ঝিনাইদহে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীসহ ৪৩ জনের নামে পুলিশের মিথ্যা মামলা

৩০টি বোমা ও জিহাদি বই উদ্ধারের নাটক সাজিয়ে ঝিনাইদহ-৩ (কোটচাঁদপুর-মহেশপুর) আসনের ঐক্যফ্রন্টের মনোনীত প্রার্থী জামায়াত নেতা অধ্যাপক মতিয়ার রহমানসহ ৪৩ বিএনপি-জামায়াত নেতা-কর্মীর নামে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। বুধবার ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ডাকবাংলা ক্যাম্পের ইনচার্জ এস আই তোহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

এছাড়াও এ মামলার আসামিরা হলেন, সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান জামায়াত নেতা হাবিবুর রহমান, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আক্তারুজ্জামান আক্তার, ঝিনাইদহ পৌর বিএনপির সভাপতি জাহিদুর রহমান মনা, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদ বিশ্বাস ওরফে ছোট মজিদ, সদর থানা বিএনপির সভাপতি কামাল আজাদ পান্নু, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি সাজেদুর রহমান পপ্পু, জেলা যুবদলের সভাপতি আহসান হাবিবুর রনক, সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম পিন্টু, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সৌমিজ্জামান সৌমসহ ৪৩জন নেতা-কর্মীর নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৩০/৪০ জনের নামে বিশেষ ক্ষমতা আইন ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে গায়েবী মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এছাড়া সদর উপজেলার ডাকবাংলা মাগুরা পাড়ার মৃত আব্দুর রশিদের ছেলে সাজিদুর রহমান টুটুল (৪০), খাজুরা শেখপাড়া গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে আবু সাইদ শেখ ওরফে মাছ সাইদ (৫৫), বৈডাঙ্গা গ্রামের মগরের মালি মণ্ডলের ছেলে বাবলুর রহমান (৪৭) একই গ্রামের মৃত আফিল মণ্ডলের ছেলে আনার মণ্ডল (৪৭) কে এই গায়েবী মামলায় আটক দেখানো হয়েছে।

মামলার এজাহারে পুলিশ উল্লেখ করেছে যে, মঙ্গলবার রাতে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বৈডাঙ্গা গ্রামে একদল লোক নাশকতার প্রস্ততি নিচ্ছে। এ সময় ডাকবাংলা পুলিশ ক্যাম্প ইনচার্জ এস আই তৌহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে অভিযান চালানো হয়। অভিযান চালিয়ে বৈডাঙ্গা গ্রামের আনার মণ্ডলের বসত ঘরের নীচ থেকে ৩০টি বোমা, ১২টি জিহাদি বই ও ১২টি বাঁশের লাঠি উদ্ধার করে পুলিশ। এ সময় চারজনকে আটক করা হয়।

স্থানীয়দের কাছে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নির্বাচনী পরিবেশকে প্রভাবিত করতে পুলিশ গ্রামে অভিযান চালিয়ে বিরোধী দলের কর্মী-সমর্থকদের গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যায়। পরে তাদের নামে বোমা উদ্ধারের মামলা দিয়েছে পুলিশ।

Comments

comments