ঢাকা-১৫: কোন্দলে জর্জরিত আ’লীগ, সম্ভাবনা জামায়াতের

বিশেষ প্রতিনিধিঃ

রাজধানীর মিরপুর, কাফরুল, ভাসানটেক, শেরে-বাংলা নগর থানার আংশিক ও ঢাকা উত্তর সিটির ৪, ১৩, ১৪ ও ১৬ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত আসন ঢাকা-১৫। জনবহুল এ আসনে ভোটার সংখ্যা প্রায় সাড়ে তিন লাখ।

রাজধানী ঢাকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় আসন ঢাকা-১৫। বিএনপির সর্বশেষ অংশ নেয়া নির্বাচনে এই আসনে দলের প্রার্থী উইং কমান্ডার হামিদুল্লাহ খান। তিনি পরাজিত হন আওয়ামী লীগের কামাল আহমেদ মজুমদারের কাছে। হামিদুল্লাহ খান প্রবীণ ও শক্তিশালী নেতা হওয়ার পরও ২০০৮ সালের নির্বাচনে পরাজিত হন। অবশ্য ২০০৮ এর নির্বাচনকে বিএনপি এখনো পাতানো নির্বাচন মনে করে।

এই আসনে ২৩ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক জামায়াতে ইসলামী বরাবরই শক্তিশালী। এখানে জামায়াতের অনেকগুলো প্রতিষ্ঠান রয়েছে। জামায়াতের বিভিন্ন সূত্র নিশ্চিত করেছে এই আসনে তাদের জনশক্তি ঢাকার মধ্যে সবচাইতে বেশি। মূলত এই আসনে জামায়াতের হেভিওয়েট প্রার্থী ছিল মীর কাসেম আলী। মানবতাবিরোধী অপরাধের ইস্যুতে আওয়ামী সরকার তার ফাঁসী কার্যকর করে।

২০০৮ এর নির্বাচনে প্রবীণ প্রার্থী হিসেবে জামায়াত হামিদুল্লাহ খানকে সমর্থন দেন। মীর কাসেম আলী ও হামিদুল্লাহ খান দুজনই ইন্তেকাল করেছেন। তাই এবার শুরু থেকেই এই আসনে জামায়াত কাজ করে আসছিলো। এই আসনে কে হবেন বিএনপির নতুন প্রার্থী তা নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা চললেও বিএনপি তাদের প্রার্থী ঠিক করতে পারেনি।

জামায়াতে ইসলামী তাদের এই শক্তিশালী এলাকায় ডা. শফিকুর রহমানকে মনোনীত করেছে। ডা. শফিকুর রহমান প্রার্থী থাকায় জোটের রাজনীতিতে জামায়াত এগিয়ে আছে। ডা. শফিকুর রহমান জামায়াতের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল এবং ক্লিন ইমেজের মানুষ। মিরপুর-কাফরুল এলাকায় তার গ্রহনযোগ্যতা ব্যাপক। ২৩ দলীয় জোটের অনেকগুলো সূত্র আমাদের নিশ্চিত করেছে ডা. শফিকুর রহমানই ২৩ দলীয় জোটের প্রার্থী হতে যাচ্ছেন।

এই আসনে আওয়ামীলীগের মধ্যে কোন্দল বেশি। তাই এখানে সংঘর্ষের শঙ্কাটাও থাকে বেশি। আগামী নির্বাচনে এরইমধ্যে আওয়ামী লীগের চার হেভিওয়েট প্রার্থী মনোনয়ন ফরম কিনেছেন। তারা হলেন, বর্তমান এমপি কামাল আহমেদ মজুমদার, ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সভাপতি মাইনুল হোসেন খান নিখিল, স্বেচ্ছাসেবকলীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক গাজী মেজবাউল হোসেন সাচ্চু ও এম সাইফুল্লাহ সাইফুল। এ ছাড়া আরো কয়েকজন মনোনয়ন ফরম কিনেছেন বলে জানান স্থানীয়রা।

স্থানীয় আওয়ামী লীগের কয়েক নেতা জানান, বর্তমান এমপির জনসম্পৃক্ততা আগের মতো নেই। অসুস্থ ও দলীয় গ্রুপিংয়ের কারণে তিনি অনেকটা নীরবে নিভৃতে থাকেন। অন্যদিকে মাইনুল হোসেন খান নিখিল ও মেজবাউল ইসলাম সাচ্চু সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী। কিন্তু তৃণমূল জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ততা কম। আরেক প্রার্থী সাইফুল্লাহ সাইফুলের সাংগঠনিক তৎপরতা কম তবে স্থানীয় হিসেবে জনসম্পৃক্ততা রয়েছে।

আওয়ামী লীগের পক্ষে দীর্ঘদিন ধরে এ আসনের এমপি কামাল আহমেদ মজুমদার। প্রায় একতরফাভাবে প্রতিবারই তিনি এখান থেকে মনোনয়ন লাভ করেন। এবার বিনাযুদ্ধে ছাড় পাচ্ছেন না প্রবীণ এই নেতা। তার পক্ষে-বিপক্ষে রয়েছে নানা প্রচারণা। তার পক্ষের লোকজনের কথা, দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতি করায় এলাকার মানুষের কাছে পরিচিত। মিরপুরে তার অবদান অনেক। এমন কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মাদরাসা বা মন্দির নেই যেখানে তিনি অনুদান দেননি। কিন্তু এসব কথা মানতে নারাজ খোদ আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরাই।

এখানে বিএনপি’র কোন আলোচিত প্রার্থী না থাকায় একতরফাভাবে জামায়াতের গ্রহনযোগ্যতা রয়েছে ২৩ দলীয় জোটে। তাই ধারণা করা হচ্ছে ঢাকা ১৫ আসনে মূলত লড়াই হবে আওয়ামীলীগ ও জামায়াতের মধ্যেই। কোন্দলে জর্জরিত আওয়ামীলীগের চাইতে সবদিক থেকে এগিয়ে রয়েছে জামায়াতের প্রার্থী ডা. শফিকুর রহমান। জামায়াত কখনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করলেও এবার জামায়াতের খুব সম্ভাবনা রয়েছে এমনটাই ধারণা করছেন এলাকাবাসী।

Comments

comments