সাতক্ষীরা-৪ : একের পর এক হামলা

নির্বাচনী প্রচারণার শুরু হওয়ার পর থেকে সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর-কালিগঞ্জ আংশিক) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য এসএম জগলুল হায়দারের কর্মী সমর্থকরা প্রতিপক্ষের নির্বাচনের পোস্টার কেড়ে নেয়া, প্রচার মাইক ভাংচুর, কর্মী সমর্থকদের উপর হামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে বলে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের পক্ষ থেকে অভিযোগ উঠেছে।

বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, ১০ ডিসেম্বর প্রতীক বরাদ্ধের পর রাতে শ্যামনগরের দু’টি ছাপাখানা থেকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট সমর্থিত ধানের শীষের প্রার্থী সাবেক সাংসদ গাজী নজরুল ইসলামের নির্বাচনের প্রায় ২০ হাজার পোস্টার ছিনিয়ে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। এরপর গত ১১ ডিসেম্বর কালিগঞ্জে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল প্রাঙ্গনে বিকল্পধারার প্রার্থী সাবেক সাংসদ এইচএম গোলাম রেজার নির্বাচনী র‌্যালিতে হামলা চালানো হয়। ১২ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় ভেঙে ফেলা হয় ধানের শীষের প্রার্থীর প্রচার মাইক।

১৪ ডিসেম্বর বিকেলে শ্যামনগরের ভেটখালী ও পাতড়াখোলায় নির্বাচনী গণসংযোগকালে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত হন বিকল্পধারার প্রার্থীর দুই কর্মী। একই দিনে শ্যামনগরে ভেঙে ফেলা হয় বিকল্পধারা প্রার্থীর প্রচার মাইক, পিটিয়ে আহত করা হয় প্রচার কর্মীকে। এসব হামলার অভিযোগের তীর ওঠে নৌকার প্রার্থীর দিকে।

বিকল্পধারার কুলা প্রতীকের প্রার্থী এইচএম গোলাম রেজা’র প্রতিনিধি আবু ইছা গণমাধ্যম কর্মীদের জানান, শুক্রবার সুন্দরবন ঘেষা শ্যামনগর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগের উদ্দেশ্যে বের হন এইচএম রেজা ও তার কর্মীসমর্থকবৃন্দ। সন্ধ্যার দিকে তারা শ্যামনগরের ভেটখালী ব্রীজের উপর পৌছালে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত হন নওয়াবেঁকী গ্রামের মৃত শামসুল হকের ছেলে শাহাদাৎ হোসেন (৬৫)। পরবর্তীতে রমজাননগরের পাতড়াখোলা নামক স্থানে পৌছালে আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল হক মোল্যার নেতৃত্বে দুর্বৃত্তদের হামলায় আহত হন শ্রীফলকাঠি গ্রামের আবু তালেবের ছেলে রেজা (২৭)।

এদিন বিকেলে শ্যামনগর উপজেলা সদরে প্রচারকালে দুর্বৃত্তদের হামলায় আহত হন প্রচারকর্মী শ্যামনগর সদরের মৃত আব্দুর রহিমের ছেলে শেখ আব্দুস সাত্তার (৩৫)। পৃথক হামলায় আহত তিন কর্মীকে কালিগঞ্জ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শনিবার তাদেরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রস্তুতি নেন এইচএম গোলাম রেজা। এজন্য ভাড়া করা হয় এয়ার অ্যাম্বুলেন্স; কিন্তু ভাড়াকৃত এয়ার অ্যাম্বুলেন্স অবতরণের কিছুক্ষণ পূর্বে কালিগঞ্জ থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক আজিম ঘটনাস্থলে গিয়ে থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাজিব হোসেনের নির্দেশনা অনুযায়ী সেটি অবতরণ না করানোর নির্দেশ দেন। এসময় আহত তিন রোগীকেও দ্রুত সরিয়ে নিতে নির্দেশ দেন ওই উপ-পরিদর্শক। আহত কর্মীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরণকালে বাধা দেয়ায় বিকল্পধারার প্রার্থী ও কর্মী সমর্থকদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বাধ্য হয়ে আহত তিন রোগীকে অ্যাম্বুলেন্সে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আবু ইছা।

এদিকে সাতক্ষীরা-৩ আসনে (কালিগঞ্জ আংশিক, দেবহাটা ও আশাশুনি) ধানের শীষের প্রার্থী ডা. শহিদুল আলম এর প্রচার মাইক ভাংচুর, প্রচারকর্মী ও কর্মী সমর্থকদের মারপিটের পাশাপাশি পুলিশের হয়রানি ও গ্রেফতারের অভিযোগ উঠেছে। এসব বিষয় তুলে ধরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে সংবাদ করেছেন ডা. শহিদুল আলম। এব্যাপারে প্রতিকার চেয়ে রিটার্নিং অফিসারের কাছেও লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি।

Comments

comments