জামায়াত যেসব আসনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছে…(দ্বিতীয় কিস্তি)

সাত.
গাইবান্দাঃ ০১
গাইবান্দার সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গাইবান্দা-০১ সংসদীয় আসন। এই আসনে বর্তমানে মোট ভোটার ৩,৩৯,১৪৬ জন। জামায়াতের প্রার্থী এখানে মাজেদুর রহমান।

২০০৮ সালে এই আসনে জামায়াত প্রার্থী এএসএম আব্দুল আজিজ মিয়া বেশ বড়ো ব্যবধানে জাতীয় পার্টির আব্দুর কাদের খানের কাছে পরাজিত হোন। জাতীয় পার্টি প্রার্থী পান ১,৬০,০০৮ ভোট এবং জামায়াত প্রার্থী পান ৭২,০৯৩ ভোট।

তবে ২০০১ সালের নির্বাচনে এই আসনে জামায়াত প্রার্থী এএসএম আব্দুল আজিজ মিয়া জাতীয় পার্টির প্রার্থী ওয়াহেদুজ্জামান সরকারকে ১৮৪৩০ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন।

২০১৪ সালের উপজেলা নির্বাচনে জামায়াত প্রার্থী মাজেদুর রহমান ৬২৭৭৯ ভোট পেয়ে জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগ উভয় দলের প্রার্থীকে পরাজিত করেন। এখানে উল্লেখকযোগ্য তথ্য হচ্ছে তিনি উপজেলা নির্বাচনে মোট প্রদত্ত ভোটের (১,৪৬,১০১) মধ্যে ৪৮.২১% ভোট পেয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হোন।

২০১৩ সালের সুন্দরগঞ্জ পৌরসভার নির্বাচনে মেয়র পদে নির্বাচিত হয়েছিলেন জামায়াত প্রার্থী নুরুন্নবী প্রামাণিক সাজ। কিন্তু ২ বছর পর

স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয় ন্যাক্কারজনকভাবে তাকে বরখাস্ত করে পুনরায় নির্বাচন করে আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে জয়ী করে আনে।

এই আসনে বর্তমানে জামায়াত অত্যন্ত শক্তিশালী সাংগঠনিক কাঠামোর উপর দাঁড়িয়ে আছে।

আট.
সিরাজগঞ্জ-০৪
সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া উপজেলা নিয়ে গঠিত এই সংসদীয় আসনে জামায়াত প্রার্থী ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি এবং জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান। এই আসনে মোট ভোটার ৩,৯১,৩১৪ জন।

২০০৮ সালে এই আসনে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জামায়াত তিন দলই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। আওয়ামী লীগ প্রার্থী শফিকুল ইসলাম ১,৬২,৫০৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হোন। বিএনপি প্রার্থী আকবর আলী ধানের শীষ প্রতীকে পান ৩২, ৭০২ ভোট এবং জামায়াত প্রার্থী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান ৯৭,৪৬৩ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হোন।

এই আসনে কেন্দ্রীয় নেতা হিসেবে রফিকুল ইসলাম খান এবার ২০ দলের প্রার্থী হয়েছেন এবং জামায়াতের শক্তিশালী ভিত্তি থাকায় খুব ভালো ফলাফল হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

নয়.
পাবনা-০৫
পাবনা সদর উপজেলা নিয়ে এই সংসদীয় আসনে প্রার্থী জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যক্ষ ইকবাল হুসাইন। এই আসনে মোট ভোটার ৪,৩৫,৮৮৫ জন।

মাওলানা আব্দুস সোবহানের আসন খ্যাত এই এলাকা জামায়াতের দূর্গ বলে পরিচিত। ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার থেকে পার্লামেন্ট মেম্বার হয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন গণমানুষের নেতা মাওলানা আব্দুস সোবহান। বর্তমানে তিনি ৯১ বছর বয়সে কারাগারে বন্দী।

২০০৮ সালের নির্বাচনে মাওলানা আব্দুস সোবহান ১,৪১,৬৬৩ ভোট পেয়ে আওয়ামী লীগ প্রার্থী গোলাম ফারুক খন্দকার প্রিন্সের (১,৬১,৪১৩) কাছে মাত্র ১৯৭৫০ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছিলেন।

২০০১ সালের নির্বাচনে এই আসনে মাওলানা আব্দুস সোবহান ১,৪২,৮৮৪ ভোট পেয়ে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ওয়াজি উদ্দিন খান (১,০৩,৪৯৯) কে ৩৯,৩৮৫ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন।

১৯৯১ সালেও জামায়াত প্রার্থী মাওলানা আব্দুস সোবহান আওয়ামী লীগ প্রার্থী রফিকুল ইসলাম বকুলকে ২৮ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরজিত করেন।

দশ.
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-০৩
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত এই সংসদীয় আসনে জামায়াতের একক প্রার্থী নূরুল ইসলাম বুলবুল। তিনি ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি এবং জামায়াতের নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর।

চাঁপাই সদরসহ পুরো চাঁপাইনবাবগঞ্জ জামায়াতে ইসলামীর ঘাঁটি বলে খ্যাত। ১৯৯১ সালে এই আসনে জামায়াত প্রার্থী লতিফুর রহমান দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে হারিয়ে বিজয়ী হোন। ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে সামান্য ব্যবধানে বিএনপি প্রার্থী হারুনুর রশীদের কাছে পরাজিত হোন এবং ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ প্রার্থী আব্দুল অদুদের কাছে পরাজিত হোন।

চাঁপাই নবাবগঞ্জ পৌর মেয়র হিসেবে বিএনপি ও আওয়ামী লীগকে হারিয়ে বিজয়ী হোন তৎকালীন জামায়াত নেতা আতাউর রহমান। বর্তমান চাঁপাই পৌর মেয়র জামায়াতের তৎকালীন জেলা আমির এবং বর্তমান কেন্দ্রীয় নেতা অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম। তিনি বিএনপি ও আওয়ামী লীগ উভয় প্রার্থীকে পরাজিত করে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন।

২০১৪ সালের চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাচনে জামায়াত উপজেলা চেয়ারম্যান, ভাইস-চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যন ৩ পদেই ফুল প্যানেলে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়। এখানেও আওয়ামীল-বিএনপি উভয়কে পরাজিত করে বিজয়ী হয়।

আগামী সংসদ নির্বাচনে এখানে জামায়াত এককভাবে লড়াই করছে। বিএনপি প্রার্থী কেন্দ্রীয় যুগ্ন-মহাসচিব হারুনুর রশিদ।

Comments

comments