ছেলেরা পিটিয়ে কপাল ফাটাল বাবার, নির্বিকার পুলিশ

সম্পত্তি লিখে দিতে হবে। এই অন্যায় আবদার না মানায় বেধড়ক মারধর করা হলো এক বৃদ্ধকে। মারের চোটে অসহায় বৃদ্ধ বাধ্য হলেন রাস্তায় নেমে আসতে। আপাতত তার ঠাঁই হয়েছে এক বন্ধুর বাড়িতে।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ঘটনা এটি। নদিয়ার শান্তিপুরের ফুলিয়া এলাকার বাসিন্দা ৬৫ বছর বয়সি খোকন চন্দ্রপেশায় তাঁতশিল্পী।

বর্তমানে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ায় খোকন চন্দ্র দাসের চিকিৎসার জন্য অর্থের প্রয়োজন হয়। তিনি অভিযোগ করে বলেন, চিকিৎসার জন্য ছেলেদের কাছ থেকে অর্থ সাহায্য না পেয়ে অর্থের প্রয়োজনে বাড়ি বিক্রি করতে চাইলে, তার দুই ছেলের সঙ্গে বিবাদ তৈরি হয়। বাড়ি নিজেদের নামে লিখে দেয়ার জন্য পিতার ওপর চাপ সৃষ্টি করতে থাকে দুই ছেলে।

সেই দাবি না মানায় তার দুই ছেলে খোকনবাবুকে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করে। দিনের পর দিন এই শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে প্রশাসনের দ্বারস্থ হন ওই বৃদ্ধ।

বৃদ্ধের অভিযোগ, প্রতিবার অভিযোগ পেয়ে পুলিশ বৃদ্ধের বাড়ি গেলেও অভিযুক্ত দুই ছেলের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। ফলে বৃদ্ধের ওপর ছেলেদের অত্যাচার বন্ধ হওয়ার বদলে তা ক্রমাগত বেড়েছ।

গত রবিবার আবার ছেলেদের অত্যাচারের কথা শান্তিপুর থানায় জানালে, পুলিশ খোকনবাবুর বাড়ি যায়। পুলিশের কাছে সাহায্য চাইতে যাওয়া ও বাড়িতে পুলিশ ডাকার অপরাধেই মঙ্গলবার দুপুরে ও রাতেও ওই বৃদ্ধকে ব্যাপক মারধর করে তার ছেলেরা। সেই রাতেই কোনও ক্রমে দুই ছেলের হাত থেকে রেহাই পেতে বাড়ি থেকে পালিয়ে চিকিৎসার জন্য স্থানীয় হাসপাতালে যান বৃদ্ধ।

বুধবার আবার শান্তিপুর থানায় অভিযোগ জানিয়েছেন বৃদ্ধ খোকনচন্দ্র দাস। এখন পুলিশ আদৌ অভিযুক্ত ছেলেদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা গ্রহণ করে কিনা সেই দিকেই তাকিয়ে অসহায় ওই বৃদ্ধ।

সূত্র : এবেলা.ই

Comments

comments