ক্ষমতা ছাড়ার আতঙ্কে মন্ত্রীদের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ

মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার

  • দেশপ্রেমের চশমা: সরকার পূর্ণ মেয়াদে ক্ষমতায় থাকার চেষ্টা…

নড়বড়ে দশম সংসদ নির্বাচনের পর দেশবাসী অচিরেই আরেকটি অংশগ্রহণমূলক সংসদ নির্বাচন আশা করেছিলেন। বিবেকবান নাগরিকগণ ভাবতে পারেননি যে, এমন একটি মন্দ নির্বাচনের ওপর ভিত্তি করে সরকার পূর্ণ মেয়াদে ক্ষমতায় থাকার চেষ্টা করবে।

কিন্তু সরকার বিবেকবান অসম্ভব ভাবনাকে সম্ভব করেছে। সে সঙ্গে মামলা-অস্ত্র ব্যবহার করে রাজনৈতিক বিরোধিতাকে নিষ্ক্রিয় করতে সমর্থ হয়েছে। শুরু থেকে ৫ বছর ধরে সরকারদলীয় নেতা-মন্ত্রীগণ সংবিধানের দোহাই দিয়ে বলে আসছেন, পরবর্তী নির্বাচন দলীয় সরকারাধীনে হবে।

সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী পাস করে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বাতিল করার পর সরকারদলীয় নেতা-মন্ত্রীদের এ বক্তব্য দেয়া শুরু হয়েছে।

তবে সরকার যদি দলীয় সরকারাধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন করতে চাইতো তাহলে নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীন ও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ইসি গঠনের জন্য একটি আইন তৈরি করত।

সংসদে প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় এমন আইন পাস করে শক্তিশালী ইসি গঠন করে ওই কমিশনের অধীনে নির্বাচন করা যেত। কিন্তু সরকার তা করেনি।

পরিবর্তে, অনুসন্ধান কমিটি গঠনের নাটকীয়তার মধ্য দিয়ে এমন এক নির্বাচন কমিশন গঠন করেছে, যে কমিশন ইতিমধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের পরীক্ষায় ফেল করে নাগরিক সমাজের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে।

নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার নিয়ে কমিশনের কাণ্ডকারখানা এবং বিভিন্ন রকম বক্তব্য প্রদান থেকে এবং সংলাপে প্রদত্ত রাজনৈতিক দলগুলোর পরামর্শ অবজ্ঞা করা দেখে বোঝা যায়, এ কমিশন স্বাধীন, নিরপেক্ষ, নাকি সরকারের আজ্ঞাবহ।

যে কমিশন সিদ্ধান্ত গ্রহণে নিজেদের ৫ জনের মধ্যেই ঐকমত্য সৃষ্টি করতে পারে না, সে কমিশন কী করে ১৬ কোটি মানুষের আস্থাভাজন হবে?

সরকার যদি পঞ্চদশ সংশোধনী-উত্তর সংবিধান অনুযায়ী নিজস্ব ছকে নির্বাচন আয়োজন করে, তাহলে তেমন নির্বাচনে সরকারি দলকে কেউ হারাতে পারবে না।

বিরোধী দল যত জনপ্রিয় হোক, যত ভোটই পাক না কেন, নির্বাচনে পরাজয় সুনিশ্চিত। তবে আন্তর্জাতিক মহলে নির্বাচনকে গ্রহণযোগ্য করাতে সরকার হয়তো কিছুসংখ্যক আসনে বিরোধীদলীয় প্রার্থীকে বিজয়ী করাবে।

এ ব্যবস্থায় যে বিরোধী দলগুলোকে বিরোধী দল হিসেবেই থাকতে হবে সে বিষয়টি বিরোধী দলগুলো বুঝতে পেরেছে। সে কারণে তারা দলীয় সরকারের অধীনে সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে নারাজ।

প্রহসনের নির্বাচনে নির্বাচিত হয়ে সরকার যেভাবে জাঁকিয়ে বসেছে, যেভাবে প্রশাসনকে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সুযোগ-সুবিধা বাড়িয়ে দিয়ে তাদের নির্বাচনী কাজে ব্যবহারের পরিকল্পনা করেছে; যেভাবে ইসি গঠন করেছে, তাতে সরকারের নির্বাচনী বিজয় সুনিশ্চিত।

এ কারণে বিরোধী দলগুলো এমন সেটআপে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা অর্থহীন বিবেচনা করে দলনিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি তুলেছে। মাঠের বিরোধী দল সরকারি মামলা-হামলায় নিষ্ক্রিয়।

দলটি এককভাবে যে এ সরকারকে চাপ দিয়ে দাবি মানাতে পারবে না সে বিষয়টি বুঝতে পেরেছে। সে কারণে ড. কামালের নেতৃত্বে ঐক্য গড়ে বর্ধিত শক্তি নিয়ে রাজপথে নেমে দাবি আদায়ের পরিকল্পনা করেছে।

বিরোধী দলগুলো বুঝতে পেরেছে, সরকার তাদের দাবি মানবে না; সে কারণে তারা ঐক্য গড়ে শক্তিবৃদ্ধি করে সরকারকে গণআন্দোলনের মাধ্যমে চাপ সৃষ্টি করে তাদের দাবি মানাতে চাইছে।

গত ১৩ অক্টোবর জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নাম নিয়ে এ ঐক্য গঠিত হওয়ার পর সরকারের অবস্থান অনেকটা নড়ে উঠেছে। সরকারের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব থেকে এ ঐক্যকে লক্ষ্য করে যেভাবে এবং যে ভাষায় আক্রমণাত্মক বক্তব্য দেয়া হচ্ছে তাতে অনেকে ভাবছেন, সরকার হয়তো কিছুটা ভীতির মধ্যে পড়েছে।

কারণ, সাধারণ মানুষ যে সরকারের গণতন্ত্রবিহীন উন্নয়নে অতিষ্ঠ, তা সরকার জানে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রথমে আলোচ্য ঐক্যকে স্বাগত জানালেও পরে তিনি যে ওই ঐক্যকে লক্ষ্য করে এতটা আক্রমণাত্মক বক্তব্য দেবেন, তা কেউ ভাবতে পারেনি।

অবশ্য এমন বক্তব্য প্রদান তিনি বেশ আগেই শুরু করেছিলেন। উল্লেখ্য, গত ২৩ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আলোচ্য ঐক্যকে লক্ষ্য করে কটাক্ষপূর্ণ বক্তব্য দেয়ার পর প্রধানমন্ত্রী একপর্যায়ে ঐক্য প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ‘এত কিছুর পরও আমি চাইব তারা একটি জোট গঠন করে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করুক। তারা যদি জনগণের ভোট পায়, তাহলে তারা ক্ষমতায় আসবে। যেহেতু তারা একটি জায়গায় সমবেত হতে পেরেছে, সে জন্য আমি তাদের ধন্যবাদ জানাই’ (যুগান্তর, ২৫-০৯-২০১৮)।

আবার ওই একই সভায় তিনি ঐক্য প্রচেষ্টা গ্রহণকারীদের ‘সরকার উৎখাতের উদ্যোগ গ্রহণকারী’ উল্লেখ করে তীব্র ভাষায় সমালোচনা করে বলেন, ‘খুনি, অর্থ পাচারকারী ও সুদখোরেরা আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে একজোট হয়েছে। এরা দেশের সম্পদ লুটে খেয়েছে। ক্ষমতায় গেলে স্বাধীনতাবিরোধীদের সঙ্গে নিয়ে দেশ ধ্বংস করবে। কাজেই জনগণকে তাদের সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে।’

অথচ, এসব ঐক্য প্রচেষ্টা গ্রহণকারীগণ যে নির্বাচনের প্রাক্কালে সরকারের পদত্যাগ ও সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ হচ্ছেন সে সম্পর্কে তিনি কোনো কথা বলেননি। এরা যে ইভিএমের পরিবর্তে কাগজের ব্যালটে ভোট চাইছেন, ইসির পুনর্গঠন চাইছেন, সে সম্পর্কেও তিনি মুখ খোলেননি।

সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ড. কামালের সভাপতিত্বে ১৩ অক্টোবর জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নাম নিয়ে ঐক্যপ্রচেষ্টার আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ ঘটায় সরকারদলীয় নেতাকর্মীরা আরেকটু নড়াচড়া শুরু করেন।

তাদের বক্তব্যে এ ঐক্যের প্রতি কটাক্ষ তীব্রতর হয়ে ওঠে। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট আত্মপ্রকাশ করার পরদিনই মাদারীপুরের কাঁঠালবাড়ী ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী ঘাটে আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় এবার আর ঐক্য প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানাতে পারেননি।

সরাসরি অবমাননাকর ভাষায় আক্রমণ করে বক্তব্য দিয়েছেন। ড. কামাল হোসেনকে খুনি ও দুর্নীতিবাজদের সঙ্গে ঐক্য প্রতিষ্ঠাকারী উল্লেখ করে এদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘তাদের উন্নয়ন হল দুর্নীতি, মানি লন্ডারিংয়ের উন্নয়ন।

ড. কামাল নৌকা থেকে নেমে ধানের শীষের মুঠি ধরেছেন। যে ধানে চিটা ছাড়া আর কিছু নেই। ওই কামালও কালো টাকা সাদা করেছেন। খালেদা জিয়াও কালো টাকা সাদা করেছেন। মানি লন্ডারিং করেছেন। রতনে রতন চিনে শিয়ালে চিনে কচু’ (মানবজমিন, ১৪-১০-২০১৮)।

অন্যদিকে মাঠের বড় দল বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতাগণ ঐক্যফ্রন্ট আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করার আগে ও পরে কোনো আক্রমণাত্মক বক্তব্য না দিয়ে ঠাণ্ডা মাথায় সমঝোতাপূর্ণ কথা বলছেন।

তারা বলেছেন, এ ঐক্য কোনো দলকে ক্ষমতায় বসাবার জন্য বা সরকার গঠনের জন্য করেননি, তাদের ঐক্যের উদ্দেশ্য হচ্ছে জনগণের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও গণতন্ত্র উদ্ধার। দেশের সব মানুষ ভোট দেয়ার অধিকার ফিরে পেতে চান।

এ জন্য এ ঐক্যকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নাম দেয়া হয়েছে। সরকারকে সমালোচনা করার অনেক পয়েন্ট থাকা সত্ত্বেও তারা সেদিকে না গিয়ে সমঝোতাপূর্ণ যুক্তিবাদী ও শালীন ভাষায় বক্তব্য দিচ্ছেন।

বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব, যেমন- সর্বজনাব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, মইন খান, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবং নজরুল ইসলাম খানের বক্তব্য আওয়ামী লীগের সম্মানিত প্রধানমন্ত্রী এবং অন্যান্য নেতা-মন্ত্রী, যেমন- সর্বজনাব ওবায়দুল কাদের, মোহাম্মদ নাসিম, মাহবুবউল আলম হানিফ প্রমুখের তুলনায় অনেকটাই শালীন ও যুক্তিবাদী।

অনেক উদাহরণ না দিয়ে এখানে বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম খানের বক্তব্য প্রণিধানযোগ্য।

জনাব খান অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘ভোটাধিকার, ন্যায়বিচার, বাকস্বাধীনতা ও খালেদা জিয়ার মুক্তি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় দলীয় সরকারাধীনে সরকারের সংসদ নির্বাচনের অভিপ্রায়ের সমালোচনা করে বলেন, ‘১৯৯৬ সালে শুধু মন্ত্রিসভা বাতিল না, সংসদও বাতিল এবং নির্দলীয় সরকার গঠন করা আপনাদের কাছে যুক্তিসঙ্গত মনে হয়েছে।

এখন আমরা যখন বলছি মন্ত্রিসভা পদত্যাগ করবে, সংসদ বাতিল করেন, নির্দলীয় লোক দিয়ে সরকার গঠন করেন- এটা এখন অযৌক্তিক, অবাস্তব ও অসাংবিধানিক মনে হয় আপনাদের কাছে।’ সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ‘সংবিধান সংশোধনের সুযোগ নেই’ মন্তব্যের জবাবে জনাব খান বলেন, ‘সংবিধানের প্রতি এত শ্রদ্ধাশীল যখন, তাহলে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলের সময় এই শ্রদ্ধা কোথায় ছিল?’

সব রাজনৈতিক নেতাকে দেশপ্রেমিক উল্লেখ করে জনাব খান সরকারদলীয় নেতাদের উদ্দেশে বলেন, ‘আসুন আলোচনায় বসি, কথা বলি এবং কথা বলে একটা সর্বসম্মত সমঝোতার মাধ্যমে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন করি। সে নির্বাচনে যদি জনগণ আওয়ামী লীগকে ভোট দেয় তাহলে তারাই সরকার গঠন করবে, আর যদি জনগণ প্রত্যাখ্যান করে তাদের তা মেনে নিতে হবে।’

এভাবে যদি বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের বক্তব্যের সঙ্গে সরকারি দলের কেন্দ্রীয় নেতা ও মন্ত্রীদের বক্তব্যের তুলনা করা হয় তাহলে দেখা যায়, সরকারদলীয় নেতা-মন্ত্রীদের বক্তব্য যেখানে আক্রমণাত্মক, সেখানে ঐক্যজোট নেতাদের বক্তব্য তুলনামূলকভাবে শালীন।

সরকারদলীয় নেতা-কর্মীদের বক্তব্যে যেখানে একগুঁয়েমি ও আবেগ বেশি, সেখানে ঐক্যজোট নেতাদের বক্তব্যে সমঝোতার মনোভাব, বস্তুনিষ্ঠতা ও যুক্তির প্রয়োগ বেশি।

সরকারদলীয় নেতাদের এমন অনড় বক্তব্য দেয়ার কারণ সম্পর্কে ভাবলে মনে হয়, তারা জানেন নির্দলীয় সরকারাধীনে নির্বাচন দিলে তারা জিততে পারবেন না।

সেজন্য এমন দাবি শুনলেই তাদের মধ্যে নির্বাচনে পরাজয়ের ‘ফিয়ার ফ্যাক্টর’ কাজ করে এবং তার প্রভাবে তাদের বক্তব্যে যুক্তির পরিবর্তে ভাবাবেগ, শক্তি ও ক্ষমতার দাপট অন্তর্ভুক্ত হয়। এর সঙ্গে পারিপার্শ্বিক রাজনৈতিক বাস্তবতার কারণে তাদের পায়ের নিচে জনসমর্থনের মাটি নরম মনে হওয়ায় তারা বক্তব্য প্রদানে ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ছেন।

উন্নয়নের জোয়ারের কথা বলে সরকারি দল জনসমর্থন বাড়াতে পারেনি। এরপর জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট সৃষ্টিও সরকারের জন্য মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেই সঙ্গে ভারতও বহির্বিশ্বে নিজের গণতান্ত্রিক ইমেজ বজায় রাখতে একাদশ সংসদ নির্বাচনে গত দশম সংসদ নির্বাচনের মতো সরাসরি এ সরকারকে সমর্থন না দিয়ে নিরপেক্ষ অবস্থান গ্রহণ করেছে।

যে কারণে, অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে ভারত সফররত বাংলাদেশি সাংবাদিক প্রতিনিধিদলকে ভারতীয় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ভি কে সিং বাংলাদেশে আসন্ন একাদশ সংসদ নির্বাচনে ভারতীয় অবস্থান স্পষ্ট করে বলেন, ‘চলতি বছরের ১৬ ডিসেম্বরের পর বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন হবে বলে জানতে পেরেছি।

নির্বাচনে বাংলাদেশের জনগণ যে ইচ্ছাই প্রকাশ করবে তার প্রতি আমরা সম্মান জানাব। বন্ধুপ্রতিম প্রতিবেশী হিসেবে বাংলাদেশের জনগণ যেটাকে ভালো বলে বিবেচনা করবে; আমরা তাকেই ভালো বলে মনে করব’ (যুগান্তর, ০৮-১০-২০১৮)।

এ বক্তব্যের মাত্র ২-১ দিন আগে ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা চাঁদপুরের একটি কলেজে ভারতীয় অর্থায়নে নির্মিত গান্ধী মিলনায়তন উদ্বোধনকালে একই সুরে উল্লেখ করেন, ‘আগামী সংসদ নির্বাচনসহ বাংলাদেশের কোনো অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবে না ভারত’ (মানবজমিন, ০৬-১০-২০১৮)।

এসব বাস্তবতা- বিশেষ করে দলীয় জনসমর্থন বাড়াতে না পারা, আর্থিক খাতে ধস সৃষ্টি করা, মুক্তিযুদ্ধের সম্মাননা স্মারকের সোনা থেকে শুরু করে নির্বাচনের ভোট, খনির কয়লা ও পাথর পর্যন্ত লুটপাটের পরিধি বিস্তৃত করা; বিএনপিসহ উল্লেখযোগ্য সংখ্যক দলের সমন্বয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠিত হওয়া, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে যুক্ত না হওয়া অন্য দলগুলোর ঘোষিত দাবিতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের দাবির প্রতিফলন ঘটা, ঐক্যফ্রন্টকে ২০-দলীয় জোটের সমর্থন প্রদান, ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে যুক্ত না হয়ে পৃথক সত্তা বজায় রেখে বাম এবং অন্য সমমনা দলগুলোর পাশাপাশি আন্দোলন কর্মসূচি দেয়ার সুযোগ সৃষ্টি হওয়া এবং বাংলাদেশে সংসদ নির্বাচনে কোনো বিশেষ দলকে সমর্থন না দিতে ভারতীয় সিদ্ধান্ত সরকারি দলের নেতা-মন্ত্রী ও এমপিদের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।

এ কারণে হয়তো সরকারদলীয় নেতা-মন্ত্রীগণ দলনিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবির কথা শুনলে কথাবার্তায় ভারসাম্য হারিয়ে আক্রমণাত্মক বক্তব্য দিচ্ছেন।

Comments

comments