ইসি-ভিসি দুই ভাই ,পথে পাইল মরা গাই

মিনার রশিদ

ছোটবেলায় আমরা এভাবেই ছড়া কাটতাম। দুই ভাইয়ের নামে কিংবা কোনো কাজে দুজনের দারুন মিল দেখলেই এই ছড়াটি কাটা হতো। সারা দেশবাসী আমাদের ছোটবেলায় কাটা এই ছড়াটি গাইতে পারেন ,

ইসি- ভিসি দুই ভাই
পথে পাইল মরা গাই
ইসি কয় , খাইয়া যাই
ভিসি কয় , মার লাইগা লইয়া যাই।

ইসি- ভিসি দুই ভাই মিলে নির্বাচন নামক গাইটিকে মেরে ফেলেছে। এই মরা গাইটিকে দুই ভাই মিলে মায়ের জন্যে নিয়ে যাচ্ছে। ছড়াটি বর্তমান প্রেক্ষাপটে বেশ ইঙ্গিতবাহী। গণতন্ত্র নামক দেশের দুধালো গাইটি মেরে ‘মাদার অব সকলকিছু ‘ কে সেই মরা মাংস খাওয়াচ্ছে।

নির্বাচনের নামে দেশে চলছে রীতিমত সার্কাস। এই সার্কাসের ক্লাউন বা মূল আকর্ষণ হিসাবে এই দুই ভাইয়ের নাম সামনে চলে এসেছে। এদের একজন সিইসি , অন্য জন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি। জনগণ মিল করে একসাথে বলে ইসি আর ভিসি।

এদের একজন আধুনিক টেকনোলজি ইভিএমের দারুন সমঝদার। ইভিএম ( ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন ) এর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরতে গিয়ে নিজেদেরই অন্য এক অপকর্ম ( আগের রাতে ব্যালট বাক্স ভরা ) স্বীকার করে নিয়েছেন। সারা বিশ্ব ইভিএমকে ডিজিটাল জোচ্চুরির মেশিন বলে গণ্য করেছে। এখন এই ভোট ডাকাতদের হাতে এই মেশিন পড়লে কী হবে তা সহজেই অনুমেয়।

এই ইসির হাতে ইভিএম এবং অন্য এক ভিসির বাংলোয় জনৈকা এতিম মেয়ের অবস্থানের মত ব্যাপার হবে। যে এতিমকে ঐ ভিসি সাহেব বলেছিলেন, ’তুমিও এতিম, আমিও এতিম। এই দুই এতিমের অছিলায় তৃতীয় এতিম চলে আসায় তা দেশবাসীর নজরে এসেছিল। এই ইসি-ভিসিরা সবাই মিলে সারা জাতিকে সত্যি সত্যিই এতিম বানিয়ে ফেলেছে।

আলোচিত ইভিএমকে স্ত্রীর অনুপস্থিতে সেই এতিমের চেয়েও নিশ্চিন্তে ও ঝামেলামুক্তভাবে ব্যবহার করা সম্ভব হবে। রাতের বেলায় ব্যালট বাক্স ভর্তি করলে অনেকেই সাক্ষ্মী থেকে যায়। কিন্তু ইভিএমে এক প্রার্থীর ভোট অন্য প্রার্থীকে দিয়ে দিলে ধরার বা দেখার কেউ থাকবে না। সিইসি হুদা সাহেবের অতিমাত্রায় এই ডিজিটাল এতিম ( ইভিএম) প্রেম বেহুদা নয়।

ইসির ভাই ভিসি আবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের নামে অস্বচ্ছ ব্যালট বাক্সের পূজারী। এতিম জনগণকে পটানোর জন্যে যখন যে চেতনার দরকার সেটাই ব্যবহার করে। এই ধরনের চেতনা মিশ্রিত কথা বললে আমরা দুর্বল হয়ে যাই। শরীরের বিভিন্ন জায়গায় হাত দিলেও প্রতিবাদ করতে পারি না।

এদের সবার ধান্দা সেই একই। কখনো এতিমের বেওয়ারিশ শরীর, কখনো গণতন্ত্রের শরীর খাবলে খায়।

প্রকৃত বিচারে এদের নিজস্ব কোনো পাওয়ার নেই। বিবেকবোধ, গিলা – কলিজা – ঘেন্না-পিত্তি – লজ্জা – শরম কিচ্ছু নেই। মনিব যা ঈঙ্গিত করেন, জোকার সেজে সেটারই অভিনয় করে যান।

মাঝে মাঝে সার্কাসের জোকারের মতই হাম্বি তাম্বি করেন, ব্যাটাগিরি দেখান। কিছুক্ষণ পর আবার করুণভাবে ধরা খান। জোকারদের এই বেকায়দা অবস্থা দেখেও দর্শকরা বিনোদিত হয়।

গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু নির্বাচন নিয়েও একই সার্কাস চলেছে। নির্বাচন কেমন হয়েছে তা সবাই জানেন।

কিন্তু ছাত্র সমাজ জেগে ওঠতে পারে এবং এটাকে কেন্দ্র করে সারা দেশে ছাত্র আন্দোলন মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে পারে -সেই ভয় থেকেই কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা নুরুল হক নুরুকে ভিপি হিসাবে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে মাত্র।

এমতাবস্থায় অনেকে নুরুকে এই ফলাফল প্রত্যাখ্যান করার পরামর্শ দিচ্ছেন। অনেকটা প্যানিক থেকেই সরকার এই সিদ্ধান্তটি নিয়েছে বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে। কাজেই এই পদটি ধরে রেখেই তিনি ছাত্র সমাজের চলমান আন্দোলনকে কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেন বলে আমার মনে হয়। তিনি যেহেতু কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পৃক্ত নন , এই পদ তাকে প্রয়োজনীয় শক্তি ও সমর্থন জোগাতে পারে। প্রত্যাখ্যান করলে খুব একটা লাভ হবে বলে আমার মনে হয় না।

এটিকে গত সংসদ নির্বাচনের সাথে এক করে দেখার অবকাশ নেই। বরং সরকার যে অস্ত্র ছুঁড়েছে সেই অস্ত্র দিয়েই সরকারকে ঘায়েল করা সম্ভব। শুধু দরকার সজাগ থাকা এবং সরকারের কোনো প্রলোভনে না পড়া।

সরকার এবং সরকারের তল্পীবাহক মিডিয়া সর্বাত্মক চেষ্টা করেছে জনাব নুরু ও তার গ্রুপকে শিবির হিসাবে প্রতিপন্ন করতে। সেই নুরুকে ভিপি হিসাবে ঘোষণা করতে বাধ্য হওয়ায় সরকারের নৈতিক পরাজয় স্পষ্ট হয়েছে।

প্রশ্ন জেগেছে, তাহলে কি দেশের ছাত্র সমাজ ছাত্র শিবির সমর্থিত একটা গ্রুপের নেতাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিপি হিসাবে নির্বাচিত করে ফেলেছে ?

কোটা সংস্কার আন্দোলনের এক কর্মী প্রতিবাদের বিশেষ ভাষা হিসাবে আমি রাজাকার বুকে লিখে প্রদর্শন করায় জাফর ইকবাল গং গোস্বায় ফেটে পড়ে ছিলেন। সেই ছাত্রের গায়ে বমি করে দেয়ার অভিপ্রায় প্রকাশ করেছিলেন। তাদেরই নেতা আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিপি হয়েছে – এটি জাফর ইকবাল গং কীভাবে হজম করে আপাতত এটিই দেখার বিষয়।

বি.দ্র. লেখাটি পড়ে আমাদের বরিশালের ব্যাচমেইট নিম্নোক্ত মন্তব্য করেন, “ওই দুইটা যে বরিশাইল্লা ভূ..তা উল্লেখ করা উচিত ছিল। মুখ দেখানোর আর পথ নাই। আব্দুল্লাহর বোটে বাকি জীবনটা কাটাইতে হইব।”

লেখকের ফেসবুক থেকে

Comments

comments