৩০ ডিসেম্বর ভোট ডাকাতির বাস্তব চিত্র

এই নির্বাচনে এমন অভিনব পদ্ধতিতে কয়েকটি বলয়ে কারচুপি করে যা পৃথিবীতে আগে কখনো সংগঠিত হয়নি। সাউথ এশিয়ান মনিটরের এক্সিকিউটিভ এডিটর চন্দন নন্দী তার ৩১ ডিসেম্বরের টুইটে লিখেছিলেন, “আওয়ামী লীগের ভোট ডাকাতির যন্ত্রপাতি এতোই সফল যে ঢাকায় অবস্থানরত RAW এর স্টেশন প্রধান শশী ভুষণ সিং তোমার ফলাফল দেখে বজ্রাহত , যদিও তিনি নিজেই এই পুরো প্রক্রিয়ার একটা অবিছেদ্দ্য অংশ ছিলেন”। তিনি পরবর্তীতে টুইটটা মুছে দেন।

তবে এই নির্বাচনের ভোট ডাকাতি যে একটা ব্যাপক ও বহুমাত্রিক ঘটনা ছিলো সেটা আমরা নানা প্রমাণ সহকারে দেখার চেষ্টা করবো। রাষ্ট্রীয় মেশিনারি ব্যবহার করে জনগণের ভোটের অধিকার হরণ করা একটা ভয়ানক অপরাধ।

নির্বাচন কমিশনের পক্ষপাত
নির্বাচন কমিশন প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত পক্ষপাত করে গেছে সরকারী দলের প্রতি। যখন দলগুলো মনোনয়ন পত্র বিক্রি করছিলো তখন আওয়ামী লীগ ধানমন্ডির মতো ব্যস্ত রাস্তায় দিনের পর দিন অসহনীয় জ্যাম লাগিয়ে মিছিল নিয়ে মনোনয়ন কেনার সময়ে নির্বাচন কমিশন কিছুই বলেনি। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বিক্রির শেষ দিকে যখন বিএনপি মনোনয়ন বিক্রি শুরু করলো এবং একই অবস্থা সৃষ্টি হলো বিএনপির অফিসের সামনে তখন নির্বাচন কমিশন বললো এটা নির্বাচন আচরণবিধির লঙ্ঘন

তুচ্ছ কারণে ঐক্য ফ্রন্টের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। এমনকি ক্রেডিট কার্ডের নবায়ন ফি ৬০ ডলার সমমানের অর্থ বাকী থাকার কারনে মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। তাহসিনা রুশদীর লুনা সরকারি প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে কর্মরত না থাকা সত্বেও তার প্রার্থীতা স্থগিত হয় । তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যা একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান সেখান থেকে তিনি গত ১ জুলাই ডেপুটি রেজিস্ট্রারের পদ থেকে ইস্তফা দেন। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরি বিধিমালায় রয়েছে আগের দিন চাকরি থেকে ইস্তফা দিয়ে পরের দিন সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া যাবে। অথচ আওয়ামী লীগের প্রার্থী অধ্যক্ষ ড. এনামুল হক সরদার একটি সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ হওয়া সত্বেও তার প্রার্থীতা বহাল থাকে।

ঢালাও হারে ঐক্য ফ্রন্টের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাতিল করে নির্বাচন কমিশন। সারাদেশে বিএনপির ১৪১ প্রার্থীর এবং আওয়ামী লীগের ৩টি মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। উল্লেখ্য আওয়ামী লীগের ওই তিন প্রার্থী ছিলেন বিদ্রোহী। সেই হিসাবে আওয়ামী লীগের মনোনীত কোন প্রার্থীর প্রার্থীতা বাতিল হয়নি।

পুলিশী নিপীড়ন
গত সেপ্টেম্বরে ঢাকা শহরে অস্বাভাবিক হারে নাশকতার মামলা হয়েছে ৫৭৮টি। প্রায় সব মামলার বাদী পুলিশ। এসব মামলার তথ্য বলছে, পুলিশের ওপর হামলা হয়েছে ৯০ বার। ওই মাসে উদ্ধার হয়েছে ১ হাজার ১৮৬টি ককটেল ও ৩৭০টি পেট্রলবোমা। পুলিশের ওপর এমন হামলা এবং ককটেল-পেট্রলবোমা উদ্ধারের এই সংখ্যা অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে। এত বেশী সংখ্যায় বোমা উদ্ধার হলেও মাত্র একটি ঘটনায় বম্ব ডিস্পোজাল ইউনিটকে ডাকা হয়েছিল, যদিও সব বোমা নিস্ক্রিয় করার জন্যই তাদের ডাকাটা নিয়ম। যে বছরগুলোতে শহরময় জ্বালাও-পোড়াও আর সংঘাত ছিল, তখনো পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে এর অর্ধেক মামলাও হয়নি। আর এ বছরের সেপ্টেম্বরে শহরময় পুলিশের ওপর এত হামলা, সহিংসতা হলেও কিছুই টের পায়নি ঢাকা শহরের মানুষ। জীবনযাত্রা ছিল একদম স্বাভাবিক। এসব মামলায় বিএনপির কয়েক হাজার নেতা-কর্মীকে আসামি করা হয়। এই আসামিদের ধরতে ‘বিশেষ অভিযান’ শুরু করে পুলিশ। ফলে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা শুরু হলেও বিএনপির নেতা-কর্মীরা পালিয়েই বেড়াতে হলো।তারা সুস্থভাবে তাদের নির্বাচনী প্রচারণা করতেই পারেনি।

২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে ৯০ হাজার ৩৪০টি। মামলায় আসামি করা হয়েছে ২৫ লাখ ৭০ হাজার ৫৪৭ জনকে এবং জেলহাজতে রয়েছে ৭৫ হাজার ৯২৫ নেতাকর্মী। এই ১০ বছরে হত্যা করা হয়েছে ১ হাজার ৫১২ জন বিএনপি নেতাকর্মীকে।

নির্বাচনের আগে পুলিশ ১০,৫০০ বিরোধী রাজনৈতিক কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে। বিরোধীদলের যারা নির্বাচনী এজেন্ট হতে পারে তাদের বেছে বেছে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। যেন আওয়ামী লীগের ভোট ডাকাতি নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হতে পারে।

যে সমস্ত এজেন্ট গ্রেপ্তার এড়িয়ে ভোটের দিন সকালে ভটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করতে গেছে, তাদের ভোট কেন্দ্রের ভিতরে ঢুকতে দেয়া হয়নি; কেউ ঢুকতে পারলেও তাদের বিতারণ করা হয়েছে।

আমলাদের গোপন সভা
এমন একটি আমলদের গোপন সভার খবর জানাজানি হয়ে যায় যেখানে আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে জেতানোর বিষয়ে পরিকল্পনা করা হচ্ছিলো। সেই অভিযুক্তদের মধ্যে বেশীরভাগ আমলাকেই ওই স্থানে সেদিন উপস্থিত থাকার প্রমাণ পাওয়া গিয়েছিলো।

কারচুপির প্রমাণ না রাখা
নির্বাচন কমিশন ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নিয়ে ঢোকা নিষিদ্ধ করে দেয়। ফলে ভোটের দিন কেউই মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারেনি। যারা ভোট দেয়ার ইচ্ছা নিয়ে বাসা থেকে বের হয়েছে তাদের মোবাইল ফোন বাসায় রেখে আসতে হয়েছে।

নির্বাচনের আগের দিন দুপুর থেকে সারা দেশে থ্রি জি ফোর জি সেবা বন্ধ করে দেয়া হয়। যেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কোন তথ্য তৎক্ষণাৎ কেউ শেয়ার করতে না পারে। সরকার গুজব প্রতিরোধে এই পদক্ষেপ নেয় বলে জানায়, কিন্তু আমরা কিছুদিন আগেই দেখেছি সরকারবিরোধীদের বিরুদ্ধে গুজব ছড়ানো ও অনৈতিক প্রচারণা চালানোর অভিযোগে সরকারী কর্মকর্তাদের ফেইসবুক ও টুইটার একাউন্ট রিমুভ করে দেয় ফেইসবুক ও টুইটার কর্তৃপক্ষ

নির্বাচনী প্রচারে বাধার সৃষ্টি করা
বিরোধী দলের কোন প্রার্থীকেই নির্বাচনী প্রচার চালাতে দেয়া হয়নি। নির্বাচনী প্রচারণায় ও মিছিলে পুলিশের উপস্থিতিতেই আওয়ামী লীগের গুন্ডারা হামলা করেছে। কোন ব্যানার পোস্টার লাগাতে দেয়নি। এমনকি স্কুলের গেটে একটা ধানের শীষের পোস্টার ছিলো সেই অপরাধে স্কুলের শিক্ষকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে আদালতে চালান করে। আদালত সেই শিক্ষককে জামিন না দিয়ে জেলে পাঠিয়ে দেয়।

ঐক্য ফ্রন্ট কোন পোস্টার ছাপাতে পারেনি। প্রেসগুলোকে পোস্টার না ছাপানোর হুমকি দিয়েছিলো আওয়ামী লীগের গুন্ডারা। এর পরেও যারা পোস্টার ছেপেছে তাদের পোস্টার গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন ছিনিয়ে নিয়ে গেছে।

তফসিলের পর ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী নেতা কর্মীদের উপরে হামলা হয়েছে ২৮৯৬ বার, আহত হয়েছে ১৩ হাজার জন, নিহত হয়েছে ৯ জন, কারাগারে নেয়া হয়েছে ১৬ জন প্রার্থীকে। ৫০ জন প্রার্থী মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন। কোন আসনেই নির্বাচনী প্রচার চালানো যায়নি। নমুনা হিসেবে কয়েকটি আক্রমনের ভিডিও ও বর্নণা দেয়া হলো নিচের লিঙ্কগুলোতে। এই হামলাগুলি থেকে বর্ষীয়ান নেতা, নারী প্রার্থী ও কর্মীদেরও রেহাই দেয়া হয়নি।

আদালতের মাধ্যমে প্রার্থিতা বাতিল
জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ১৩ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয় ফলে এই ১৩ আসনে জোট প্রার্থীশূন্য হয়ে যায়।এসব আসনের বাতিল হওয়া প্রার্থীদের অধিকাংশই উপজেলা চেয়ারম্যান পদে থেকে পদত্যাগপত্র দিয়েছিলেন সেই পদত্যাগপত্র গ্রহন করতে স্থানীয় সরকার ঢিলেমি করে। যুক্তি দেয়া হয় পদত্যাগপত্র গৃহীত হওয়ার আগেই তারা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। প্রশ্ন হচ্ছে, পদত্যাগপত্র গ্রহন করানোটা কি প্রার্থীর দায়িত্ব নাকি পদত্যাগ করা প্রার্থীর দায়িত্ব?

বিএনপি ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে গেলে মাটিতে পুতে ফেলা সহ মারধরের হুমকি
সারাদেশেই আওয়ামী লীগের নানা কর্মীসভায় মন্ত্রীসহ আওয়ামী লীগের নেতাদের কর্মীদের নানা নির্দেশনা দিতে দেখা যায়, কীভাবে ঐক্যফ্রন্টের ভোটার, নেতা কর্মি সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা দেয়া হবে। যারা আওয়ামী লীগের ভোটার নয় তারা যেন ভোটকেন্দ্রে না যায় সেইজন্য একজন এমপিকেও প্রকাশ্যে হুমকি দিতে দেখা যায়। কয়েকটি ঘটনার ভিডিও ও বর্নণা লিংকে যুক্ত করা হল।

সকল ঘটনার ভিডিও দেখুন: ঘটনা ১ ঘটনা ২ ঘটনা ৩ ঘটনা ৪ ঘটনা ৫ ঘটনা ৬ ঘটনা ৭ ঘটনা ৮ ঘটনা ৯

পুলিশের পোশাক পরে নির্বাচনী প্রচারণা

থানার ওসি ও অন্যান্য পুলিশ অফিসার নৌকার পক্ষে প্রচার চালানোর দুইটি প্রমান লিংক ও ছবিতে দেয়া হল নিচে।
ভিডিওটি দেখুন:  প্রকাশ্যে নৌকায় ভোট চাওয়া সাতক্ষীরার সেই ওসির ভিডিও ভাইরাল

ছবিতে দেখা যাচ্ছে ঢাকা-১৯ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ডাঃ এনামুর রহমানের নির্বাচনী সভার মধ্যমণি একজন সাব ইন্সপেক্টর

নির্বাচনী পর্যবেক্ষক আসতে বাধা দেয়া

নির্বাচন অনুষ্ঠানের আগেই বুঝতে পারা যায়, পর্যবেক্ষকের সংখ্যা অস্বাভাবিক হারে কমে গেছে। এবার সব মিলিয়ে বাংলাদেশের ৮১টি প্রতিষ্ঠানের ২৫ হাজার ৯২০ জন পর্যবেক্ষককে নির্বাচন পর্যবেক্ষণের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই সংখ্যা ২০০১ সালের নির্বাচনের তুলনায় আট ভাগের এক ভাগ এবং ২০০৮ সালের তুলনায় ছয় ভাগের এক ভাগ কম।

আন্তর্জাতিক কোনো পর্যবেক্ষক সংস্থা আদৌ এই নির্বাচন পর্যবেক্ষণের সুযোগ পায়নি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বেশির ভাগ আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ভিসা না পাওয়ায় ব্যাংককভিত্তিক নির্বাচন পর্যবেক্ষণ সংস্থা এনফ্রেল নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন বাতিল করে।

ভুয়া পর্যবেক্ষন সংস্থা বানিয়ে তাদের দিয়ে নিরপেক্ষ নির্বাচনের সার্টিফিকেট নেয়া হয়েছে। যেই পর্যবেক্ষন সংস্থার চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য প্রার্থী।

রাতেই ভোটকেন্দ্রগুলোতে ব্যালট বাক্স পুর্ণ করা হয়
ভোটের দিনের আগের রাতে নিশ্চিদ্র নিরাপত্তার মধ্যে ব্যালটবাক্স গুলো পুর্ণ করার ঘটনা ঘটতে থাকে। ভোট বাক্স পুর্ণ করে এসে কেউ কেউ জনতার হাতে ধরা পরে স্বীকারোক্তি দেয়।রাতেই ৩০-৫০% ভোট ব্যালট বাক্সে পুর্ন করা হয় বলে জানা যায়।

একারনেই খুলনা ১ আসনে মোট ভোটারের চাইতে ২২,৪১৯ টা ভোট বেশী পড়েছে। এই সংবাদ মানবজমিনে প্রকাশিত হবার ২০ ঘন্টা পরে সংবাদিটি অনলাইন থেকে মুছে দেয়া হয়। ডয়েচে ভেলে সেই ভোট ঘোষনার ভিডিও পরে অনলাইনে ছেড়ে দেয়।

গনসংহতি আন্দোলনের এক জনপ্রিয় তরুন নেতা যিনি একজন লড়াকু বামপন্থী বলে পরিচিত তার প্রাপ্ত ভোট হয় শুন্য।

পরদিন সকালে ভোট শুরু হওয়ার আগেই পুর্ন ব্যালট বাক্স বিবিসির ক্যামেরায় ধরা পড়ে।

কেন্দ্রে ঐক্যফ্রন্ট সহ বিরোধীদলের এজেন্টদের ঢুকতে বাধা দেয়া হয়

যারা বাধা এড়িয়ে ঢোকে তাদের বের করে দেয়া হয়। নির্বাচন কমিশনে ২২১ টি আসনে এজেন্টদের বের করে দেয়ার অভিযোগ জমা হয়। এই অভিযোগ সত্ত্বেও প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, এজেন্ট না এলে কী করার আছে?

রাতে বাক্স ভর্তি করার পরে যেটুকু ব্যালট পেপার বাকী থাকে তা অনেক কেন্দ্রে বারোটার মধ্যেই ছাপ দিয়ে বাক্সে ভরে সকল ব্যালট পেপার শুন্য করে ফেলা হয়।

ভোটের প্রসেস ধীর করে দেয়া হয়
নির্বাচনী আইন অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন সকাল ৮ টা থেকে বিকেল ৪ টা পর্যন্ত নিরবিচ্ছিন্ন ভোট গ্রহণ করবে। অথচ ঢাকা ৭ আসনে তিনটি কেন্দ্রে মধ্যাহ্নভোজের কথা বলে ভোট নেওয়া হচ্ছে না, ভোটার ও সাংবাদিকদের দূরে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ভোটকেন্দ্রের দরজা বন্ধ করে ভিতরে কারচুপির ভোট দেয়া হয়। সাংবাদিকদের কেন্দ্রে ঢূকতে দেয়া হয়নি। ভোট দিতে গিয়ে দেয়া হয়ে গেছে দেখে ফেরত আসা, জোর করে আরেকজনের ভোট নিজে দিয়ে দেয়া, ইভিএমেও যে একজনের আঙুলের ছাপ আরেকজনের দেয়া সম্ভব, তা প্রমাণ হওয়া, পুলিশ এমনকি সেনাবাহিনীর কাছে বিচার দেয়ার পর আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তা বেমালুম এড়িয়ে যাওয়া, এর সবকিছুরই ভিডিও ফুটেজ ঘুরে বেড়াচ্ছে ফেসবুকে। ভোটারেরা ভোট কেন্দ্রে ঢূকতে না পেরে ভোট দিতে না পারলে ভোটাররেরা হইচই করলে সেখানে তাদের বিজিবি মাইকে ঘরে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। ভিতরে চলে জাল ভোটের উতসব। কেন্দ্র সারাদিন ফাকা থাকলেও ভোট বাক্স ব্যালটে ভরাদেখা যায়।

এজেন্টের সামনে সিল মারতে বাধ্য করার দৃশ্য
ভোট কেন্দ্রে যারা ভোট দিতে ঢোকে তাদের কাউকে কাউকে হাতে অমোচনীয় কালি লাগিয়ে ব্যালট পেপার না দিয়েই বলে দেয়া হয় ভোট হয়ে গেছে চলে যান। যারা এরপরেও ব্যালট পেপার চান তাদের নৌকার এজেন্টদের সামনেই ব্যলট পেপারে নৌকায় সিল দিতে বাধ্য করা হয়। ভোটারদের ভোট ঢুকতে গেলে আওয়ামী লীগের গুণ্ডারা ভোটারদের ঢুকতে বাধা দেয়।

ভোটারেরা আক্রান্ত হয়ে টহলরত সেনাবাহিনীর সাহায্য চাইলেও সেনাবাহিনী কোন সাহায্য না করে দ্রুত স্থান ত্যাগ করে।

রাষ্ট্র যন্ত্রকে ব্যবহার করে জনগনের সার্বভৌম অধিকারকে হরণ করা একটি সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় অপরাধ। এই অপরাধ রাষ্ট্রদ্রোহের তুল্য। এই অপরাধ সামান্য ভোট ডাকাতির নয় বরং রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে রাষ্ট্রের মালিক জনগনের বিরুদ্ধে এক সুসংগঠিত অপরাধ।

 

Comments

comments