আল্লাহকে অপমান করা হয় কোনো মুসলিম কি সে অনুষ্ঠানে থাকতে পারে?

আহমেদ আফগানী

মনে করুন, আপনি বিএনপি’র কর্মী। আপনি কি পারবেন সেই অনুষ্ঠানে খুশি মনে ঘুরতে যেতে যে অনুষ্ঠানে জিয়াউর রহমানকে গালমন্দ করা হয়? অথবা জিয়ার মৃত্যু উপলক্ষে আয়োজিত আনন্দ অনুষ্ঠানে কি কোনো বিএনপি কর্মী উপস্থিত থাকতে পারবে? তার কি আত্মা কাঁপবে না?

আবার ১৫ আগস্ট শেখ মুজিবের মৃত্যু উপলক্ষে আয়োজিত আনন্দ উৎসবে কি কোনো আওয়ামী নেতা-কর্মী খুশি মনে উপস্থিত থাকতে পারবে? অথবা এমন কোন অনুষ্ঠান যেখানে মুজিবকে অপমান করা হয়?

চিন্তা করুন কোনো জামায়াতের কর্মী কি পারবে নিজামী, মুজাহিদকে অপমান করা হয় এমন জলসায় উপস্থিত থাকতে?

এই তিনটি ঘটনায় আপনার উত্তর হবে, না, তারা থাকতে পারবে না খুশি মনে। বাধ্য হলে ভিন্ন কথা।

ঠিক তেমনি যে অনুষ্ঠানে আল্লাহকে অপমান করা হয় কোনো মুসলিম কি সে অনুষ্ঠানে থাকতে পারে?

এই প্রশ্নের উত্তরও হওয়া উচিত ছিলো, পারে না। কিন্তু আমরা সবাই আজকাল আল্লাহকে অপমান করা হয় এমন অনুষ্ঠানে ঘুরতে যাই, আনন্দ করতে যাই। মজা করতে যাই। এবং বলি ধর্ম যার যার উৎসব সবার।

গুনাহের র‍্যাংকিং আছে। সবচেয়ে বড় গুনাহের নাম হলো শিরক। আল্লাহ আমাকে জীবন দিয়েছেন, লালন-পালন করছেন আর আমি আরেকজনকে ক্রেডিট দিচ্ছি, তার সামনে মাথানত করছি, এরই নাম শিরক।

আল্লাহকে অপমান করা এমন একটি গুনাহ যে গুনাহ সম্পর্কে আল্লাহ বলেছেন আমি শিরকের গুনাহ ক্ষমা করবো না।

৭১ সালে এই দেশ সেক্যুলার হওয়ার কুফলে আজ আমরা আমাদের মুসলামানিত্ব হারিয়ে ফেলেছি। আল্লাহকে অপমান করা হয় এমন অনুষ্ঠান নিয়ে আমরা উৎসব করি। আমরা বলি, ধর্ম যার যার, উৎসব সবার।

দীর্ঘদিন ধরে সেক্যুলার রাষ্ট্রে বসবাস করার ফলে হিন্দুদের পূজা অনুষ্ঠান আমাদের কাছে উৎসব মনে হয়। অনেক ইসলামী ভাবধারার লোককেও দেখা যায় খুব সুশীলগীরী ফলাতে। তারা বলে হিন্দুরা আমাদের ভাই, তাদের উৎসব আমাদের উৎসব। শিরক এখন মুসলিমদের মধ্যে গায়ে জ্বালা ধরিয়ে দেয় না।

আজকাল মুসলিমরা দলীয় নেতার অপমানে জীবন দিতে রাজি হয়ে যায়, অথচ আল্লাহর অপমানে নির্বিকার। এই নির্বিকার থাকার আরেকটি বড় কারণ হলো, এরা বুঝেই না এতে আল্লাহর অপমান হয়। কারণ সেক্যুলার রাষ্ট্রে তারা এই শিক্ষা পায় না।

শুধু শিরক নয়, র‍্যাংকিং এ উপরের দিকে থাকা সবক’টি গুনাহ আমরা সহজ করে নিয়েছি, এ যেন কোনো ব্যাপারই না। যেমন আমরা সুদের সাথে জড়িত হচ্ছি অহরহ। নামাজও পড়ি আবার সুদী ব্যাংকে চাকরি করি। সুদে লোন নিই।

আরেকটি বড় গুনাহ জেনা-ব্যাভিচার করা। সেটাকে আমরা এখন ক্রাশ বলি। নিজে বেপর্দা হয়ে চলি। মেয়ে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিই, ছবি তুলি আবার সেগুলো প্রদর্শনও করি।

আমরা মুখে ইসলামের কথা বলি আবার বিয়ের অনুষ্ঠানে বেপর্দা মেয়েদের সাথে দাঁড়িয়ে ছবি তুলি সেগুলো মানুষকে দেখাই। কতটা নির্লজ্জ আমরা!

রাস্তা-ঘাট থেকে শুরু করে টেলিভিশন, মোবাইল, অনলাইন সবখানে জেনার দোকান খুলে বসেছি। নিজের মা, বোন, স্ত্রী, সন্তান সবাইকে প্রদর্শন করে বেড়াচ্ছি।

আজকে সেক্যুলার বাংলাদেশে সবক’টি স্কুলে স্বরসতি পূজার আয়োজন করতে হচ্ছে। এটা করলে নাকি বিদ্যাবুদ্ধি বাড়ে। আউজুবিল্লাহ।

শুধু তাই নয় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়েও এই পূজার আয়োজন হয়েছে। সেখানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. হারুন-উর-রশিদ আসকারী বলেছেন,
‘জ্ঞানের কোন শেষ নেই। জ্ঞান প্রবাহমান, ঠিক স্বরস্বতীও প্রবাহমান। ধর্ম মানুষকে সুপথ প্রদর্শন করে। আর আন্তঃধর্ম সম্মেলনের মধ্য দিয়ে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। একুশ শতকের পৃথিবীকে যদি বাসযোগ্য করে গড়ে তুলতে চাই, তাহলে অন্যের জন্য ও আমাদেরকে ভাবতে হবে। তাই আসুন আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই, যেকোন মূল্যে অহিংস থাকবো। সহিংস পথ বেছে নেবো না।’

আউজুবিল্লাহ! আউজুবিল্লাহ!!

বাকী রইলো কেবল মাদ্রাসাগুলো, যেভাবে মাদ্রাসাগুলোতে ঢোল-তবলার ঢেঊ উঠেছে সেভাবে মনে হচ্ছে তারাও কিছুদিন পর পূজা করতে নেমে যাবে।

আল্লাহ আমাদের ক্ষমা করুন।

আমরা আসলে আল্লাহকে বিশ্বাস করি কেবল মুখে। প্রকৃতপক্ষে আল্লাহকে যদি বিশ্বাস করতাম তাহলে আজকে আমরা এমন আচরণ করতে পারতাম না।

হে রহমানুর রহীম আল্লাহ, তোমার ক্রোধ থেকে তুমি আমাদের রক্ষা করো।

ফেসবুক থেকে

Comments

comments