ভিটামিন এ ক্যাপসুল খেয়ে শিশু মৃত্যুর অভিযোগ

জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলায় ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ার পর সুনিত রায় নামের ১৫ মাস বয়সী একটি শিশু মারা গেছে। তবে শিশুটি ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ার কারণে মারা যায়নি বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী মো. মুরাদ হাসান। তিনি বলেছেন, অসুস্থ অবস্থায় শিশুটিকে ভিটামিন ‘এ’ খাওয়ানো হয়েছিল। পরে আবার তাকে টোফেন ওষুধ দেওয়া হয়।

গতকাল শনিবার সকালে সরকারি কর্মসূচির ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর পর ওই শিশুর বমি ও পাতলা পায়খানা শুরু হয় এবং বিকেলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মারা যায়। শিশুটি সরিষাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেরই উপসহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার (সাকমো) সুরভিত রায়ের ছেলে।

এ প্রসঙ্গে, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী মো. মুরাদ হাসান বলেন, ‘আমার নির্বাচনী এলাকা সরিষাবাড়ীতে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ার প্রেক্ষিতে কিছু শিশুর অসুস্থ হওয়ার ঘটনা শুনে আমি বিস্তারিত খোঁজ নিয়েছি। এ সময় জানতে পারি, সরিষাবাড়ী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একজন উপসহকারী স্বাস্থ্য কর্মকর্তার ১৫ মাস বয়সী ছেলেকে অসুস্থ অবস্থায় ভিটামিন এ খাওয়ানো হয়েছিল। পরে আবার তাকে টোফেন ওষুধ দেওয়া হয়। এর পরই সে অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘মৃত শিশুর বাবা আমার কাছে স্বীকার করেছেন, তাঁর নিজের ভুলের কারণেই তাঁর সন্তানের মৃত্যু ঘটেছে এবং এ ঘটনার পরে শঙ্কিত আরো কিছু অভিভাবক তাঁদের শিশুদের নিয়ে হাসপাতালে আসেন। ওই শিশুরা সবাই সুস্থ আছে। বিষয়টি এমন নয় যে ভিটামিন এ খাওয়ার ফলে ওই শিশুর মৃত্যু হয়েছে।’ তিনি জানান, এ ঘটনায় সিভিল সার্জনের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি হয়েছে এবং রাত থেকেই তারা কাজ শুরু করেছে।

স্বাস্থ্য বিভাগ ও স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, দেশব্যাপী ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে গতকাল সকাল ১১টার দিকে সরিষাবাড়ী পৌরসভার গণময়দান এলাকায় অস্থায়ী ক্যাম্পে অন্য শিশুদের সঙ্গে ডাক্তার সুরভিত রায়ের ১৫ মাস বয়সী ছেলে সুনিত রায়কে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়। বাসায় যাওয়ার পর সে থেমে থেমে বমি করতে থাকে। এরপর পাতলা পায়খানায় আক্রান্ত হয়। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে শিশুটিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে ভর্তি করার কিছুক্ষণের মধ্যেই শিশুটি মারা যায়। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাক্তার ও কর্মচারীরা প্রথমে বিষয়টি গোপন রাখার চেষ্টা করেন। ঘটনার পর জেলার সিভিল সার্জনের নেতৃত্বে ডাক্তারদের একটি বিশেষ টিম বিকেল থেকে সরিষাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পৌঁছে বমি ও পাতলা পায়খানায় আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা দিতে শুরু করে।

জামালপুরের সিভিল সার্জন ডাক্তার গৌতম রায় গত রাত পৌনে ৯টার দিকে বলেন, ‘ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ার পরই শিশু সুনিত রায়ের বমি আর পাতলা পায়খানা হয়। শিশুটি আমাদেরই এক স্টাফের সন্তান। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। কিন্তু শিশুটির অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক হওয়ায় একপর্যায়ে সে মারা যায়।’ তিনি বলেন, ‘আর কোনো শিশু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি নেই। তবে অনেক শিশুই ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ার পর অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এক শিশু মারা যাওয়ার ঘটনা জানাজানি হলে অন্য অভিভাবকদের মধ্যেও আতঙ্ক দেখা দেয়। হয়তো এ কারণেই তাঁরা তাঁদের সন্তানদের চিকিৎসা করাতে নিয়ে আসছেন। ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ার পর কী কারণে এমন হলো তা আমরা খতিয়ে দেখছি। তবে এই মুহূর্তে কিছুই বলা যাচ্ছে না।’

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ার পর কোনো কোনো শিশুর বমি হচ্ছে। আবার অনেকেরই পাতলা পায়খানা হচ্ছে। উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে শতাধিক অভিভাবক তাঁদের অসুস্থ শিশুদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যান।

Comments

comments