রেলপথের নামে ভারতকে গোপনে করিডোর দিচ্ছে শেখ হাসিনা

ভারতের সুবিধার্থে গোপনে বাংলাদেশের ভিতর দিয়ে রেলপথ করার সব ব্যবস্থাই করেছে শেখ হাসিনা।

কলকাতার সংবাদ মাধ্যম বলছে,কলকাতা থেকে পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ি পর্যন্ত চালু হচ্ছে নতুন রেলপথ। এই ট্রেন বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে কলকাতা হয়ে দার্জিলিং জেলার শিলিগুড়ি পর্যন্ত চলবে। দুই দেশ এই রেলপথ চালুর জন্য কাজও শুরু করে দিয়েছে বলে খবরে প্রকাশ।

দু’দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্কের উন্নতি ঘটানোর কথা বললেও তা মুলত কলকাতা থেকে শিলিগুড়ি পর্যন্ত ভারতীয় পণ্য পরিবহণের কাজেই ব্যবহৃত হবে। ভারতীয় কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী ওই পথে শুধুমাত্র মালগাড়ি চলবে। তবে ভবিষ্যতে ওই রুটে যাত্রীবাহী ট্রেন চালানো হতে পারে বলেও জানিয়েছে ভারতের রেল কর্তৃপক্ষ। এই রুটে বাংলাদেশের কোন যাতায়াত প্রয়োজন নেই বললেই চলে। এমনকি এই রেলপথে ভারতীয় পন্যবাহী রেলগাড়ি চললেও বাংলাদেশের কিভাবে লাভবান হবে সে বিষয়ে কোন তথ্য উল্লেখ করেনি।

Source: Anandabazar

ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকায় প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী রেলপথটি চালু করতে ভারতের তেমন খরচ নেই। যেখানে ভারত দু’দফায় মোট ৪২ কোটি টাকা খরচ করছে। সেখানে বাংলাদেশ সরকারের খরচ হচ্ছে ৮০ কোটি ৭০ লক্ষ টাকা ।

ইতোমধ্যে বাংলাদেশ সরকার ৮০ কোটি ৭০ লক্ষ টাকা মঞ্জুরও করেছে । কিন্তু ভারতের স্বার্থ রক্ষায় এ বিপুল অর্থ বরাদ্দের ব্যাপারে বাংলাদেশের জনগণ এ সম্পর্কে কিছুই জানেনা।

প্রশ্ন উঠেছে বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে প্রতিবেশী ভারতের সুবিধার্থে যে রেলপথ তথা করিডোর চালু হচ্ছে তার সম্পর্কে কতটুকু জনগণ কিংবা দেশের গণমাধ্যম অবগত?

ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকায় এ খবর প্রকাশের আগ পর্যন্ত বাংলাদেশের কোন গণমাধ্যমেই এ খবর প্রকাশিত হয়নি। আলোচনা হয়নি জাতীয় সংসদ কিংবা জাতীয় কোন ফোরামে। এমনকি আনন্দবাজার পত্রিকায় প্রকাশিত হওয়ার পর তাদের বরাতে দৈনিক প্রথম আলোসহ যেসব বাংলাদেশী পত্রিকায় খবরটি প্রকাশিত হয়েছে, তারাও সঠিক খবর উদ্ধারের চেষ্টা না করে খন্ডিত তথ্য সংবলিত খবর প্রকাশ করেছে। যা রীতিমত রহস্যজনক।

একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশের জাতীয় সিদ্ধান্ত গ্রহনের ক্ষেত্রে কিংবা আন্তর্জাতিক সম্পর্ক স্থাপনের ক্ষেত্রে ন্যূনতম যে রীতি-নীতি বা শিষ্টাচার রয়েছে, ভারতের সাথে কলকাতা-শিলিগুড়ি রেলপথ নির্মাণের ক্ষেত্রে শেখ হাসিনার সরকার কোনটিই মানার চেষ্টা করেনি। যা স্বেচ্ছাচারিতার নামন্তর বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

Comments

comments