জাবিতে মাদরাসা শিক্ষার্থীদের প্রতি বৈষম্য না করতে হাইকোর্টের নির্দেশ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মাদরাসা শিক্ষার্থীদের প্রতি চলমান ভর্তিবৈষম্য নিরসনের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। জাবির কলা ও মানবিক অনুষদের ভর্তি পরীক্ষায় মাদরাসার শিক্ষার্থীদেরকে তাদের সংশ্লিষ্ট বিভাগের হিসেবে গণ্য না করে আলাদা মেধাক্রম করা হতো।

সোমবার এক রায়ে হাইকোর্ট এ প্রক্রিয়াকে বৈষম্যমূলক বলে আখ্যায়িত করেছে এবং মাদরাসার শিক্ষার্থীদেরকে তাদের সংশ্লিষ্ট বিভাগের (মানবিক, বিজ্ঞান, বাণিজ্য যেটাই হোক) সাথে পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ প্রদান করতে বলেছেন। গতকাল বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী রেজিস্ট্রার (আইন) মাহতাব-উজ-জাহিদ এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, ‘সোমবার (১১ মার্চ) বিচারপতি সৈয়দ রিফাত আহমেদ ও মো: ইকবাল কবিরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ এ আদেশ দেন। রায় দেয়ার সময় আমি জাবির পক্ষ থেকে হাইকোর্টে উপস্থিত ছিলাম। তবে লিখিত কপি এখনো আসেনি। যেহেতু এই সেশনের ভর্তি কার্যক্রম শেষ হয়েছে তাই পরবর্তী সেশন থেকে এই আদেশ কার্যকর হবে বলে জানিয়েছেন হাইকোর্ট।’

বাদিপক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার ইমরান সিদ্দিকী বলেন, ‘‘রায়ের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে প্রকাশ করা হবে। মৌখিক আদেশে বলা হয়েছে, ভর্তির ক্ষেত্রে কলেজ, মাদরাসা ও কারিগরি ক্যাটাগরিতে বিভক্ত করা বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশের পরিপন্থী, যা বাংলাদেশের সংবিধানের ২৭ নং ধারা ‘আইনের দৃষ্টিতে সমতা’র পরিপন্থী। এ বিভাজনের ফলে মেধার অবমূল্যায়ন ও বৈষম্য তৈরি হয়েছে। সবাইকে তার নিজ অবস্থান থেকে প্রতিযোগিতা করতে দিতে হবে।’’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার রহিমা কানিজ বলেন, ‘হাইকোর্টের এ রকম একটি আদেশের কথা শুনেছি। লিখিত কপি হাতে এলে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

গত বছরের ২০ অক্টোবর কলা ও মানবিক অনুষদে ভর্তির ক্ষেত্রে বৈষম্য করা হচ্ছে দাবি করে উকিল নোটিশ প্রদান করেন তিন ভর্তি ইচ্ছুক শিক্ষার্থী (সাজ্জাদুল ইসলাম, মো: নওসাজ্জামান ও রাকিব হোসেন)। উকিল নোটিশের জবাব না দেয়ায় ২৫ অক্টোবর হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়। পরে ৪ নভেম্বর এ বিষয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট।

Comments

comments