জামায়াত যেসব আসনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছে… (প্রথম কিস্তি)

এক.
ঠাকুরগাঁও-২ঃ
এই আসনে জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা আবদুল হাকিম। বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা, হরিপুর উপজেলা এবং রানিসংকাইল উপজেলার ধর্মগড় ও কাশিপুর ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এই সংসদীয় আসন।

২০০৮ সালের নির্বাচনে মাওলানা আবদুল হাকিম ৯৮,৪৫৬ ভোট পেয়ে মাত্র ৪,৩৭৭ ভোটে পরাজিত হোন। বিজয়ী আওয়ামী লীগের দবিরুল ইসলাম পেয়েছিলেন ১,০২,৮৩৩ ভোট।

২০০১ সালের নির্বাচনে এই আসনে জামায়াতের মাওলানা আবদুল হাকিম পেয়েছিলেন ৫৭,১৯৬ ভোট এবং বিজয়ী আওয়ামী লীগের দবিরুল ইসলাম পেয়েছিলেন ৬২,৪৮৩ ভোট। জামায়াত মাত্র ৫২৮৭ ভোটে পরাজিত হয়।

দুই.
দিনাজপুর-১
বীরগঞ্জ ও কাহারোল উপজেলা নিয়ে গঠিত এই সংসদীয় আসনে জামায়াত প্রার্থী মাওলানা মোহাম্মদ হানিফ বর্তমানে বীরগঞ্জ পৌরসভার নির্বাচিত মেয়র। এই আসনে এবার মোট ভোটার ৩,৪৪,০৪৩ জন।

২০০৮ সালের নির্বাচনে মাওলানা মোহাম্মদ হানিফ ১,০৭,১৬৮ ভোট পেয়ে আওয়ামী লীগের মনোরঞ্জনশীল গোপালের (১,৪৩,০৯৭) কাছে ৩৫,৯২৯ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হোন।

২০০১ সালের নির্বাচনে এই আসনে জামায়াতের প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল কাফি ৮৮,৬৬৯ ভোট পেয়ে আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে ২৮৪৭২ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে বিজয়ী হয়েছিলেন। আওয়ামী লীগ প্রার্থী আব্দুর রউফ চৌধুরী পেয়েছিলেন ৬০,১৯৭ ভোট।

তিন.
দিনাজপুর-৬
০৪টি উপজেলার সমন্বয়ে এই সংসদীয় আসন। উপজেলা চারটি হলোঃ নবাবগঞ্জ, বিরামপুর, হাকিমপুর ও ঘোড়াঘাট। এই আসনে মোট ভোটার ৪,৬৬,১৭২ জন।

২০০৮ সালের নির্বাচনের কথা মনে হলে এখনও এই আসনের জামায়াত কর্মীরা চোখের পানি ধরে রাখতে পারে না। মাত্র ৮৫৮ ভোটের পরাজয় কী করে ভুলে যাওয়া সম্ভব? সেই নির্বাচনে জামায়াত প্রার্থী আনওয়ারুল ইসলাম পেয়েছিলেন ১,৩২,৭৫২ ভোট এবং আওয়ামী লীগ প্রার্থী আজিজুল হক চৌধুরী পেয়েছিলেন ১,৩৩,৬১০ ভোট।

২০০১ সালের নির্বাচনে জামায়াত প্রার্থী আজিজুর রহমান চৌধুরী ১,১০,৫৯৮ ভোট পেয়ে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান ফিজারকে ( ৮৮,৯৪৩) পরাজিত করেছিলেন ২১৬৫৫ ভোটের ব্যবধানে।

চার.
নীলফামারী-২
নিলফামারী সদর উপজেলা নিয়ে এই আসনে জামায়াতের প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা মনিরুজ্জামান মন্টু। এই নির্বানে এই আসনে মোট ভোটার ৩,১১,৬৯৯ জন।

২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ালীগ প্রার্থী অভিনেতা আসাদুজ্জামান নূরের (১,৩৫,৬২৬) কাছে বড়ো ব্যবধানেই (৫৩,৩০২) হেরেছেন মুক্তিযোদ্ধা মনিরুজ্জামান মন্টু (৮২,৩২৪)।

তবে ২০০১ সালের নির্বাচনে জামায়াত প্রার্থী আবদুল লতিফ আওয়ামী লীগ প্রার্থী আসাদুজ্জামান নূ্রের কাছে মাত্র ৪,১২৫ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হোন। তখন আসাদুজ্জামান নূর পেয়েছিলেন ৬৯,৯৬০ এবং জামায়াতের আবদুল লতিফ পেয়েছিলেন ৬৫,৮৩৫ ভোট।

পাঁচ.
নীলফামারী-৩

জামায়াতের ঘাঁটি খ্যাত এই আসন নিলফামারীর জলঢাকা উপজেলা নিয়ে গঠিত। এটা সেই আসন, যে আসনে ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে জামায়াত ০৩ আসনে জিতেছিল, তার একটা। এই নির্বাচনে মোট ভোটার ২,৩৬,১৬৮ জন।

২০০৮ সালের নির্বাচনে এই আসনে জামায়াত প্রার্থী অধ্যক্ষ আজিজুল ইসলাম বেশ বড়ো ব্যবধানে জাতীয় পার্টির প্রার্থী কাজী ফারুক কাদেরের কাছে পরাজিত হলেও ২০০১ সালে এবং ১৯৯৬ সালে এই আসনে জামায়াত প্রার্থী মিজানুর রহমান চৌধুরী বিপুল ভোটে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির প্রার্থীকে পরাজিত করেছিল।

জলঢাকার বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান জামায়াত প্রার্থী হিসেবে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন।

ছয়.
রংপুর-০৫
রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলা নিয়ে গঠিত এই সংসদীয় আসনে জামায়াতের প্রার্থী বর্তমান মিঠাপুকুর উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যাপক গোলাম রব্বানী। এই আসনে মোট ভোটার ৩,৮৬,৪১৪ জন।

সারাদেশে এখন তুমুল আলোচিত আসন রংপুর-০৫। জামায়াত প্রার্থী অধ্যাপক গোলাম রব্বানীর প্রার্থীতা বাতিল করতে হেন কাজ নেই আওয়ামী লীগ প্রার্থী এইচএন আশিকুর রহমান করেনি। সব বাধা পেরিয়ে গোলাম রব্বানী এখন উপজেলা চেয়ারম্যান।

অতীতে এই আসনে জামায়াতের প্রভাব ও ভোট খুবই নগন্য ছিল। কিন্তু ২০১২/১৩ সাল থেকে এখানে জামায়াতের উত্থান শুরু। সরকার বিরোধী আন্দোলনের সূতিগাকার হিসেবে পরিচয় লাভ করে মিঠাপুকুর। মারাত্মক বৈরী পরিবেশের ২০১৪ সালের উপজেলা নির্বাচনে তৎকালীন থানা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক গোলাম রব্বানী ১ লাখ ২৭ হাজার ভোট পেয়ে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির প্রার্থীকে পরাজিত করে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হোন। ভাইস চেয়ারম্যান এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদেও জামায়াত প্রার্থীরা বিজয়ী হয়।

ধারণা করা হচ্ছে, এই আসনে জামায়াত প্রার্থী বিপুল ভোটে জয়লাভ করতে যাচ্ছেন।

Comments

comments