পুড়ে যাওয়া স্বপ্ন বুনতে ‘উচ্ছ্বাস টেইলার্স’

নাইফা উনাইসা

মুন্নি আক্তার। একজন সেলাই দিদিমণি। বসবাস ছিল মিরপুর ১২ নম্বরে মোল্লা বস্তিতে। স্বামী রিকশাচালক। গত বছরের আগুনঝরা ফাগুন (মার্চ) মাসে সৃষ্ট ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে ছাই হয়ে যায় মোল্লা বস্তির হাজার হাজার ঘর। সেই আগুনে পুড়ে ছাই হয়েছিল মুন্নির সব স্বপ্ন। ঘরের নিত্যপ্রয়োজনীয় মালপত্রের সঙ্গে প্রতিদিনের কষ্টার্জিত অর্থ থেকে একটু একটু করে জমানো ১২ হাজার টাকাও পুড়ে গিয়েছিল সেদিন।

পুড়ে যাওয়া বাসস্থানের ছাই মাড়িয়ে বেরিয়ে পড়েছিলেন মাথা গোঁজার জন্য নতুন ঠাঁইয়ের সন্ধানে। গত বছরের নভেম্বরেই আরেকটি বস্তিতে নতুন বাসা নেন মুন্নি। এরই মধ্যে চাকরিটাও হারাতে হয়েছে তাকে। সব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে যাওয়া মুন্নির দিনগুলো কাটছিল বর্ণনাতীত কষ্টের মধ্য দিয়ে। শুধু মুন্নি নন, সেদিন পুড়ে গিয়েছিল বস্তির হাজারো ঘর; সেই সঙ্গে পুড়েছে ২৫ হাজারেরও বেশি মানুষের বেঁচে থাকার অবলম্বন; পুড়েছে হাজারো স্বপ্ন।

মুন্নিদের নিরুত্তাপ জীবনের উষ্ণতা হয়ে হাজির হয়েছে ‘উচ্ছ্বাস টেইলার্স’, যেখানে আবারও স্বপ্নের বীজ বুনতে শুরু করেছে তারা। মিরপুর-১২ নম্বরের মোল্লা বস্তিতে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে যাওয়া নারীদের জীবিকা নির্বাহের জন্য একটি টেকসই মাধ্যম নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশের প্রথম বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইপিডিসি ফাইন্যান্স লিমিটেড এবং বাংলাদেশ সরকারের নিবন্ধিত সংগঠন অভিযাত্রিক ফাউন্ডেশন একটি বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করে। এই উদ্যোগের আওতায় ‘অভিযাত্রিক ফাউন্ডেশন সক্ষম’ প্রকল্পের অধীনে বস্তি থেকে নির্বাচিত নারীদের বিনামূল্যে তিন মাস মেয়াদি সেলাই প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। সেলাই প্রশিক্ষণের পর মিরপুরে মোল্লা বস্তির নারীদের হাতে সেলাই মেশিন তুলে দিয়েছে আইপিডিসি ও অভিযাত্রিক। এসব নারী এখন একই ছাদের নিচে একসঙ্গে সেলাই কাজ করছেন, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘উচ্ছ্বাস টেইলার্স’।

মুন্নিও উচ্ছ্বাস টেইলার্সের কারিগরদের একজন, এখন তিনি এখানে কাটিং, সেলাই সব কাজই করেন। আগের তুলনায় আয়ও বেড়েছে। কিছুদিন পর নতুনদের নিজেই সেলাইয়ের প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করবেন। শুধু মুন্নি নন, জীবনে আবারও উচ্ছ্বাস ফিরিয়ে আনতে সেলাই মেশিন হাতে নতুন উদ্যমে জীবনযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন নুরজাহান, সুমি, স্বর্ণালিসহ আরও অনেক নারী। তাদের একটিই স্বপ্ন- জীবনে উচ্ছ্বাস ফিরে আসবে আবার।

Comments

comments