সাতক্ষীরায় পুলিশের গণগ্রেফতার, ছাত্রলীগের তান্ডব

প্রতীক বরাদ্ধের প্রথম দিনেই সাতক্ষীরা জেলার বিভিন্ন স্থানে পোস্টার তুলে ফেলা, পুড়িয়ে ফেলা, হামলা, প্রচার মাইক ভাংচুর ও গ্রেফতারের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশি ও সরকার দলীয় সংগঠনের নেতাকর্মী নির্বাচনী আচারণবিধি লংঘনের ঘটনা ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

রোববার সন্ধ্যা থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত জেলার আটটি থানার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে জেলাব্যাপী পুলিশ বিশেষ অভিযানের নামে জামায়াত ও বিএনপির ৫২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

সাতক্ষীরা সদর: আজ সোমবার বিকাল ৪টার দিকে সাতক্ষীরা সদরের তিন নম্বর বৈকারী ইউনিয়নের নাপতি ঘাটা এলাকায় পুলিশ, আওয়ামী লীগ এবং ছাত্রলীগের কর্মীরা একত্রিত হয়ে ২০ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী আব্দুল খালেকের নির্বাচনী পোস্টার ছিঁড়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় ২০ দলীয় জোটের কয়েক জন কর্মীদের ব্যাপক মারধর করে এবং তাদের দোকানে ও বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে ভাঙচুর করে বলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ ।

একই সময় ছাত্রলীগের কর্মীরা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মহড়া দেয় ও নির্বাচনী প্রচার মাইক ভাঙচুর করে।

এসময় ঘোনা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফজলুর রহমানের নেতৃত্বে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ২০ দলীয় জোটের প্রার্থীর পক্ষে লাগানো সকল পোষ্টার ছিড়ে ফেলে।

অন্যদিকে ডিবি পুলিশের একটি টিম কোন ওয়ারেন্ট ছাড়া জামায়াতের ইউনিয়ন আমীর মেম্বার জালাল উদ্দিন, ওবাইদুল্লাহ এবং মোতালেবসহ কয়েকজন নেতা কর্মীকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়।

একই সময় বাঁশদহ ইউনিয়নেও জামায়াতের তিন কর্মী মাওলানা আব্দুল মজিদ পিতা ছাকারউদ্দিন গ্রাম কামার বারসা, গোলাম মোস্তফা পিতা- ঈমান আলী গ্রাম- কামার বারসা, রবিউল ইসলাম পিতা আবদুল লতিফ গ্রাম কামার বারসাকে ধরে নিয়ে আওয়ামী লীগের স্থানীয় ভাইস চেয়ারম্যান প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তাদেরকে ছেড়ে দেয়। ঐসময় সাতক্ষীরা সদরের বাঁসদহা গ্রামের মাওলানা রমজান আলীর বাড়ি থেকে ২০০০ পোস্টার নিয়ে যায় পুলিশ।

কলারোয়া: কলারোয়ার হিজলদী গ্রামের আরশাফ আলী ও আঃ মজিদ এবং সুলতানপুর গ্রামের রফিকুল ইসলামকে আটক করেছে পুলিশ।। এছাড়া বিভিন্ন জায়গায় জামায়াত নেতা কর্মীদের ধরতে ব্যাপক তল্লাশী চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।

আশাশুনি: আশাশুনির বাটরা গ্রামের মেম্বর খোরশেদ আলম এবং কোদন্ডা হাই স্কুলের মৌলাভী শিক্ষক হক মাওলানা কে কোর্টের গেট হতে গ্রেফতার করেছে ডিবি পুলিশ। তারা উভয় আশাশুনি থানার একটি মামলার হাজিরা দেওয়ার জন্য কোর্টে এসেছিলেন। বাড়ী ফেরার পথে গেটের মুখ হতে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।

শ্যামনগর: শ্যামনগরের নুরনগর গ্রামের ইন্তাজ আলীর ছেলে মাও. আব্দুল মজিদ এবং একই গ্রামের হাজি লিয়াকত হোসেন কে গ্রেফতার করে শ্যামনগর থানা পুলিশ।

এদিকে রোববার সন্ধ্যার কিছু পরে শ্যামনগর উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি জহুরুল হক আপ্পুর মালিকানাধীন একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বসেছিলেন তিনি। এসময় আকস্মিকভাবে শ্যামনগর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হাফিজুর রহমান তার সহযোগী মোস্তফাসহ আরও কয়েকজনকে নিয়ে সেখানে উপস্থিত হন। শুরুতে তারা জহুরুল হক আপ্পুকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে এবং নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রকাশ্যে না আসার বিষয়ে সতর্ক করে এবং দ্রুত এলাকা ছাড়ার হুমকি দেয় ছাত্রলীগ নেতা জহুরুল। পরে বাড়ি ফেরার পথে তাকে মারপিঠ করে ছাত্রলীগ নেতা কর্মীরা।

সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার পরিদর্শক আজম খান জানান,সাতক্ষীরা সদর থানা থেকে ১৪ জন, কলারোয়া থানা থেকে ৬ জন, তালা থানা থেকে ৪ জন, কালিগঞ্জ থানা থেকে ৬ জন, শ্যামনগর থানা থেকে ৮ জন, আশাশুনি থানা থেকে ৭ জন, দেবহাটা থানা থেকে ৩ জন ও পাটকেলঘাটা থানা থেকে ৪ জনকে আটক করা হয়েছে। আটককৃতরা বেশিরভাগই বিএনপি জামায়াতের কর্মী।

আরো পড়ুন: ধানের শীষের পোস্টার ছাপানোয় প্রেসে ছাত্রলীগের হামলা

Comments

comments