারণায় হামলা, ভাঙচুর, গায়েবি মামলা ও নেতাকর্মীদেরকে গ্রেফতার হয়রানির আশ্রয় নিয়েছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী আশিকুর রহমান। তার এসব অন্যায় কাজে সর্বাত্মক সহযোগিতা করে যাচ্ছে মিঠাকুপুর থানা পুলিশ। অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে নির্বাচনের মাঠে এখন পুলিশ-আওয়ামী লীগ এক জোট। আর তাদের বিরোধীপক্ষ হলো বিএনপি-জামায়াত।

২৩ দলীয় জোটের প্রার্থী অধ্যাপক গোলাম রব্বানী জামায়াত নেতা হলেও মিঠাকুপুরে তিনি একজন জনপ্রিয় ব্যক্তি। আওয়ামী লীগের বর্তমান এমপি আশিকুর রহমানের চেয়ে অধ্যাপক গোলাম রব্বানীর গ্রহণযোগ্যতা সর্বস্তরের মানুষের কাছে অনেক বেশি। যার কারণে, বিগত উপজেলা নির্বাচনে তিনি বিপুলভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন।

এদিকে, আসন্ন একাদশ সংসদ নির্বাচনে অধ্যাপক গোলাম রব্বানীকে ২৩ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে ধানের শীষের একক প্রার্থী ঘোষণা করার পরই চরম বেকায়দায় পড়ে যান বিনাভোটের বর্তমান এমপি ও আওয়ামী লীগ প্রার্থী আশিকুর রহমান। চরম ভরাডুবির আশঙ্কায় তিনি প্রথম থেকেই গোলাম রব্বানীকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখার ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত করেন। একাধিক সূত্রে জানা গেছে, এমপি আশিকুর রহমান ও তার দলের চাপেই প্রথম দিন অধ্যাপক গোলাম রব্বানীর মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেননি রিটার্নিং কর্মকর্তা। এরপর গোলাম রব্বানী আইনের আশ্রয় নেন। হাইকোর্ট গোলাম রব্বানীর মনোনয়নপত্র গ্রহণে রংপুরের রিটার্নিং কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন। পরের দিন গোলাম রব্বানীর আইনজীবীরা কোর্টের আদেশের কপি নিয়ে গেলে সেদিনও রিটার্নিং কর্মকর্তা আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের চাপের মুখে ঠুনকো অজুহাত দেখিয়ে মনোননয়নপত্রটি বাতিল ঘোষণা করেন।

বিশেষ করে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে সেদিন আওয়ামী লীগ নেতারা প্রবেশ করে গোলাম রব্বানীর আইনজীবীদেরকে লাঞ্ছিতও করেছে। এরপর গোলাম রব্বানী বাধ্য হয়ে দ্বিতীয় বার উচ্চ আদালতে যান। আদালতের নির্দেশে নির্বাচন কমিশন অধ্যাপক গোলাম রব্বানীর মনোনয়নপত্র গ্রহণ করতে বাধ্য হয়। আওয়ামী লীগের এমপি আশিকুর রহমান আসন্ন নির্বাচনে চরমভাবে ভরাডুবির আশঙ্কায় এভাবেই ২৩ দলীয় জোটের জনপ্রিয় প্রার্থী অধ্যাপক গোলাম রব্বানীকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করেছেন।

কিন্তু, এতসব করেও অধ্যাপক গোলাম রব্বানীকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে না পেরে এখন সন্ত্রাসের পথ বেছে নিয়েছেন এমপি আশিকুর রহমান। প্রতিদিনই উপজেলার বিভিন্ন স্থানে নির্বাচনী প্রচারণায় গোলাম রব্বানীর কর্ম-সমর্থকদের ওপর হামলা-মারধর, নির্বাচনী কার্যালয় ও মাইক ভাঙুচুর করছে এমপি আশিকুর রহমানের লোকজন। আবার অন্যায়ভাবে প্রচার কর্মীদের ধরে নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। বাড়ি বাড়ি গিয়েও বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদেরকে হুমদি ধামকি দেয়া হচ্ছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এসব হামলা-ভাঙচুরে নেতৃত্ব দিচ্ছেন এমপি আশিকুর রহমানের ছেলে রাশেক রহমান। তার নির্দেশনার আলোকেই ছাত্রলীগ-যুবলীগের সন্ত্রাসীরা প্রতিদিন গোলাম রব্বানীর প্রচারে হামলা-ভাঙচুর চালাচ্ছে। ধানের শীষের পোস্টার ছিড়ে নিচ্ছে।

জানা গেছে, গত কয়েক দিনে উপজেলার ২ নং রাণীপুকুর ইউনিয়নে বর্তমান এমপির ছেলে রাশেক রহমানের নেতৃত্বে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা পোস্টার ছিড়ে ফেলে। ১৬ নং মির্জাপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রানুুর নেতৃত্বে পোস্টার ছিড়ে ফেলে ও প্রচার মাইক ভাংচুর করা হয়েছে। ৭ নং লতিবপুর ইউনিয়নের জায়গীরহাট বাজারে পোস্টার লাগানোর সময় বাধা দিয়েছে ইউপি চেয়ারম্যানের লোকজন সহ ছাত্রলীগের কর্মীরা এবং পোস্টার ছিড়ে ফেলেছে তারা। ৪ নং ভাংনী ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সভাপতি নোমানের নেতৃত্বে ভাংনী বাজারে প্রচার মাইক ও অটোভ্যান ভাংচুর করা হয়েছে। ১৫ নং বড় হযরতপুর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডে আতাউর মেম্বারের বাড়ির সামনে গোলাম রাব্বানীর পোস্টার ছেড়া হয়। ১০ নং বালুয়া মাসিমপুর মরাহাটি বাজারে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা কামরুল ও সাবেক চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে মিছিল ও ধানের শীষের পোস্টার ছিড়ে পুলিশ দিয়ে অফিস দখলের চেষ্টা করে।

৬ নং কাফ্রিখাল ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের ক্যাডার সম্রাট, রাব্বীর নেতৃত্বে ইউনিয়নের ফেডারেশন, আলীপুর, নয়ারহাট, মিয়ারহাট ও কুমরগন্জ বাজারে প্রায় শতাধিক মটর সাইকেল নিয়ে সশস্ত্র মহড়াদেয় এবং ধানের শীষের প্রচার গাড়ি ও মাইক ভাংচুর করে মাইকম্যান ও ড্রাইভারকে পুলিশে দেয়। ৭ নং লতিবপুর ইউনিয়নের খামার দুর্গাপুর গ্রামে ইউপি চেয়ারম্যানের শালক গোলাপ ধানের শীষের প্রচার মাইক আটকিয়ে বাধা দেয় এবং মাইকম্যানকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি ও মারধর করে। মাইক অটোরিকশা সহ আওয়ামিলীগের নির্বাচনী কার্যালয় জায়গীরহাটে নিয়ে যায়। ৫ নং বালারহাট ইউপি চেয়ারম্যান কুদ্দুসের নেতৃত্বে শেরপুরে সহ বেশ কিছু এলাকায় ধানের শীষের পোস্টার ছিড়ে ফেলা হয় এবং ধানের শীষের প্রচার কর্মীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে এক পর্যায়ে আক্রমনাত্মক হয়ে ধাওয়াদেয়।

এছাড়া গত ১৫ ডিসেম্বর ১৭ নং ইমাদপুর ইউনিয়ান পোস্টার লাগানোর সময় মুন্সিপাড়া বাজার থেকে আতিকুর ও মিন্টু নামের দুজন কে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাছাড়া ৫নং বালারহাট ইউনিয়ন থেকে মোসলেম উদ্দিন ও রাখু খলিফা নামে দুই জন ঐক্য জোটের নেতাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

২৩ দলীয় জোটের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের এসব হামলা-ভাঙচুর ও মারধরের বিষয়ে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেও কোনো ফলাফল পাচ্ছেন না তারা।

তাদের অভিযোগ, হামলা-ভাঙচুর বন্ধ না করে গোলাম রব্বানীকে ঠেকাতে পুলিশ তার নামে গায়েবি মামলা দিচ্ছে। গত ১৪ ডিসেম্বর আমাদের প্রার্থী অধ্যাপক গোলাম রব্বানীর বিরুদ্ধে পুলিশ একটি গায়েবি মামলা দায়ের করেছে। নির্বাচনের আগে বাড়ি ছাড়ার জন্য আমাদের নেতাকর্মীদেরকে হুমকি দিচ্ছে আওয়ামী লীগ ও পুলিশ। আমাদের পোলিং এজেন্টদের তালিকা সংগ্রহ করে তাদেরকে ভোটের দিন কেন্দ্রে না আসার জন্য হুমকি দেয়া হচ্ছে।

এতে করে, পুরো মিঠাকুপুর উপজেলায় এখন চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। এমন অবস্থা চলতে থাকলে ভয়ে মানুষ ভোট কেন্দ্রে যাবে কিনা সন্দেহ আছে। এখানে সুষ্ঠু নির্বাচনের ন্যূনতম কোনো লক্ষণ নেই। পুলিশ ও নির্বাচনী কর্মকর্তারা আওয়ামী লীগের সঙ্গে একজোট হয়ে কাজ করছে।

Comments

comments