শেখ হাসিনাকে জনতার কমেন্ট ধোলাই

ড. কামাল হোসেন জামায়াত সম্পর্কে প্রশ্ন করায় সাংবাদিকদের খামোশ বলার প্রতিক্রিয়ায় “খামোশ বললেই মানুষের মুখ বন্ধ হবে না” বলে বক্তব্য রাখেন শেখ হাসিনা। বিডি নিউজের ফেসবুক পেজে এই সংবাদ প্রকাশ করা হলে সেখানে কমেন্টে শেখ হাসিনাকে ধোলাই দেয় জনগণ।

পায়েল রহমান লিখেছেন- “মানুষের মুখ কি দিয়ে বন্ধ করতে হবে সেটা তো আপনিই সবচেয়ে ভাল জানেন, খামোশ বলে মানুষের মুখ বন্ধ করা যাবেনা। আপনার মত প্রথমে পুলিশ আর ছাত্রলীগের গুন্ডাদেরকে লেলিয়ে দিতে হবে, সেটায় কাজ না হলে মামলা দিয়ে রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন করতে হবে, তাতেইও যদি কাজ না হয় তাহলে গোপালী পুলিশ দিয়ে রাতে অন্ধকারে উঠিয়ে নিয়ে হত্যা করে লাশ নদীতে ফেলে দিতে হবে, আর এই কাজটাই আপনি দশবছর যাবত করে যাচ্ছেন মানুষের মুখ বন্ধ করার জন্য, সুতরাং এ বিষয়ে আপনার থেকে আর কারো ভাল জানার কথা না।”

রিদওয়ান জামান মন্তব্য করেন- “আপনাকে হেফাজত নিয়ে এই রকম প্রশ্ন করলে তো ঐ সাংবাদিককে আজীবনের জন্য খামোশ করে দিতেন। ঐ পত্রিকা অফিসে তালা ঝুলায়া দিতেন আর মানহানির মামলা দিয়ে বার্তা-সম্পাদককে আদালত প্রাংগনে লগি-বৈঠা দিয়ে রক্তাক্ত করে বলতেন, আইন বিভাগ স্বাধীন!”

আনন্দ লিখেন- “তুই হইলি শ্রেষ্ঠ বেহায়া, মিথ্যাবাদি। জামায়াত যখন তোর সাথে ছিল তখন ছিল তোর বন্ধু, তোর সঙ্গ ছাড়ছে আর হয়ে গেছে রাজাকার। হেফাজত ছিল তেঁতুল টক, তোর সাথে যোগ দেওয়ায় তেঁতুল হয়ে গেছে মিষ্টি।”

মুজিবর রহমান লিখেন- “বাংলাদেশে স্বাধীনতা বিরোধী বলে কিছু নাই। আছে স্বাধীনতার আদর্শ বিরোধী। গণতন্ত্রহীনতা ও স্বৈরাচারীতাই একমাত্র স্বাধীনতার আদর্শ বিরোধী। হাতুড়িতন্ত্র , গুমখুনতন্ত্র, হামলা ও মামলাতন্ত্রই হচ্ছে স্বাধীনতার আদর্শ বিরোধী। আর এসব করে বাংলাদেশে একমাত্র আওয়মীলীগই হচ্ছে এখন একমাত্র স্বাধীনতার আদর্শ বিরোধী দল।”

মাজনুর রহমান বলেন- “চেতনা ব্যবসায়ীরাই আসল রাজাকার”।

মহিউদ্দিন লিখেন- “অর্থমন্ত্রী রাবিশ বললে সমস্যা নাই। নাসিম ওসমান ‘সাংবাদিকরা সব ‘খা***র পোলা’ বললে সমস্যা নাই।  আর কামাল হোসেন শহীদ মিনারের বাইরে প্রশ্ন করতে বলার পরেও সেই শহীদ মিনারেই প্রশ্ন করতে থাকার প্রেক্ষিতে ‘খামোশ’ বললেই সমস্যা! কি গনতন্ত্র রে বাবা!”

এম এইচ মৃদুল লিখেন- “খামোশ নজরে পড়লো, হামলা করে মাথা ফাটিয়ে দেওয়া নজরে পড়লো না। বাহ! আপনিই সেরা।”

জীবন লিখেন- “বিনা ভোটে একবার ক্ষমতায় এসেছি, আরও কয়েকবার আসতে চাই, জনগণ ভোট দিলে দেবে না দিলে নাই, আমিই পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী, আমার আবার এতো ক্ষমতার লোভ নাই।”

রাকিবুল হাসান মন্তব্য করেন, “প্রধানমন্ত্রীর কাছে সাংবাদিকদের না বলা প্রশ্ন সমূহ :
নির্বাচনে আওমীলীগের জরিপে ৬৬% ভোট পাবে বলছে সজীব ওয়াজেদ জয়! এতো বিপুল হারে জিতলে কেন এইভাবে বিরোধী প্রার্থীদের উপর হামলা হচ্ছে? কেন পুলিশ এতো এতো বিএনপি নেতা কর্মীদের গণগ্রেফতার করছে? এখনো প্রশাসন এতো মরিয়া? কেন নিরেপেক্ষ নির্বাচন দিতে ভয় পাচ্ছে সরকার?”

ইমাম হাসান লিখেন- “আপনি মানুন আর নাই মানুন, সে আপনার ব্যাপার। কিন্তু চরম সত্যি হচ্ছে আজকের বাংলাদেশে কুকুরেরর প্রতি মানুষের যতোটা ভালোবাসা আছে, তার সিকিভাগ ভালোবাসাও নেই আপনার তথা আওয়ামীলীগের প্রতি এবং এর জন্য আওয়ামীলীগ দায়ী নয়, এর জন্য দায়ী আপনার ক্ষমতার লোভ।”

শামসুল হক লিখেন- “ম্যাডাম, ড. কামাল এখন এ দেশের আপামর সাধারণ মানুষের কাছে মুক্তির অগ্রদূত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দেশ ও জনগণের কল্যাণ ও অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি অগণতান্ত্রিক, কর্তৃত্ব পরায়ন অপশক্তিকে বিতাড়ন করে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য নির্মোহভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। আর এ জাতি উনার ডাকে সাড়া দিয়ে উনার পিছনে সমবেত হয়েছে। দু’চার জন ভাড়া করা সাংবাদিক দিয়ে উলটা পালটা প্রশ্ন করে উনার আকাশ ছোঁয়া জনপ্রিয়তায় ধ্বস নামানো যাবে না।”

বনিক দত্ত লিখেন- “কোন হলুদ সাংবাদিক প্রধানমন্ত্রী কে কি প্রশ্ন করতে পারবে যে, জাতির জনককে হত্যার পর ট্যাংকে উঠে উল্লাসকারী হাসানুল হক ইনু কিভাবে মহাজোটে থেকে মন্ত্রীত্ব পায়? বঙ্গবন্ধুর চামড়া দিয়ে যে ডুগডুগি বাজাতে চেয়েছিলো সেই মতিয়া চৌধুরী কিভাবে বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগে স্থান পায়?”

শামীম জুয়েল মন্তব্য করেন- “এরা তো আপনার দলের লোকদের মতো করে খবিশ রাবিশ বাস্টার্ড বলতে পারে না, শুধু খামোশ পর্যন্ত শিখেছে।”

মোহাম্মদ ইয়াসিন লিখেন- “ঠিকই কইছেন, মানুষের মুখ বন্ধ করতে হবে লগি-বৈঠা দিয়ে।”

কামরুল ইসলাম মন্তব্য করেন, “তাহলে কি আপনাদের মতো গুম করতে হবে?”

ফেসবুকে মন্তব্যের জের ধরে বিভিন্ন সময়ে গ্রেফতার, মামলা, বিচার হওয়ার পরেও এভাবে কমেন্ট ধোলাইয়ে বিব্রত আওয়ামী লীগ। জনতার মন্তব্যে আ. লীগের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হরণের যে ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে তা সত্যিই উদ্বেগজনক।

Comments

comments