যে কারণে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ এ স্বতন্ত্র প্রার্থী দিল জামায়াত

জামায়াত অধ্যুষিত এলাকাগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি হচ্ছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ। এখানে জামায়াতের বরাবরের লক্ষ্য হচ্ছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ (সদর) আসনটিকে ঘিরে। এখানে বিএনপি-জামায়াতের লড়াই বহু পুরোনো। বিএনপি-জামায়াত জোট থাকলেও এ আসনে কখনোই তাদের জোটগত নির্বাচন হয়নি।

বৃহত্তর রাজশাহী অঞ্চলে জোট থেকে জামায়াতকে একটিও আসন দেওয়া হয়নি। তাই নিজেদের এ ভোটব্যাংকে অনড় অবস্থানে জামায়াত। চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনটি সদর উপজেলা ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত। এখানে উপজেলা চেয়ারম্যান, দুইজন ভাইস চেয়ারম্যান ও পৌর মেয়র জামায়াত সমর্থিত। বিপুল ভোটের ব্যবধানে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থীকে হারিয়েছেন তারা প্রত্যেকেই। ত্রিমুখী এ লড়াইয়ে বরাবরই বিজয়ী হয়েছেন জামায়াত মনোনীত প্রার্থীরা। পৌর মেয়র নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ৭৪ হাজার, বিএনপি ৬২ হাজার ভোট পেলেও জামায়াত প্রার্থী নজরুল ইসলাম ১ লক্ষ ৪ হাজার ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন।

১৯৮৬ সালের সংসদ নির্বাচনে চাঁপাইনবাবগঞ্জের তিনটি আসনের মধ্যে দুটি আসনেই বিজয়ী হয় জামায়াত। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে সদর আসনে দ্বিতীয়বারের মত এমপি নির্বাচিত হন জামায়াতের প্রার্থী লতিফুর রহমান। তাই এ আসন নিয়ে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী জামায়াত।

বিগত ১০ বছরে আওয়ামী লীগ সরকারের বেশি দমন পীড়ন নির্যাতনের শিকার হয়েছে এই এলাকার বাসিন্দারা। যাদের অধিকাংশই জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মী। জামায়াত নেতা নুরুল ইসলাম বুলবুল পূর্বে এ আসনে জামায়াতের নির্বাচিত এমপি লতিফুর রহমানের চেয়েও জনপ্রিয়তায় অনেকগুণ এগিয়ে। বুলবুল চাঁপাইনবাবগঞ্জ সরকারি কলেজ ছাত্রসংসদের নির্বাচিত ভিপি ছিলেন। দেশের অন্যতম বৃহৎ ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের একজন জনপ্রিয় কেন্দ্রীয় সভাপতি ছিলেন। এলাকার মানুষের যে কোন প্রয়োজনে তিনি ছুটে যান আপন হয়ে। ফলে জনপ্রিয়তা যে কোনো দলের প্রার্থীর তুলনায় অনেক বেশি হওয়ায় তার জয় এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।

Comments

comments