সারাদেশে নির্বাচনী প্রচারণা: হামলা গুলি গ্রেফতার

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা শুরুর পর থেকেই উত্তাপ-উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে সারাদেশে। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থীরা নিজ নিজ এলাকায় যাওয়া আসার পথে ঘটছে হামলার ঘটনা। যতই দিন যাচ্ছে হামলা, মামলা, গ্রেফতারের ঘটনা বাড়ছে সমানতালে। ১০ ডিসেম্বর প্রচারণার শুরু দিন থেকে ১৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত কেবল লাঠি-সোটা নিয়ে হামলা, গাড়ী ভাঙচুরের ঘটনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও ১৪ ডিসেম্বর রাত থেকে এর সাথে যুক্ত হয়েছে নতুন মাত্রা।

এখন হামলার সাথে সাথে গোলাগুলি ঘটনাও ঘটছে। এই হামলা থেকে বাদ যাননি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন, স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম প্রতাকা উত্তোলনকারী ও জেএসডির সভাপতি আ স ম আব্দুর রব, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, ড. আব্দুল মঈন খানসহ সিনিয়র নেতারা।

কোথাও কোথাও প্ররচারণাকালে প্রার্থীদের দেয়া হচ্ছে বাধা, কোথাও বা ভাঙা হচ্ছে তাদের ব্যবহৃত গাড়ীবহর, আবার ধানের শীষের প্রচারণায় অংশগ্রহণকালে প্রার্থী ও কর্মী-সমর্থকদের ওপর গুলি করার ঘটনাও ঘটেছে বেশ কয়েকটি। ফলে নির্বাচনী উত্তাপ ধীরে ধীরে আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠছে। গতকালও (শনিবার) রাজধানীসহ সারাদেশে বিএনপির প্রার্থীদের প্রচারণাকালে গুলি, হামলা, গ্রেফতারের ঘটনা ঘটেছে। নোয়াখালীতে গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন নোয়াখালী-১ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন। গুলি ছোড়া হলেও অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান কক্সবাজার-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী হাসিনা আহমেদ। শুক্রবার রাতে সিরাজগঞ্জ-২ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী রুমানা মাহমুদের প্রচারণায়ও গুলি করার ঘটনা ঘটেছে। প্রতিটি ঘটনায় বিএনপির বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

এছাড়া রাজধানীতে প্রচারণাকালে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতা সুব্রত চৌধুরী, বিএনপি প্রার্থীর স্ত্রী মিনা হাসানের ওপর হামলা হয়েছে। রাজধানীর বাইরেও ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চাঁদপুর, মাদারীপুর, ভোলাসহ বিভিন্ন এলাকায় হামলার ঘটনা ঘটেছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে অর্ধশতাধিক বিএনপি নেতাকর্মীকে গ্রেফতারেরও অভিযোগ করেছে দলটি। গত কয়েকদিনে জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনেই বিএনপি প্রার্থীর সমর্থক ও নেতাকর্মীদের ওপর হামলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, ৩০০ আসনের মধ্যে দেড়শ আসনেই ধানের শীষের প্রার্থীরাই হামলার শিকার হয়েছে। আর অন্যগুলোতে কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এসব হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

নির্বাচনী প্রচারণায় হামলর ঘটনাগুলো থেকে জানা যায়, গতকাল নির্বাচনী জনসভা থেকে ফেরার পথে নোয়াখালীর সোনাইমুড়িতে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ও নোয়াখালী-১ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ব্যারিস্টার মাহাবুব উদ্দিন খোকন গুলিবিদ্ধ হন। পরে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মাহবুব উদ্দিন খোকনের ছেলে ব্যারিস্টার সাকিব মাহবুব জানান, তার (মাহবুব উদ্দিন খোকন) শরীরে পাঁচটি বুলেট বিদ্ধ হয়েছে। পেছনে চারটি ও সামনে একটি বুলেট বিদ্ধ হয়। সাকিব মাহবুব বলেন, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে সংঘর্ষ চলাকালে এক পর্যায়ে পুলিশ এ্যাকশনে যায়। এসময় ব্যারিস্টার মাহাবুব উদ্দিন খোকন ছাড়াও তার সঙ্গে থাকা বিএনপি ও ছাত্রদলের একাধিক নেতাকর্মী গুলিবিদ্ধ হন। সোনাইমুড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল মজিদ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে সংঘর্ষে মাহবুব উদ্দিন খোকন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।

কক্সবাজার: কক্সবাজারে শনিবার সকাল সাড়ে ১১টায় ডুলাহাজারা ইউনিয়নের কাটাখালী ও ফরেস্ট বীট এলাকায় কক্সবাজার-১ আসনে (চকরিয়া-পেকুয়া) বিএনপি প্রার্থী এড. হাসিনা আহামেদ গণসংযোগ চালাতে গেলে তার ওপর হামলা চালায় আওয়ামী লীগের সশস্ত্র লোকজন। এসময় হাসিনা আহমদের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি করা হয়। গুলি তার গাড়ির কাচ ভেঙ্গে লক্ষ্যভ্রষ্ট হলে প্রাণে রক্ষা পান তিনি। তাৎক্ষণিকভাবে হাসিনা আহমদকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়া সম্ভব হলেও শতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। এদের অনেকেই গুলিবিদ্ধ, লাঠি ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন। হামলায় হাসিনা আহমেদের গাড়িসহ ৩টি গাড়ি ও ৪টি মোটর সাইকেল ভাংচুর করা হয়েছে এবং দুটি মোটর সাইকেল ছিনিয়ে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ করা হয়।

হাসিনা আহমদ ডুলাহাজারা থেকে সরাসরি কক্সবাজার ফিরে এক সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার বর্ণনা দেন। তিনি বলেন, সম্পূর্ণ বিনা উস্কানিতে এবং পূর্ব পরিকল্পিতভাবে গণসংযোগ কর্মসূচিতে হামলা চালানো হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন মহাজোটের প্রার্থী পরাজয় নিশ্চিত জেনে বিএনপির নির্বাচনী গণসংযোগ ও প্রচরণায় বাধা সূষ্টির উদ্দেশ্যে এসব হামলা করে যাচ্ছে। তাদের হামলায় চকরিয়া পৌরসভার সাবেক মেয়র নুরুল ইসলাম হায়দর মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন। তিনি বলেন, এলাকায় আওয়ামী লীগের ত্রাস সৃষ্টি হামলার বিষয়ে অভিযোগ করা হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। তিনি এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সিরাজগঞ্জ: শুক্রবার রাতে সিরাজগঞ্জ শহরে পুলিশের গুলি ও লাঠিচার্জে জেলা বিএনপির সভাপতি ও সিরাজগঞ্জ-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী রুমানা মাহমুদসহ অন্তত ২০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। এসময় রুমানা মাহমুদের পিটে, পায়ে ও হাতে গুলির স্পিন্টার লাগে।এছাড়া গুলিতে শহর মহিলা দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মেরিনার দুচোখ নষ্ট হয়ে গেছে বলে অভিযোগ করা হয়।

বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, অন্তত ৭ জন পুলিশের রাবার বুলেট ও টিয়ার শেলের আঘাতে আহত হয়েছেন। শহরের কলেজ রোড ও বিএনপি কার্যালয়ের সামনে মাগরিবের নামাজের পর এ ঘটনা ঘটে। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানান, সিরাজগঞ্জ-২ আসনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী রুমানা মাহমুদ সন্ধ্যার পর শহরে গণসংযোগের জন্য জেলা বিএনপি কার্যালয়ে যান। সেখানে আগে থেকে বিএনপি ও অঙ্গদলের হাজারো নেতাকর্মী ও সমর্থক উপস্থিত ছিলেন। ধানের শীষের প্রার্থীসহ নেতাকর্মীরা যখন গণসংযোগে বের হবার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তখন ১০-১২টি মোটর সাইকেলে করে ক্ষমতাসীন দলের কর্মীরা জেলা বিএনপি কার্যালয়ের সামনে মহড়া দেয়। মাগরিবের পর এক পর্যায়ে তারা জেলা বিএনপি কার্যালয়ের সামনে দুইটি ককটেল ছুঁড়ে। এ সময় বিএনপির কর্মী-সমর্থকরা তাদের ধাওয়া দেয়। টুকু জানান, পর মুহুুর্তে সেখানে পুলিশ আসে এবং বিএনপির কর্মী-সমর্থকদের ওপর লাঠিচার্জ শুরু করে। এ সময় বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে পুলিশ। এক পর্যায়ে পুলিশ বিএনপি নেতাকর্মীদের পর ছোবড়া গুলি ছুড়ে।

তবে এবার নির্বাচনী প্রচারণায় পূরুষদের পাশাপাশি নারীদের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটছে উল্লেখযোগ্যভাবে। কক্সবাজারে হাসিনা আহমেদ, সিরাজগঞ্জে রুমানা মাহমুদ, ঢাকায় আফরোজা আব্বাসের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এরা তিনজনই এবারের নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থী। তবে প্রার্থী না হলেও প্রার্থীর স্ত্রী হওয়ার কারণেও হামলার শিকার হয়েছেন একাধিক নারী। এর মধ্যে পটুয়াখালীর-৩ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী গোলাম মাওলা রনির স্ত্রীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় তার গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এছাড়া রনির স্ত্রী এবং বোনের স্বর্ণালংকারও লুট হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন গোলাম মাওলা রনি। তিনি বলেন, গলাচিপা সদরে শনিবার দুপুর দেড়টায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আমার স্ত্রী ও বোনের ওপর হামলা চালায় ও তাদের গাড়ি ভাংচুর করে। অন্যদিকে ঢাকা-১৬ আসনে বিএনপির প্রার্থী আহসান উল্লাহ হাসানের স্ত্রী মিনা হাসান প্রচারণা চালানোর জন্য বের হলে গতকাল বিকেলে তার ওপর ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতাকর্মীরা হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়।

দুপুর ১২টায় ঢাকার সেগুনবাগিচা এলাকায় গণসংযোগ চালানোর সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের ওপর হামলা করা হয়। হামলার পর তিনি নিজের বাসায় ফিরে যান এবং সংবাদ সম্মেলন করেন। মির্জা আব্বাস জানান, আমাদের নিয়মতান্ত্রিক নির্বাচনী প্রচারণার কার্যক্রমে আওয়ামী লীগ এভাবে সহিংস আক্রমণ চালাবে আমি ভাবতেও পারিনি। নির্বাচনী প্রচারণা কার্যক্রমে হামলা চালিয়ে আওয়ামী লীগ আমাদের নেতাকর্মীদের বেধড়ক মারপিট করে আহত করে। অন্যদিকে এই আহত নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তিনি সংবাদ সম্মেলনে আহত নেতাকর্মীদের মাথায়, পিঠে, হাতে ও পায়ে আঘাতের চিহ্ন সাংবাদিকদের দেখান। হামলায় আওয়ামী লীগের ৩০-৪০ জন যুবক অংশ নেয় বলে তিনি জানান। লাঠি-সোটা, লোহার রড, চাপাতি ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে তারা হামলা করলে ধানের শীষের প্রায় ৬০ কর্মী-সমর্থক আহত হন বলে জানান। আহতদের মধ্যে রয়েছেন- আউয়াল, আবুল কালাম, শাহাদাত হোসেন, নূর আলম, মোঃ রানা, জাহানারা বেগম, বিলকিস, মনি, রাশিদা, কফিল উদ্দিন, জাহিদ হোসেন, আলম, আবদুস সালাম, নাদিয়া পাঠান পাপন, মানিক, ইমন, শওকত আলী স্বপন, মিজান, আলীমুদ্দিন প্রমূখ।

মির্জা আব্বাস বলেন, এই হচ্ছে আজকে সারা বাংলাদেশের পরিস্থিতি। সরকার বলছে, বিএনপি শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে থাকবে কি না আসলে আমাদেরকে শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে রাখবে কিনা সেটাই প্রশ্ন। আমরা নির্বাচন করতে পারবো কিনা এ বিষয়ে দেশের জনগণের মাঝে সন্দেহ রয়েছে।

তিনি বলেন, আসলে সরকার কি চায়? বিএনপিকে নির্বাচন করতে আদৌ দেবে কি দেবে না এই বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত স্পষ্ট হওয়া উচিত। তফসিল ঘোষণার সময় সরকার বলেছিল, বিএনপি নেতাকর্মীদের নামে নতুন কোন মামলা হবে না এবং পুরাতন মামলায় গ্রেপ্তার করা হবে না। এই বক্তব্যের সঙ্গে বাস্তবতার কোন মিল নেই। প্রতিদিন নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে, নতুন নতুন গায়েবি মামলা দেয়া হচ্ছে। আমরা নির্বাচনে থাকতে চাই বলেই সরকারের এই আক্রোশ। মির্জা আব্বাস বলেন, আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। পালানোর সুযোগ আমাদের নেই। আজ আমার ওপর হামলা হয়েছে, চার দিন আগে ঢাকা-৯ এ চালানো হয়েছে। কিন্তু হামলা মামলা যতই হোক নির্বাচনের মাঠ আমরা ছাড়বো না।

শুক্রবার প্রচারণায় নেমে বাধা পেয়ে প্রচার স্থগিত রেখে চলে যান ঢাকা-৬ আসনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী সুব্রত চৌধুরী। পরের দিন গতকাল সন্ধ্যায় আবারও রাজধানীর হাটখোলা-টিকাটুলিতে প্রচারণা চালাতে গেলে এবার বাধা নয়, তিনি হামলার শিকার হন বলে অভিযোগ করা হয়।

একই দিন দুপুর ২টায় ভোলার লালমোহন উপজেলার নাঙ্গলখালী এলাকায় বিএনপি ও আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে সাংবাদিকসহ অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। এ সময় দুটি মোটরসাইকেল ও ক্যামেরা ভাঙচুর করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী জানান, নাঙ্গলখালী এলাকায় ভোলা-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদের বাড়ির পাশে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ সময় দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। ফলে দুই পক্ষের অন্তত ৫০ জন আহত হন। পাশেই চ্যানেল আইয়ের একটি টিম লাইভ চলছিল। এ সময় ক্যামেরা ও বিভিন্ন জিনিসপত্র ভাঙচুর করা হয়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে নির্বাচনী প্রচারণায় জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সিরাজুল ইসলামের গাড়ীতে হামলা করেছে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। শনিবার দুপুরে বিজয়নগর উপজেলার চর ইসলামপুর এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। বিএনপির নেতাকর্মীরা জানান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামলের সমর্থনে ধানের শীষের প্রচারণা চালানোর সময় নৌকার স্লোগান নিয়ে একদল যুবক জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সিরাজুল ইসলামের গাড়ীতে অতর্কিত হামলা চালায়। এতে ছাত্রদল নেতা মিলন ও গাড়ীর চালক গুরুতর আহত হন। স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পিছু হটে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা ও আখাউড়া) আসনে বিএনপির প্রার্থী মুসলেম উদ্দিনের নির্বাচনী পরামর্শ সভায় যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে। শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আখাউড়া উপজেলার সদরের দেবগ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এতে আখাউড়া উপজেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি মহসিন ভূইয়া, পৌর যুবদলের সভাপতি জাকির হোসেন, সাধারণ সম্পাদক জাবেদ আহমেদ ও ছাত্রদল নেতা শাখাওয়াত হোসেন। বিএনপি প্রার্থী মুসলেম উদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, সকালে দেবগ্রামে নির্বাচনী পরামর্শ চলাকালে ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতাকর্মীরা লাঠি-সোটা নিয়ে অতর্কিতভাবে হামলা করে। এ সময় বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেল ও অটোরিকশা ভাংচুর করে তারা। হামলার সময় আমাদের নেতাকর্মীরা আহত হন।

শুধু হামলা নয়, একইসাথে ধানের শীষের কর্মী-সমর্থকদের গ্রেফতারও করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রার্থীরা। এমনকি নেতাকে না পেয়ে ছেলেকে তুলে নিয়ে যাওয়ারও ঘটনা ঘটেছে। শনিবার দুপুর ২টার সময় সাবেক এমপি আব্দুল গফুর ভূইয়াকে হাইকোর্ট এলাকা থেকে একটি নম্বর প্লেটবিহীন একটি গাড়ীতে করে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় বলে জানান বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শামসুদ্দীন দিদার। এর আগে গত শুক্রবার গভীর রাতে ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মামুনুর রশীদ মামুনকে মিরপুর মডেল থানা পুলিশ আটক করে। মামুন নোয়াখালীতে ধানের শীষের প্রাথমিক প্রার্থী ছিলেন। একই রাতে নায়ারণগঞ্জ মহানগরের সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামালের ছেলেকে পুলিশ তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়। এটিএম কামাল অভিযোগ করেন পুলিশ তাকে খুজতে তারা বাসায় যায়। তাকে না পেয়ে পরে তার ছেলে নাহিন মুজতাবা সোহানকে তুলে নিয়ে যায়। নাহিন রাজনীতিতে সক্রিয় নয় এবং তার বিরুদ্ধে কোন মামলাও নেই।

চট্টগ্রাম-৯ আসনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ও নগর বিএনপির সভাপতি কারাবন্দী ডা. শাহাদাত হোসেনের পক্ষে গণসংযোগ করার সময় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ১৬ নং চকবাজার ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি সবুক্তগীর সিদ্দিকী মক্কিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। শনিবার বেলা ১২টার দিকে চট্টগ্রাম মহানগরীর চকবাজার থানার কাপাসগোলা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে থেকে চকবাজার থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে বলে জানান মক্কির ছোট ভাই আফজল করিম সিদ্দিকী। তিনি জানান, গ্রেপ্তারের মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যেই তার ভাই মক্কিকে চকবাজার থানায় স¤প্রতি দায়ের করা একটি নাশকতা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অথচ পুলিশের দায়ের করা ওই মিথ্যা মামলায় গত সপ্তাহে উচ্চ আদালত থেকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন নিয়েছেন মক্কি। কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে বিএনপি’র ৮ নেতাকর্মীসহ গত দুইদিনেই ২২ জন নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে।

জানা যায়, চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী-বাকলিয়া) আসনে বিএনপির প্রার্থী কারাবন্দি ডা. শাহাদাত হোসেনের পক্ষে গণসংযোগকালে সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর বিএনপি নেতা সবুক্তগীন সিদ্দিকী মক্কিকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। গতকাল শনিবার নগরীর চকবাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ জানায়, তিনি থানার এজাহারভুক্ত আসামি। এর আগে ডা. শাহাদাত হোসেনের জন্য ভোট চাইতে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন, সামশুল আলম ও সবুক্তগীন সিদ্দিকীসহ বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা। গণসংযোগকালে পেছন দিক থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয় বলে অভিযোগ করেন ডা. শাহাদাতের ব্যক্তিগত সহকারী মারুফ চৌধুরী।

খুলনা: খুলনার ফুলতলা উপজেলার বেজেরডাঙ্গা ইউনিয়ন আ.লীগ কার্যালয়ে বোমা হামলা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। গত শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এতে ইউনিয়ন আ.লীগ সহ-সভাপতি হাজী আশরাফ (৫৫) আহত হন। প্রাথমিক চিকিৎসাশেষে তাকে বাসভবনে রাখা হয়েছে। অপরদিকে ফুলতলার দামোদর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড আ.লীগ কার্যালয়ে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। পৃথক এ দুটি ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। বেজেরডাঙ্গা ইউনিয়ন আ.লীগ সভাপতি আলী আজম মোহন জানান, ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড কেন্দ্র কমিটি গঠন করে ফিরে এসে ৮/১০ জন কার্যালয়ে অবস্থান করছিলেন। এমন সময় বেজেরডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থিত ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে বোমা হামলা হয়েছে। নিক্ষিপ্ত বোমাটি অফিসের পূর্ব পাশের দেওয়ালে লেগে বিস্ফোরিত হয়। বোমার স্প্রিন্টার হাতে লেগে এক আওয়ামী লীগ নেতা আহত হন। তবে তিনি শঙ্কামুক্ত। এ ঘটনার পরপর ফুলতলার দামোদর ইউনিয়নের গাড়াখোলা মুক্তশ্বেরী রেলগেট সংলগ্ন ৪নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে ২০-২৪টি মোটরসাইকেল নিয়ে এসে নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করা হয়।

নোয়াখালী: নোয়াখালী-২ (চাটখিল-সোনাইমুড়ি একাংশ) আসনের সোনাইমুড়ি বাজারে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি মধ্যে সংঘর্ষে ৬ জন আহত হয়েছে। এসময় পরিবহনের বেশ কয়েকটি টিকেট কাউন্টার ও বিএনপি সমর্থকদের দোকান ভাংচুর হয়। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, সকালে আওয়ামী লীগ প্রার্থী এইচ এম ইব্রাহিম ঢাকা থেকে চাষীরহাটে পৌছলে দলীয় নেতাকর্মীরা শোভাযাত্রা সহকারে তাকে তার বাড়িতে নিয়ে যায়। বিকালে বিএনপি প্রার্থী ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকনের সমর্থনে এক বিরাট মিছিল বের হলে আওয়ামী লীগ সমর্থকরা মিছিলে বাধা দেয়। এসময় সোনাইমুড়ি থানা পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হলেও পরে উভয় দলের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া চলে।

কক্সবাজার: কক্সবাজারের বৃহত্তর উপজেলা চকরিয়ার ডুলাহাজারা ইউনিয়নে বিএনপি প্রার্থী অ্যাডভোকেট হাসিনা আহমদের গাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেছে আওয়ামী লীগের একদল সন্ত্রাসী। ওই সময় হামলাকারীরা হাসিনা আহমদকে বহনকারী গাড়িসহ ৩টি গাড়ি, ৪টি মোটর সাইকেল ভাংচুর ও ২টি মোটর সাইকেল ছিনিয়ে নেয়। এই ঘটনায় শতাধিক বিএনপি নেতা-কর্মী ও সমর্থক আহত হয়েছেন।
তবে সংসদ সদস্য প্রার্থী হাসিনা আহমদকে এলাকাবাসী নিরাপদে সরিয়ে নিয়েছেন। ঘটনার পর কক্সবাজার জেলা বিএনপি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এডভোকেট হাসিনা আহমদ দাবি করেছেন, তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে এই হামলা চালানো হয়েছে। স্থানীয় লোকজন ও মহিলারা তাঁকে উদ্ধার না করলে যে কোন ঘটনা ঘটতে পারতো।
তিনি জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা, পুলিশ সুপার ও চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে এই ঘটনার লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ডুলাহাজারা ইউনিয়নের কাটাখালী ব্রীজের কাছে এই হামলার ঘটনা ঘটনা ঘটে।

হাসিনা আহমদ জানান, ওই ঘটনার অভিযোগ নিয়ে চকরিয়া থানায় গেলে আওয়ামী লীগ প্রার্থী জাফর আলমের নেতৃত্বে থানা কম্পাউন্ডের বাইরে তার নেতাকর্মীদের উপর আরেকদফা হামলা চালানো হয়। ওই সময় তিনিও থানা কম্পাউন্ডে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। প্রায় দুই ঘন্টা পর পুলিশের সহায়তায় তিনি বাড়ি ফিরে যান।

চাঁদপুর: চাঁদপুর-২ (মতলব) আসনে বিএনপির প্রার্থী ড. জালাল উদ্দিনের গণসংযোগে হামলা করেছে দুর্বৃত্তরা। এতে ড. জালাল উদ্দিনসহ প্রায় ২০ নেতাকর্মী আহত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ১৭ রাউন্ড শর্টগানের গুলি নিক্ষেপ করে। আহতদের মধ্যে আমিন, মাহবুব, জহির ও আশরাফুলের অবস্থা আশঙ্কাজনক। গতকাল শনিবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, শনিবার বেলা ১২টার সময় বিএনপির প্রার্থী ড. জালাল উদ্দিন তার নির্বাচনী এলাকায় গণসংযোগে আসেন। এ সময় কয়েক হাজার নেতাকর্মী ও সমর্থক মতলব রোডের শম্বু খার ব্রিজ এলাকায় জড়ো হয়। অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি এড়াতে সেখানে পূর্ব থেকেই মতলব সার্কেল (সহকারি পুলিশ সুপার) রাজন কুমার দাস ও মতলব থানার ওসি হোসেনের নেতৃত্বে বিপুল সংখ্যক পুলিশ উপস্থিত ছিলো। পরে বিএনপির প্রার্থী ড. জালাল উদ্দিন নেতাকর্মীদের নিয়ে তার নিজ বাড়ি সুলতানাবাদ ইউনিয়নের গোরাইকান্দি গ্রামে যায়।

নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জ নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগ নারায়ণগঞ্জের ৩ থানায় ২৩০ জনের বিরুদ্ধে ৪টি মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। এর মধ্যে ফতুল্লা মডেল থানায় দু’টি এবং সদর ও বন্দর থানায় একটি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক দ্রব্য আইন ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে আভিযোগ আনা হয়েছে। এসব মামলায় বিএনপির অনেক শীর্ষ নেতাদের পলাতক আসামি হিসেবে দেখানো হয়েছে। নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে নারায়ণগঞ্জের ৩টি থানা এলাকা থেকে গত শুক্রবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ১৭২ জনকে আটক করা হয়েছিল। যাচাই বাছাই করে ৬৯ জনকে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ। আর গ্রেফতার ১০৩ জনকে ওই ৪টি মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আসামী করা হয়। ৪টি মামলায় পলাতক দেখানো হয়েছে ১২৭ জনকে। এদিকে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি’র নেতৃবৃন্দ দাবি করেছেন মামলা গুলো কাল্পনিক এবং গায়েবি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন স্থানে বিএনপির নেতাকর্মীদের উপর হামলা হয়েছে। এসময় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। ভাঙচুর করা হয় কয়েকটি মোটরসাইকেল ও মাইক্রোবাস এবং সিএনজি চালিত অটোরিক্সা। ঘটনার জন্য বিএনপি ছাত্রলীগকে দায়ী করেছে। তবে ছাত্রলীগ দাবি করেছে বিএনপির দলীয় কোন্দলের জন্যই এ ঘটনা ঘটনা ঘটেছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা ও আখাউড়া) আসনে বিএনপির প্রার্থী মুসলিম উদ্দিনের নির্বাচনী পরামর্শ সভায় যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শনিবার আখাউড়া উপজেলা সদরের দেবগ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এদিকে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর ও বিজয়নগর) আসনে বিএনপি প্রার্থী ইঞ্জি: খালেদ হোসেন মাহাবুব শ্যামলের পক্ষে গণসংযোগের সময় প্রচারণার গাড়িতে হামলা ও ভাংচুর করেছে প্রতিপক্ষের লোকজন। শনিবার দুপুরে বিজয়নগর উপজেলার চর ইসলামপুর এলাকায় ধানের শীষের সমর্থনে প্রার্থীর স্ত্রী দলীয় নেতাকর্মী নিয়ে গণসংযোগ করতে যায়।

মাদারীপুর: মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার কদমবাড়ী এলাকায় বিএনপির প্রার্থী মিল্টন বৈদ্যর নির্বাচনী প্রচারনায় হামলার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, মাদারীপুর-২ নির্বাচনীর এলাকায় বিএনপির প্রার্থী মিল্টন বৈদ্য শুক্রবার সন্ধায় রাজৈর উপজেলার কদমবাড়ী এলাকায় নির্বাচনী প্রচারনা শুরু করলে বাধা প্রদান করে দুর্বৃত্তরা। এসময় বাধা উপেক্ষা করে প্রচারণা চালালে হামলা চালায়। এতে কমপক্ষে ৫জন আহত হয়েছে।

শেরপুর: উপজেলা সংবাদদাতা জানান, শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার একেএম ফজলুল হক চাঁনের নৌকা প্রতীকের ৪টি নির্বাচনী অফিসে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। গত শুক্রবার রাতে এ ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ ব্যাপারে ঝিনাইগাতী থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। মামলায় বিপ্লব ও শহীদুল নামে ২ বিএনপি কর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। জানা যায়, শুক্রবার রাত ১০টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে ঝিনাইগাতী উপজেলা সদরে যুবলীগ কার্যালয়, রাংটিয়া, তিনানী, বনগাঁও ও ধানশাইল বাজারের ৪টি নৌকা প্রতীকের নির্বাচনী প্রচার অফিসে একযোগে এ ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। ওই সময় দলীয় নেতাকর্মীরা আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পরে। ঘটনার পরপরই আওয়ামী লীগ ও যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা উপজেলা সদর বাজারে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। এছাড়াও গতকাল শনিবার সন্ধ্যা ৬টায় যুবলীগ অফিসে এক প্রতিবাদ সভা ও মিছিলের আয়োজন করে। ককটেল বিস্ফোরণের বিষয়ে বিএনপি দলীয় নেতা-কর্মীদেরকে দায়ী করা হচ্ছে বলে জানা যায়।

গাজীপুর: গাজীপুর-৪, কাপাসিয়া আসনে ২৩ দলীয় জোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মনোনীত প্রার্থী শাহ্ রিয়াজুল হান্নানের উপর স্থানীয় আড়াল বাজারে আওয়ামী যুবলীগের ৩ দফা হামলার পর গত শুক্রবার রাতে ওই এলাকায় নির্বাচনী অফিস ব্যাপক ভাবে ভাঙচুর এবং পোস্টার ছিড়ে আগুন লাগিয়ে দেয়া হয়েছে। এছাড়া উপজেলার কড়িহাতা ইউনিয়নের বেগুন হাটি এলাকায় একটি গায়েবি ঘটনা দেখিয়ে মামলা দায়ের করেছে। এ মামলায় কেন্দ্রীয় ওলামা দলের নেতা শ্রীপুরের পীরজাদা রুহুল আমীন এবং দূর্গাপুরের ফুলবাড়িয়ায় দায়ের করা মামলায় দেইলগাঁও গ্রামের বিএনপি কর্মী আতর আলী কে গ্রেফতার করেছে। এ নিয়ে গত দুই দিনে ৩ মামলায় নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত বিএনপির ৩শ’ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে বিএনপি দলীয় নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন।

চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামের পটিয়ায় বিএনপির ১৩ নেতাকর্মীকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। গত শুক্রবার রাতে উপজেলার জিরি, কোলাগাঁও ও হাবিলাসদ্বীপ এলাকা থেকে পুলিশ এসব নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেন। তবে বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী এনামুল হক এনামের অভিযোগ যেসব এলাকায় দলীয় নেতাকর্মী নিয়ে তিনি গণসংযোগ করছেন সেখানেই পুলিশ রাতে অভিযান চালিয়ে নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করছে। পুলিশের সৃষ্টি গায়েবি মামলায় তাদের গ্রেফতার করা হয়। যা নির্বাচনের সুষ্ঠ পরিবেশকে নষ্ট করার পাঁয়তারা।

Comments

comments