১৮ ডিসেম্বরের মধ্যে সেনাবাহিনী মোতায়েন করুন: ঐক্যফ্রন্ট

ঢাকা: জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন বলেছেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রতীক বরাদ্দ হওয়ার পর সারাদেশে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীরা প্রচার-প্রচারণায় নানাবিধ বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন। এ অবস্থায় মাঠপর্যায়ে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে মঙ্গলবারের (১৮ ডিসেম্বর) মধ্যেই সেনাবাহিনীকে মাঠে নামানোর দাবি জানিয়েছে ঐক্যফ্রন্ট।

রোববার (১৬ ডিসেম্বর) বিকেলে রাজধানীর পুরানা পল্টনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে ড. কামাল হোসেন এ দাবি জানান।

তিনি পুলিশের সমালোচনা করে বলেন, সরকারের আজ্ঞাবহ হয়ে পুলিশ ধানের শীষের প্রার্থীদের বাধা দিচ্ছে, পুলিশ কর্মকর্তারা প্রার্থী, কর্মী ও সমর্থকদের হুমকি দিচ্ছে। সরকারি দলের সন্ত্রাসী বাহিনী গুলি করছে, বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি দিচ্ছে, গায়েবি মামলায় গ্রেফতার দেখানো হচ্ছে। নির্বাচনী অফিস ভাঙচুর করা হচ্ছে এবং প্রচারের মাইক ভাঙচুর ও জব্দ করা হচ্ছে। সামগ্রিকভাবে এই নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করে ভোটই বন্ধের পথ খুঁজছে ক্ষমতাসীনরা।

ড. কামাল বলেন, আপনারা লক্ষ্য করছেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহরে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধের আঙিনায় ‘আওয়ামী সশস্ত্র ক্যাডার বাহিনী হামলা করলেও’ প্রশাসন পুরোপুরি নিশ্চুপ এবং আজ পর্যন্ত কোনো আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়নি। এতে প্রতীয়মান হয় যে, সরকার, নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসন একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানে আন্তরিক নয়। এ অবস্থায় মাঠপর্যায়ে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে ১৮ ডিসেম্বরের মধ্যে সেনাবাহিনীকে মাঠে নামানোর দাবি জানাচ্ছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।

সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের (ইসি) পক্ষ থেকে জানানো হয়, নির্বাচন ঘিরে আগামী ২৪ ডিসেম্বর মাঠে নামবে সশস্ত্র বাহিনী। তারা স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে ২ জানুয়ারি পর্যন্ত মাঠে থাকবে।

সংবাদ সম্মেলনে শনিবারে দেশব্যাপী ফ্রন্টের প্রার্থীদের ওপর হামলা ও গ্রেফতারের চিত্র তুলে ধরা হয়। দাবি করা হয়, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আহসান উল্লাহর স্ত্রী রিনা হাসানকে আটক করা হয়েছে; ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমেদের গাড়িবহরে আওয়ামী লীগের লোকেরা হামলা করেছে; চাঁদপুর-২ আসনের প্রার্থী ডা. জালাল তার প্রয়াত বাবা-মার কবর জিয়ারতে গেলে যুবলীগের অতর্কিত হামলার শিকার হন, এতে জহির নামে এক কর্মীর মাথা ফেটে যায়; মিরপুর থেকে ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি মামুনুর রশিদ মামুনকে পুলিশ আটক করেছে; সাতক্ষীরা পৌর বিএনপির প্রচারণায় হামলা করে ৮০ বছর বয়স্ক এক শিক্ষকসহ বহু কর্মীকে পিটিয়ে আহত করেছে আওয়ামী বাহিনী; কুমিল্লার মেঘনা উপজেলা বিএনপির সভাপতি রমিজ উদ্দিন লন্ডনীকে কুপিয়ে আহত করেছে আওয়ামী বাহিনী; সিরাজগঞ্জে পুলিশের গুলিতে বিএনপি প্রার্থী রুমানা মাহমুদসহ ২০ কর্মী আহত হয়েছেন; পটুয়াখালী-৩ আসনের প্রার্থী গোলাম মাওলা রনির স্ত্রীর ওপর নগ্ন হামলা চালিয়েছে আওয়ামী বাহিনী।

রোববারই নরসিংদীর পাচদোনায় ধানের শীষের প্রার্থী ড. আবদুল মঈন খানের নির্বাচনী মিছিলে হামলার কথা জানিয়ে ৩০০ আসনেই হামলা-মামলা ও নির্যাতন অব্যাহত রয়েছে বলে দাবি করা হয় সংবাদ সম্মেলনে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ঐক্যফ্রন্ট নেতা জেএসডি সভাপতি আসম আব্দুর রব, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসীন মন্টু, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু, যুগ্ম-মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল প্রমুখ।

Comments

comments