জামায়াতকে ৪৫ আসন দেওয়ার ইঙ্গিত খালেদা জিয়ার

বিএনপির কাছে ৭০ আসন চেয়েছে জামায়াতে ইসলামী। যুদ্ধাপরাধের দায়ে নির্বাচন কমিশন থেকে নিবন্ধন বাতিল হওয়ায় ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটির কেন্দ্রীয় কমিটি।

আর এই আসন ভাগাভাগি নিয়ে টানা পোড়ন চলছে বিএনপি-জামায়াতের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের মধ্যে। বিএনপি সূত্র জানিয়েছে , কারান্তরীণ চেয়ারপার্সন বেগম জিয়া জামায়াতকে অনধিক ৪৫ টি আসন দেয়ার বিষয়ে মির্জা ফখরুলকে সবুজ সংকেত দিয়েছেন।

যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত করার কারণে ইতিমধ্যে জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন আর এই কারণে নিজেদের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে নির্বাচন করার সুযোগ নেই দলটির।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ বলেন, জামায়াতকে খুব বেশি বঞ্চিত করা ঠিক হবে না। যেহেতু তারা মার্কা নিয়ে নির্বাচন করতে পারবে না, আমরা তাদের অন্যভাবে সরকারে এলে পুরস্কৃত করবো। ঐসব ঐক্য দিয়ে কিছু হবে না।

১৯৯১ সালে জামায়াত পেয়েছিলো ১৭ টি আসন, ঐসব আসনে বিএনপি কোন প্রার্থী দেয়নি। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে বিএনপি সব আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলো। আর জামায়াত পেয়েছিলো ৩ টি আসন। ২০০১ সালে এসে বিএনপির সাথে জোট করে ৩৩ টি আসনে জয়ী হয়। ৫টি সংরক্ষিত আসনে মহিলা এমপি পায় এবং সরকারের দুটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পায় জামায়াত।

এরই মধ্যে গতকাল ও আজ মিলিয়ে জামায়াতের বেশ কয়েকজন প্রার্থী স্বতন্ত্র মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করেছেন। এবং নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় সক্রিয় রয়েছেন। গতকাল ও আজ মিলিয়ে এ পর্যন্ত যারা মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করেছেন তারা হলেন- ঠাকুরগাঁও-২ (বালিয়াডাঙ্গী-হরিপুর) আসনে মাওলানা আব্দুল হাকিম, দিনাজপুর-১ (বীরগঞ্জ-কাহারোল)আসনে মাওলানা আবু হানিফ, দিনাজপুর-৪ (খানসামা-চিরিরবন্দর) আসনে মাও আফতাব উদ্দিন মোল্লা, দিনাজপুর-৬ (নবাবগঞ্জ-বিরামপুর-হাকিমপুর-ঘোড়াঘাট)আসনে আনোয়ারুল ইসলাম, নীলফামারী-১ আসনে মাওলানা আব্দুস সাত্তার, গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনে অধ্যাপক মাজেদুর রহমান, গাইবান্ধা-৩ (সাদুল্যাপুর-পলাশবাড়ী) আসনে মাওলানা নজরুল ইসলাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ (শিবগঞ্জ) আসনে ড. কেরামত আলী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২(ভোলাহাট) আসনে অধ্যাপক ইয়াহইয়া খালেদ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ (সদর) আসনে নুরুল ইসলাম বুলবুল, রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী –তানোর) আসনে অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, নাটোর-১ আসনে অধ্যাপক তাসনিম আলম, নওগাঁ-৪ (মান্দা) আসনে খ. ম. আবদুর রাকিব, সিরাজগঞ্জ-৪ (উল্লাপাড়া-সলঙ্গা)আসনে মাও রফিকুল ইসলাম খান, সিরাজগঞ্জ-৫ (বেলকুচি-চৌহালি) আসনে অধ্যক্ষ আলী আলম, বগুড়া-৫ (শেরপুর ধুনট) আসনে আলহাজ্জ দবিবুর রহমান মনোনয়ন তুলেছেন।

এদিকে পাবনা-১ (সাঁথিয়া-বেড়া) আসনে ডা. আব্দুল বাসেত, পাবনা-৪ (আটঘরিয়া-ইশ্বরদি) আসনে অধ্যাপক আবু তালেব মণ্ডল, পাবনা-৫ (সদর) আসনে প্রিন্সিপাল ইকবাল হোসাইন, কুষ্টিয়া-২ (মিরপুর-ভেড়ামারা) আসনে মুহাম্মদ আবদুল গফুর, চুয়াডাঙ্গা-২ (দামুড়হুদা-জীবন নগর) আসনে মোহাম্মদ রুহুল আমিন, ঝিনাইদহ-৩ (মহেশপুর-কোটচাঁদপুর) আসনে অধ্যাপক মতিয়ার রহমান, যশোর-১ (শার্শা) আসনে মাওলানা আজিজুর রহমান, যশোর-২ (চৌগাছা-ঝিকরগাছা) আসনে আবু সাঈদ মুহাম্মদ শাহাদত হোসাইন, যশোর-৫ আসনে গাজী এনামুল হক, যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনে অধ্যাপক মুক্তার আলী মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করেছেন।

বাগেরহাট-৩ (মংলা-রামপাল)আসনে অ্যাডভোকেট আবদুল ওয়াদুদ, বাগেরহাট-৪ (মোড়েলগঞ্জ-শরণখোলা) আসনে অধ্যাপক আবদুল আলীম, খুলনা-৫ (ফুলতলা-ডুমুরিয়া) আসনে অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, খুলনা-৬ (কয়রা-পাইকগাছা) মাও আবুল কালাম আযাদ, সাতক্ষীরা-১ (কলারোয়া-তালা) আসনে অধ্যক্ষ ইজ্জতুল্লাহ, সাতক্ষীরা-২ (সদর) আসনে মুহাদ্দিস আবদুল খালেক, সাতক্ষীরা-৩ (আশাশুনি-দেবহাটা) আসনে মুফতি রবিউল বাশার, সাতক্ষীরা-৪ (কালিগঞ্জ-শ্যামনগর) আসনে গাজী নজরুল ইসলাম, পিরোজপুর-১ (সদর -নাজিরপুর-স্বরূপকাঠি) আসনে শামীম সাঈদী, পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনে ড.শফিকুল ইসলাম মাসুদ মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করেছেন।

ঢাকা-১৫ (কাফরুল-মিরপুর) আসনে ডাঃ শফিকুর রহমান, ময়মনসিংহ-৬ (ফুলবাড়িয়া) আসনে অধ্যাপক জসিম উদ্দিন, কুমিল্লা ৬ (সদর) আসনে কাজী দ্বীন মোহাম্মদ, কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনে ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো.তাহের, লক্ষীপুর-২ (রায়পুর-সদর আংশিক) আসনে মাস্টার রুহুল আমীন, লক্ষীপুর-৩ আসনে ডা. আনোয়ারুল আজিম, ফেনী-৩ আসনে ডা. ফখরুদ্দিন মানিক, চট্টগ্রাম-১০ (ডাবলমুরিং) আসনে আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরী, চট্টগ্রাম-১৫ (লোহাগাড়া-সাতকানিয়া) আসনে মাওলানা শামসুল ইসলাম, চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) মাওলানা জহিরুল ইসলাম, কক্সবাজার-২ (কুতুবদিয়া-মহেশখালী) আসনে হামিদুর রহমান আজাদ মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করেছেন।

এছাড়াও আরও বেশ কয়েকটি আসনে মনোনয়ন সংগ্রহের প্রস্তুতি রয়েছে বলে জামায়াতের দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

অপরদিকে, ঐক্য ফ্রন্টের সিনিয়র নেতারা অনেকটাই জামায়াত বিদ্বেষী। তারা চাচ্ছে না ঐক্য ফ্রন্টের অন্যতম দল বিএনপি জামায়াতের সাথে সখ্যতা রাখুক। আবার নির্বাচনে সরকারকে চাপে রাখতে ঐক্য ফ্রন্টের নেতাদের প্রয়োজন বিএনপির। এদিকে সূত্রমতে, বিএনপির সিনিয়র অনেক নেতা জামাত বিষয়ে দ্বিধাবিভক্ততে । অনেকের মতে যুদ্ধাপরাধের দায়ে দণ্ডিত কারো সাথে বিএনপি সম্পর্ক রাখলে অতীতের মত বিএনপি সমালোচনার মুখে পরবে। আবার জামায়াতকে ৭০ টি আসন এবং ঐক্য ফ্রন্টকে দাবীকৃত আসনের ভাগ দিয়ে বিএনপি নিজেদের আসন সংকটে পরবে। যা তৃনমূল নেতা কর্মীরা মেনে নিবে না।

এ বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি এড়িয়ে যান এবং এ বিষয়ে স্থায়ী কমিটির মিটিং এ সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানান।

সূত্র। বাংলা ট্রিবিউন

Comments

comments