পিলখানা হত্যাকাণ্ডের ১০ বছর: প্রকাশ হয়নি পূর্ণাঙ্গ রায়, যে রহস্য উদঘাটন হয়নি আজও

  • হাইকোর্টের রায়: ফাঁসি বহাল ১৩৯ জনের, যাবজ্জীবন ১৮৫ জনের, ২০০ জনের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা। খালাস ৪৫ জন।
  • বিচারিক আদালতের রায়: ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর দণ্ড: ১৫২ জনের ফাঁসি, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ১৬১ জনের। ১০ বছরসহ বিভিন্ন মেয়াদের সাজা ২৫৬ জনের। খালাস ২৭৮ জন। সর্বমোট সাজা ৫৬৮ জনের।

পিলখানায় তৎকালীন বিডিআর সদর দপ্তরের নির্মম ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ১০ বছর পূর্ণ হচ্ছে আজ সোমবার। হত্যাযজ্ঞে ৫৭ জন ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় দায়ের হওয়া খুনের মামলায় ২০১৭ সালের ২৭ নভেম্বর হাইকোর্টের রায় ঘোষণা হয়। তবে এখনো পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ হয়নি।

আসামিপক্ষের আইনজীবী আমিনুল ইসলাম ও শামীম সিকদার রোববার বলেন, হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় এখনো প্রকাশিত হয়নি। রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি হাতে পাওয়ার পর তাঁরা আপিল করবেন।

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম গতকাল বলেন, ‘হাইকোর্টে আপিল তো শেষ হয়ে গেছে। সংবিধান অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা আবেদন করলে তা আপিল হিসেবে বিবেচিত হবে। আমি যতটুকু জানি, আসামিপক্ষ এখনো রায়ের কপি হাতে পায়নি। আসামিপক্ষ রায়ের কপি পেলে তারা আপিল বিভাগে আপিল করবে।’

বিচারিক আদালতের রায়ের পর হাইকোর্টেও মামলার বিচারকাজ নিষ্পত্তি হয়েছে। এখন বিচারের সর্বোচ্চ ধাপ আপিল বিভাগেই মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হওয়ার কথা। হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের হলে আপিল বিভাগেই মামলার চূড়ান্ত ভাগ্য নির্ধারিত হবে।

পিলখানায় তৎকালীন বিডিআর সদর দপ্তরের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মামলায় হাইকোর্ট ১৩৯ জনের ফাঁসির আদেশ বহাল রেখেছেন। যাবজ্জীবন বহাল আছে ১৮৫ জনের এবং বিভিন্ন মেয়াদে সাজা বহাল রয়েছে ২০০ জনের।

এর আগে নিম্ন আদালতের রায়ের পর আসামিদের ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) হাইকোর্টে আসে। সাজার রায়ের বিরুদ্ধে দণ্ডিত ব্যক্তিরাও জেল আপিল ও আপিল করেন। ৬৯ জনকে খালাসের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করে। এসবের ওপর ২০১৫ সালের ১৮ জানুয়ারি হাইকোর্টে শুনানি শুরু হয়, শেষ হয় ৩৭০তম দিনে, ১৩ এপ্রিল। সেদিন শুনানি শেষে আদালত মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখেন। ২৬ ও ২৭ নভেম্বর দুই দিনে বিচারপতি মো. শওকত হোসেনের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। বেঞ্চের অপর দুই বিচারপতি হলেন মো. আবু জাফর সিদ্দিকী ও মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার।

যা ঘটেছিল:
দরবার হল থেকে বিদ্রোহ শুরু: মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি ছিল বিডিআরের বার্ষিক দরবারের দিন। অনুষ্ঠান শুরু হয় সকাল নয়টায় সদর দপ্তরের দরবার হলে। সেই সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদ, উপমহাপরিচালক (ডিডিজি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম এ বারী, বিভিন্ন ইউনিটের কর্মকর্তাসহ বিডিআরের নানা পদের সদস্যরা। সরকারি তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন অনুসারে, ওই দিন দরবারে উপস্থিত ছিলেন ২ হাজার ৫৬০ জন।

দরবার শুরুর পর ডিজির বক্তব্য চলাকালে সকাল ৯টা ২৬ মিনিটে মঞ্চের বাঁ দিকের পেছন থেকে দুজন বিদ্রোহী জওয়ান অতর্কিতে মঞ্চে প্রবেশ করেন, একজন ছিলেন সশস্ত্র। শুরু হয় বিদ্রোহ। দরবার হলের বাইরে থেকে গুলির আওয়াজ ভেসে আসে। কিছুক্ষণের মধ্যে লাল-সবুজ রঙের কাপড় দিয়ে নাক-মুখ বাঁধা বিদ্রোহী জওয়ানেরা দরবার হল ঘিরে গুলি শুরু করেন। ডিজি নিজে প্রধানমন্ত্রী ও সেনাপ্রধানসহ অন্যদের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলে দ্রুত সেনা হস্তক্ষেপের অনুরোধ জানান। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিদ্রোহীরা কর্মকর্তাদের দরবার হল থেকে সারিবদ্ধভাবে বের করে আনেন। ডিজির নেতৃত্বে কর্মকর্তারা দরবার হলের বাইরে পা রাখা মাত্র মুখে কাপড় ও মাথায় হলুদ রঙের হেলমেট পরা চারজন ডিজিকে লক্ষ্য করে ব্রাশফায়ার করেন। ডিজির পর হত্যা করা হয় আরও কয়েকজন কর্মকর্তাকে।

এরপর পিলখানা ভেতরে ধ্বংসযজ্ঞ চলতে থাকে। দুপুর সোয়া ১২টার দিকে বিমানবাহিনীর একটি হেলিকপ্টারে করে বিদ্রোহীদের অস্ত্র সমর্পণের আহ্বান জানিয়ে লিফলেট ছাড়া হলে ওই হেলিকপ্টার লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন বিদ্রোহীরা। এ সময় প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে বিদ্রোহীরা এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়েন। তাঁরা মাইকে জানান, আলোচনার জন্য প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে পিলখানায় আসতে হবে। আলোচনার মাধ্যমে বিদ্রোহীদের নিরস্ত্রীকরণের প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে বেলা দেড়টার দিকে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে সাদা পতাকা নিয়ে পিলখানার ৪ নম্বর ফটকের সামনে যান তৎকালীন প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক ও হুইপ মির্জা আজম। বেলা সাড়ে তিনটার দিকে ১৪ সদস্যের বিডিআর প্রতিনিধিদলকে নিয়ে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে তাঁরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন। সন্ধ্যা ছয়টার দিকে নানক সাংবাদিকদের জানান, প্রধানমন্ত্রী বিদ্রোহীদের সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছেন এবং অস্ত্র জমা দিয়ে ব্যারাকে ফেরার নির্দেশ দিয়েছেন।

কিন্তু সন্ধ্যা সাতটার দিকে প্রধানমন্ত্রীর সাধারণ ক্ষমা ঘোষণাকে প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশের দাবি করেন বিদ্রোহী জওয়ানেরা। তাঁরা আগের মতো উচ্ছৃঙ্খল আচরণ শুরু করেন। সন্ধ্যায় পিলখানার বিদ্যুৎ-সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে নিহত সেনা কর্মকর্তাদের লাশ মাটিতে পুঁতে ও সরিয়ে ফেলা হয়। ২৬ ফেব্রুয়ারি বেলা আড়াইটায় টেলিভিশন ও বেতারে প্রচারিত জাতির উদ্দেশে ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদ্রোহীদের অস্ত্র সমর্পণ করে ব্যারাকে ফিরে যেতে হবে। এরপর বিদ্রোহীরা অস্ত্র সমর্পণের সিদ্ধান্ত নেন। সন্ধ্যা ছয়টা থেকে বিদ্রোহীরা অস্ত্র সমর্পণ শুরু করেন।

উদঘাটন হয়নি যেসব রহস্য?

.কেন প্রধানমন্ত্রী ২৬তারিখের ডিনারের অনুষ্ঠানে আসার দাওয়াত প্রত্যাখ্যান করলেন? তাহলে তিনি কী কিছু জানতেন আগে থেকে?

২.কেন বিদ্রোহীদের পক্ষথেকে আসা মধ্যস্ততাকারীদের নাম ও পরিচয় রেজিস্ট্রী করা হয়নি যখন তারা প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে সমঝোতার জন্য এসেছিলেন?

৩.মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদ ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যকার সর্বশেষ কী কথোপকথন হয়েছিল?

৪.লেফটেনেন্ট কর্নেল মুকিত কেন বিডিআর হেডকোয়ার্টার থেকে ২৫শে ফেব্রুয়ারী বিকেলে বাংলাদেশ আর্মী্র ও বিডিয়ার ডাইরেক্টরের বিরুদ্ধে টেক্সট মেসেজ পাঠালেন?

৫.২৫ শে ফেব্রুয়ারী প্রধান মন্ত্রীর কাছে প্রেরিত ইন্টেলিজেন্স রিপোরটটি কী যা তিনি পারলামেন্টে উল্লেখ করেছিলেন?

৬.কেন পিলখানার ৫ নং গেটে কোনও পুলিশ ও র‌্যাব মোতায়েন করা হয়নি যেখানদিয়ে বিদ্রোহী যোয়ানরা পালিয়ে গিয়েছিল?

৭.কেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নানক এবং আযম কে দুপুর একটায় নিয়োগ দিলেন অথচ আরও চার ঘন্টা আগেই তাকে এ ঘটনা সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছিল?
৮,২৫ ও ২৬ তারিখে বিভিন্ন মসজিদের মাইক ব্যবহার করে তিন মাইল পর্যন্ত শহরবাসীদের নিরাপদ দুরুত্তে সরেযেতে যে ঘোষনা প্রদান করা হয় সেটা কার নির্দেশনায় করা হয়েছিল

৯.বিদ্রহী নেতা ডিএডি তউহীদ প্রধানমন্ত্রীকে বিডিয়ার প্রধানের ও আরও কিছু অফিসারের হত্যার কথা জানানোর পরও কেন বিষয়টা সরকার ২৬ তারিখ বিকাল অবদি গোপন রাখলেন?

১০.বাংলাদেশ টেলিভিশন কেন পিলখানার ঘটনার ব্যপারে কিছুই প্রচার করেনি যদিও অন্যান্য বেসরকারি টেলিভিশন গুলো ব্যপকভাবে প্রচার করে যাচ্ছিল। এমনকি বাংলাদেশটেলিভিশন সংক্ষিপ্ত আকারেও কোনও সংবাদ প্রচার করেনি। কেন?

১১. কেন বিদ্রোহীরা প্রধানমন্ত্রীকে “আমাদের নেত্রী” বলে বার বার দাবি করছিল?

১২. বিদ্রহীরা যখন সাংবাদিকদের সাথে কথা বলছিল তখন কেন তারা বার বার আওয়ামিলীগের দলীয় স্লোগান “জয় বাংলা” দিচ্ছিল?

১৩. সেদিন অনেক বিদেশী বিডিয়ার হেদকোয়ার্টারে ফোন করেছিলেন তারা কারা। বাংলাদেশ গোয়েন্দা সংস্থা কী এতই দুর্বল যে ঘটনার দুই মাসের মধ্যেও সেটা বের করতে পারলনা?

১৪. প্রধানমন্তীর পুত্র জয় ২৭শে ফেব্রুয়ারী কিছু পলাতক বিদ্রোহীর সাথে দেখা করতে কেন দুবাই এসেছিলেন?

১৫. কেন জয় দুবাই বিমানবন্দরে প্রত্যেক পলাতক বিদ্রোহীরহাতে মোটা ইনভেলাভ ধরিয়ে দিয়েছিলেন?(সেই ইনভেলাভ গুলোর ভেতর কি ছিল?)

১৬. কেন জয় বাংলাদেশ আর্মীর ব্যপারে বিরুপ মন্তব্য করেছিলেন এবং এই বিদ্রোহের জন্য বাংলাদেশ আর্মী কে দায়ী করেন যখন তিনি বিভিন্ন ইন্টারন্যাশনাল মিডিয়ার সাথে কথা বলছিলেন?

১৭. কেন প্রধানমন্ত্রী তার ছেলে কে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে দেশে আসতে নিষেধ করেছেন?

১৮. কেন প্রভাবশালী পার্লামেন্ট মেম্বারগন কিছু বিদেশি সরকার কে ফোন করে সাহায্য প্রার্থনা করেছেন যদিনা বাংলাদেশ আর্মী বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে বসে?

১৯. কেন আওয়ামিলীগ নেতা মহিউদ্দীন খান আলমগির ২৭শে ফেব্রুয়ারী দেশ থেকে পালিয়ে যেতে চেয়েছিলেন?

২০. মন্ত্রি ফারুক খান কেন বলেছিলেন যে, জঙ্গিরা বাংলাদেশের আইনবিভাগ ও সস্ত্রবাহিনীতে ঢুকে পড়েছে?

২১. কেন সরকার ইন্সপেক্টর অফ পুলিস কে (যার জামাই বিদ্রোহের সময় নিহত হয়েছিলেন এবং মেয়ে ছিলেন বিদ্রোহিদের হাতে জিম্মি অবস্থায়) তদন্ত কার্যক্রম থেকে দূরে সরিয়ে রাখছে?

২২ . কেন নবনিযুক্ত পুলিশ কমিশনার বিপদবানী করেছেন যে, ইংলিশ মিডিয়াম ও মিশনারি স্কুল এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলুতে জঙ্গী হামলার সম্ভাবনা রয়েছে?

২৩. কেন প্রধানমন্ত্রী আর্মীকে বিডিয়ার হেডকোয়ার্টারে অফিসার ও তাদের পরিবারবর্গকে উদ্ধার করতে ঝাটিকা অভিযানের অনুমতি দেননি?

২৪ . সি আই ডি সাক্ষ্যপ্রমান সংগ্রহের নামে বিডিয়ার হেডকোয়ার্টার থেকে কী সরাচ্ছিল?

২৫. যখন বিডিয়ার হেডকোয়ার্টারে পুলিশদের প্রহরা দেয়ার জন্য নিয়োগ দেয়া হয়েছিল ৩০ ঘন্টারও বেশি সময় ধরে তখন পুলিশ সদস্যদের মাধ্যমে কী ধরনের সাক্ষ্যপ্রমান সরান হয়েছিল?

২৬. আত্মসমর্পনের পরও কেন সরাস্ট্রমন্ত্রী এবং অন্য সরকারদলীয় সদস্যরা ২৬ তারিখ রাতের অন্ধকারে বার বার বিডিয়ার হেডকোয়ার্টারে যাতায়াত করছিলেন?

২৭ . কেন ছাত্রলীগ নেতা লিয়াকত সিকদার ঘটনার পরথেকে পলাতক?

২৮. কেন আওামিলীগ এবং এর সমমনা দল বা প্রতিস্টহান গুলো অব্যাহতভাবে ঘটনার দোষীদের বিচার কোর্ট মার্শালের বদলে সিভিল কোর্টে হওয়ার দাবি করছে?

২৯. কেন একটি আওয়ামি পন্থি সাংবাদিক গোস্টহী ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বাংলাদেশ আর্মীর বিপক্ষে দালালি করছে এবং পিলখানা হত্যা কান্ডের বিচার সিভিল কোর্টে হওয়ার দাবি করছে?

৩০. কেন ক্ষমতাসীন্ দল ভারতের পত্রপত্রিকার সাথে সুরমিলিয়ে কথা বলছে?

বিস্ফোরক মামলায় ৭৮ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ:
বিডিআরে বিদ্রোহের ঘটনায় দণ্ডবিধি ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে পৃথক দুটি মামলা হয়। ইতিমধ্যে হত্যা মামলায় হাইকোর্টে ২০১৭ সালের নভেম্বর মাসে রায় ঘোষিত হয়েছে। তবে ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলার বিচার এখনো শেষ হয়নি। আদালত সূত্র বলছে, এ মামলার ১ হাজার ৩৪৫ জন সাক্ষীর মধ্যে মাত্র ৭৮ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়েছে।

আসামিপক্ষের আইনজীবী আমিনুল ইসলাম ও শামীম সিকদার গতকাল অভিযোগ করে বলেন, এ মামলার বিচারে বিলম্বিত হচ্ছে।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনাকারী আইনজীবী মোশাররফ হোসেন গতকাল জানান, বিস্ফোরক আইনের মামলায় ৭৮ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়েছে।

এই হত্যাযজ্ঞের বিচার প্রসঙ্গে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, ‘বিশ্ব ইতিহাসে এত লোকের বিচার হয়নি। এটা যেমন অস্বাভাবিক ঘটনা, বিচারে একটু সময় নেওয়া স্বাভাবিক ব্যাপার।’

Comments

comments