সাতক্ষীরায় গণবিস্ফোরণ ঠেকাতে প্রচারণায় বাধা ও গণগ্রেফতার চলছেই

সাতক্ষীরা: সাতক্ষীরায় গণবিষ্ফোরণ ঠেকাতে ধানের শীষের নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা ও গণগ্রেফতার থেমে নেই। গত ৪৮ ঘণ্টায় বিএনপি জামায়াতের ১০৩ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শতাধিক স্থান থেকে ধানের শীষের পোস্টার তুলে ফেলাসহ একাধিক নির্বাচনী  প্রচারণার মাইক ভাঙচুর করেছে ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।

বুধবার সন্ধ্যা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত সাতক্ষীরা জেলার ৮টি থানার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে বিএনপির আশাশুনি উপজেলা সেক্রেটারি রুহুল কুদ্দুসসহ ৪৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত  ৫৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

সাতক্ষীরা সদর থেকে ২৫ জন, কলারোয়া ১৩ জন, তালা থানায় ১২ জন, কালিগঞ্জ ১৪ জন, আশাশুনি থেকে ১৭ জন, দেবহাটা ৫ জন ও পাটকেলঘাটা  ৭ এবং শ্যামনগর উপজেলা থেকে ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

অন্যদিকে সাতক্ষীরা সদর, কলারোয়া, আশাশুনি ও শ্যামনগরে ধানের শীষের প্রচারণার সময় ৮টি প্রচার মাইক ভাংচুর করেছে আওয়ামী লীগ নেতা কর্মীরা। এর মধ্যে সাতক্ষীরা সদরে ১টি, কলারোয়াতে ২টি, আশাশুনিতে ২টি ও শ্যামনগরে ৩টি প্রচার মাইক ভাংচুর করা হয়েছে বলে জানা যায়।

এ বিষয়ে সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের আমীর মুফতি রবিউল বাশার জানান, তাদের প্রচার মাইক-ইজিবাইক ভাংচুর, ইজিবাইকের চালককে মারপিট এবং পোস্টার ছিড়ে আগুন দিয়েছে ক্ষমতাসীনরা। কোথাও তাদের সভা সমাবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না। এমনকি পুলিশও দ্বিমুখী আচরণ করছে। জেলা রিটার্নিং অফিসারকে জানানোর পরও তারা প্রতিকার পাচ্ছেন না ।

সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) আসনের ২০ দলীয় জোটের প্রার্থী হাবিবুল ইসলাম হাবিব অভিযোগ করেন, ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা তালা-কলারোয়ার বিভিন্ন স্থান থেকে পুলিশের সহযোগীতায় ধানের শীষের পোস্টার তুলে ফেলছে ও প্রচার মাইকে ভাংচুর করছে।

আচরণ বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ করে সাতক্ষীরা-৩ আসনের ২০ দলীয় জোট প্রার্থী ডা: শহিদুল আলম বলেন, উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে তার নির্বাচনী নেতাকর্মীদের পুলিশ অব্যাহতভাবে আটক করছে। প্রচার মাইক ভাংচুর করছে। নেতাকর্মীদের বার বার হুমকি দেয়া হচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে বিএনপি জামায়াতের নেতাকর্মীদের মারপিট করা হচ্ছে।

শ্যামনগর ৪ আসনের ২০ দলীয় জোটের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী গাজী নজরুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তো দূরের কথা তারা নির্বাচনী মাঠে নামতে পারছে না। পুলিশ ও সরকার দলীয় বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা তাদের উপর হামলা করছে। ৩জন একত্র হলেই পুলিশ নির্বাচন নাশকতার গন্ধ পাচ্ছে। এমনকি কোন জায়গায় অস্ত্র ও বিষ্ফোরক আইনে তাদের নেতাকর্মীদের নামে অন্যায় ভাবে মামলাও দিচ্ছে পুলিশ।

স্থানীয়রা বলছেন, যারা ধানের শীষের প্রচারণার কাজ করছে তাদেরকে তালিকা করে রাতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে গ্রেফতার করছে পুলিশ। অন্যদিকে ধানের শীষের পক্ষে যারা ভোট চাচ্ছে তাদেরকে মারপিট ও বিভিন্ন হুমকি -ধামকি দিচ্ছে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। ফলে এখানো পর্যন্ত জেলার কোথাও ধানের শীষের নির্বাচনী প্রচারণার দেখা মিলছে না।

সাতক্ষীরা শহরের বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষের সাথে কথা বলে জানা যায়, বেশিরভাগ মানুষই স্থানীয় সরকার দলীয় এমপি ও পুলিশ প্রশাসনের প্রতি ক্ষুব্ধ। তারা বলছেন, এলাকাতে ধানের শীষের প্রচারে বাধা দিলেও ভোটের দিনে মানুষ নীরব বিপ্লব করবে। জেলাতে ধানের শীষের প্রচার চোখে না পড়লেও বাস্তবতা ভিন্ন বলে দাবী করছেন দলটির নেতাকর্মীরা।

সরকার সমর্থিত একজন প্রতিনিধির সাথে কথা বলে জানা যায়, নৌকার পক্ষে কাজ করতে সরকার দলীয় এমপির পক্ষে ইউনিয়ন চেয়ারম্যানদের ব্যাপক চাপ দেয়া হচ্ছে। এমনকি নৌকার পক্ষে কাজ না করলে আগামীতে দেখে নেয়ার হুমকিও দিচ্ছে বলে জানান তিনি।

সাতক্ষীরা শহরে ভ্যানচালক সেলিম বলেন, সাধারন ভ্যানচালকরা পুলিশের কাছে সবসময় হয়রানির শিকার হন। যদি ভোট দিতে পারি তাহলে এর জবাব দিতে পারবো।

ভোমরা এলাকার সবজি বিক্রেতা এলাহি বকশ জানান, বাজারে সবজির দাম নেই। ঝালের দাম ১০ থেকে ১৫ টাকা কেজি। ফসল উৎপাদনে যে খরচ হয়েছে বিক্রি করে তাতে অনেক লোকসান হবে। ফলে আগামী নির্বাচনে কৃষক ও সবজি উৎপাদকরা তাদের ক্ষতি উত্তরণে পছন্দের প্রার্থীকে বাছাই করবে।

সাতক্ষীরা সদরের এল্লারচর এলাকার কৃষক আব্দুর রহমান। তার অভিযোগ, নির্বাচনেরে কারণে সরকার ধান চালের দাম কমিয়ে দিয়েছে। ধান কেনার লোক নেই। এমনকি ধান কাটতে যে খরচ হয়েছে সে টাকাও ধান বিক্রি করে তারা পাচ্ছেন না। ফলে সাধারণ কৃষকরা চরম উদ্বিগ্ন। নিরপেক্ষ ভোট হলে তারা এর জবাব দিবে বলেও জানান তিনি।

শহরের মিয়াসাহেবের ডাঙ্গা এলাকা জামায়াতের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। মিয়াসাহেব ডাঙ্গার বিভিন্ন সড়কে ঝুলতে দেখা যাচ্ছে ধানের শীষের পোষ্টার। স্থানীয়দের অভিযোগ, আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরা বিভিন্ন সময় হুমকি দিচ্ছে পোস্টার খুলে ফেলার জন্য। পুলিশের পক্ষ থেকেও বিভিন্ন সময় চাপ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা।

Comments

comments