লতিফ সিদ্দিকীর গাড়ীবহরে হামলা

টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত নেতা সাবেক মন্ত্রী ও আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীর গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। বহরের চারটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে এবং অন্তত ২০ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে লতিফ সিদ্দিকী অভিযোগ করেছেন।

রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কালিহাতী উপজেলার গোহালিয়াবাড়ি ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার প্রতিবাদে লতিফ সিদ্দিকী টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে অবস্থান ধর্মঘটে বসেছেন। বেলা সোয়া ২টা থেকে তিনি এই অবস্থান ধর্মঘট শুরু করেন।

সেখানে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আমি আজ সকালে কালিহাতী উপজেলার গোহালিয়াবাড়ি ইউনিয়নে আমার নির্বাচনী কাজে যাই। প্রথমত সরাতৈল ও বল্লভবাড়ির মাঝামাঝি এলাকায় আমাদের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। পরে আমরা নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী বল্লভবাড়িতে মহির উদ্দিন তালুকদারের বাড়িতে যাই। সেখানে গোহালিয়াবাড়ি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মহির উদ্দিন তালুকদারের সাথে কথা বলার সময় আমাদের ওপর আবার হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা লাঠিসোটা দিয়ে ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে অন্তত চারটি গাড়ি ভাঙচুর করে। এতে আহত হন অন্তত ২০ জন নেতাকর্মী। এই হামলায় নেতৃত্ব দেন গোহালিয়াবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান হযরত আলী তালুকদার।

লতিফ সিদ্দিকী অভিযোগ করে বলেন, হযরত আলী তালুকদার স্থানীয় এমপির (হাছান ইমাম খান সোহেল হাজারী) চেলা। গোহালিয়াবাড়িতে হযরত আলীর একটি বালুমহাল আছে। সে লুটপাট করে বালু তোলে। মানুষ সেটা পছন্দ করে না এবং বাধা দেয়। সরকারি কর্মকর্তারাও বাধা দিয়েছেন; কিন্তু তারপরও সংসদ সদস্যের সহযোগিতায় সে এটা করে যাচ্ছে। আমি বিজয়ী হলে ওইখানে তার ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে। এ কারণেই সে তার লোকজন নিয়ে আমাদের ওপর হামলা করেছে। আমি হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। সেইসাথে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছ থেকে শান্তিপূর্ণ পরিবেশের নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত আমি এখানে অবস্থান ধর্মঘট চালিয়ে যাব। আমি প্রতিকার না পাওয়া পর্যন্ত এখানে থাকব। প্রয়োজনে মারা যাব।

লতিফ সিদ্দিকী বলেন, আমি ইলেকশন করতে আসছি এটা আমার গণতান্ত্রিক অধিকার। জনগণ যে রায় দেবে আমি সেই রায় মেনে নেব। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন নির্বাচনে সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় থাকবে। এখন দেখছি পরিস্থিতি খুবই ভয়াবহ। আমি কোন গোলযোগ চাই না। আমি শান্তিপূর্ণ পরিবেশ চাই।

এর আগেও তিনবার তার নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে এবং এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েও কোন প্রতিকার পাননি বলে তিনি জানান। অবস্থান ধর্মঘটে লতিফ সিদ্দিকীর সাথে কালিহাতীর বাংড়া ইউপি চেয়ারম্যান হাসমত আলীসহ তার বেশকিছু নেতাকর্মী রয়েছেন। বিকেল ৪টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত লতিফ সিদ্দিকী অবস্থান ধর্মঘটে ছিলেন। ততক্ষণ পর্যন্ত জেলা প্রশাসক শহীদুল ইসলাম তার কার্যালয়ে আসেননি।

Comments

comments