বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ে আইএমএফের উদ্বেগ

  • আমদানি এত বাড়ল কেন?
  • খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ কেন করা যাচ্ছে না?
  • ব্যাংকগুলো খেলাপি ঋণের বিপরীতে প্রভিশন রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে কেন?

এই তিন ‘কেন’ নিয়ে রীতিমতো উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। তারা এই তিন ‘কেন’র উত্তরও জানতে চেয়েছে বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের কাছে।

গতকাল দুপুরে ইন্দোনেশিয়ার পর্যটননগরী বালিতে অনুষ্ঠিত ‘বিশ্বব্যাংক-আইএমএফ’র বার্ষিক সভা আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনের পর অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সাথে বৈঠকে বসেন আইএমএফের ডিএমডি মিতসুহিরো ফুরুসাওয়া। হোটেল ওয়েস্টিনে অনুষ্ঠিত আধঘণ্টাব্যাপী এই বৈঠককে অর্থমন্ত্রী ভালো হয়েছে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন। এ সময় অর্থমন্ত্রীর সাথে বিশ্বব্যাংকে বাংলাদেশের বিকল্প নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবীর, ভারপ্রাপ্ত অর্থসচিব আবদুর রউফ তালুকদার এবং ইন্দোনেশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত উপস্থিত ছিলেন।

অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, আইএমএফের সাথে আমাদের সম্পর্ক খুবই ভালো। এবার আইএমএফের যে প্রতিনিধিদল ঢাকা গিয়েছিল তারা উল্লেখ করেছিল, বাংলাদেশের আর্থিক খাত একটু দুর্বল হয়েছে। এর প্রধান কারণ ব্যাংকিং খাত। ব্যাকিংয়ে খেলাপি ঋণ (এনপিএল) বেড়ে গেছে ও প্রভিশনিং (সঞ্চিতি) ব্যাংকগুলো ঠিকমতো রাখতে পারছে না। তারা এ বিষয়ে মনোযোগ দিতে বলে। আমি তাদের বলেছিলাম, আমি তোমাদের সাথে একমত। এ নিয়ে আমার কোনো দ্বিমত নেই। আমি তাদের বলেছি, ব্যাংকিং খাতের সংস্কার নিয়ে আমি একটি প্রতিবেদন তৈরি করব। সেখানে সব কিছু বলা থাকবে। আগামী এক মাসে প্রতিবেদনটি তৈরির কাজ শেষ হবে।

আইএমএফের ডিএমডির সাথে বৈঠকের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, এ বৈঠকটিও ভালোই হয়েছে। তবে আইএমএফ আমাদের উচ্চ রফতানি ব্যয় নিয়ে কথা বলেছে। সেখানে আমাদের গভর্নর বলেছেন, এ প্রবণতা এখন নিচে নেমে আসছে। যেটা জনসমক্ষে বলা হয়, হাই ইমপোর্ট ম্যাটার অব ট্রান্সফার অব ফান্ড মানে মুদ্রা পাচারের কারণে আমদানি ব্যয় বাড়ছে। এ ধরনের বিশ্লেষণের সাথে আমি একমত নই। আমার মনে হয় না এই মুহূর্তে বাংলাদেশ থেকে মুদ্রাপাচার খুব বেশি হচ্ছে। অর্থ পাচার হয় তখন যখন পরিস্থিতি থাকে অনিশ্চিত। আমার মনে হয় না বাংলাদেশ এখন কোনো অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। তবে হ্যাঁ, আমাদের অনেক বন্ধুর পথে আগামীতে চলতে হবে। কিন্তু অনিশ্চয়তা বাংলাদেশে রয়েছে বলে আমার মনে হয় না।

অর্থমন্ত্রী বলেন, আইএমএফের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আমদানি বেড়ে যাওয়া, নন-পারফর্মিং লোন বা অকার্যকর খেলাপি ঋণ আর সঞ্চিতির বিষয়ে আরো মনোযোগ দিতে হবে।
নির্বাচন বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, সামনের নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হয়নি। নির্বাচন নিয়ে দেশের উত্তাপের কিছু নেই। ফখরুল ইসলাম সাহেব (বিএনপির মহাসচিব) শুধু উত্তপ্ততায় আছেন। তিনি প্রতিদিনই বক্তৃতা দেন। ফখরুল ইসলাম এই কাজটি গত ১০ বছর ধরেই করছেন। এখনো তা নন-স্টপ চালিয়ে যাচ্ছেন। এটা উত্তাপ নয়, আমার মূল্যায়ন হচ্ছে আগামী বছরের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নির্বাচনের কারণে প্রভাবিত হবে না। তবে নির্বাচনের পরে এটি নির্ভর করবে কে সরকার গঠন করবে তার উপর। আমাদের সরকার যদি ক্ষমতায় আসে তবে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি অব্যাহত থাকবে। আর যদি খালেদা জিয়ার জয় হয়, তবে এটি (প্রবৃদ্ধি) কমতেই থাকবে, কমতেই থাকবে। কারণ ওই মহিলা সমৃদ্ধির অর্থই বুঝেন না।

বিশ্বব্যাংকের মানব পুঁজি সূচক বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে অর্থমন্ত্রী বলেন, সেখানে নেপালকে আমাদের চেয়ে এক ধাপ এগিয়ে দেখানো হয়েছে। এটা নিয়ে আমার কিছু প্রশ্ন আছে। এই রিপোর্টে শ্রীলঙ্কাকে আমাদের উপরে দেখানো হয়েছে। কিন্তু আমার মনে হয় না, শ্রীলঙ্কা আমাদের উপরে রয়েছে। আমাদের হিউম্যান ক্যাপিটাল ইনডেক্স অনেক ভালো হতো যদি শিক্ষার অবস্থা আরো ভালো হতো। আমাদের সাক্ষরতার হারও আপ টু মার্ক নয়। এটি ৭০-এর নিচে রয়েছে। এই সাক্ষরতা ৮৮ ভাগ হওয়া উচিত। আমাদের উচ্চশিক্ষা ও প্রাথমিক শিক্ষাও উন্নতমানের নয়।

 

Comments

comments