দিনাজপুর-১: আওয়ামীলীগে কোন্দল, জোট ভিত্তিতে এগিয়ে জামায়াতের মোহাম্মদ হানিফ

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে দিনাজপুর-১ (বীরগঞ্জ-কাহারোল) নির্বাচনী এলাকায় ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগে কোন্দল মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে। বর্তমান সংসদ সদস্য ছাড়াও তাদের একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী মাঠে নেমেছেন। এলাকা ঘুরে সংসদ সদস্য মনোরঞ্জন শীল গোপালের সমর্থন ও বিরোধিতায় দুই ধরনের চিত্র পাওয়া গেছে। আওয়ামী লীগের এক পক্ষ মনে করছেন, আগামী নির্বাচনে এ আসনে নতুন প্রার্থী না দিলে দল হেরে যাবে।

বর্তমান সংসদ সদস্য মনোরঞ্জন শীল গোপালের বিরোধী আওয়ামীলীগের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দলীয় নেতা-কর্মীর সঙ্গে তাঁর দূরত্ব তৈরি হয়েছে। দিন দিন তাঁর সঙ্গে বিরোধ বাড়ছে। অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ছাড়াও স্থানীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করেছেন বলে মনোরঞ্জন শীল গোপালের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন তারা। সে কারণে আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন পাওয়া নিয়ে তাঁকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হতে পারে। অনেকে এমন কথাও বলেছেন, বর্তমানে এ আসনে আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ নয়, বিভক্ত হয়ে পড়েছে, তৈরি হয়েছে গ্রুপ। এ আসনে এবার প্রার্থী বদল না করা হলে আসনটি হাত ছাড়া হয়ে যেতে পারে।

দিনাজপুর-১ আসনটি মূলত পরিচিত ছিল জামায়াতের দুর্গ হিসেবে। জাতীয় সংসদের এ আসনটিতে ২০০১ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন জামায়াত নেতা আব্দুল্লাহ আল কাফী। মেয়াদকাল শেষ হওয়ার আগেই তিনি মারা যান। ওই সময় উপনির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মনোরঞ্জন শীল গোপাল। তিনি একসময় ছিলেন জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) এর নেতা পরে যোগ দেন আওয়ামী লীগে।

সাবেক এমপি জামায়াত নেতা মরহুম অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল কাফীর মৃত্যুর পর জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ বীরগঞ্জ শাখার ২৫ বছরের উপজেলা আমীর ও পৌর মেয়র আলহাজ্ব মাওঃ মোহাম্মদ হানিফ আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের দলীয় প্রার্থী। তিনি একজন শক্তিশালী প্রার্থী। ইতিমধ্যে তার পক্ষে মনোনয়ন সংগ্রহ করা হয়েছে।

জানা যায়, তিনি গত ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চার দলীয় জোট প্রার্থী হিসাবে প্রতিদ্বন্ধিতা করে সামান্য ভোটের ব্যবধানে আ’লীগ প্রার্থীর কাছে পরাজিত হয়েছিলেন। তবে বর্তমান ২৩ দলীয় জোটে তার বিকল্প শক্তিশালী প্রার্থী নেই।

ইতিমধ্যে তিনি দলীয় লোকজনকে নিয়ে মাঠে কাজ শুরু করেছেন। তিনি ২৩ দলীয় জোটের একক প্রার্থী হওয়ার ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী। যদি জামায়াত নেতা মোহাম্মদ হানিফ জোটের প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করেন তাহলে বিএনপি-জামায়াতের পাশাপাশি এবার নৌকার ভোটও জোটের বাক্সে পড়বে বলে তারা মনে করছেন।

Comments

comments