তরুনদের ব্যতিক্রমী প্রতিবাদঃ ‘গণতন্ত্র মুক্তি পাক’

একটু ব্যতিক্রমী প্রতিবাদ:তরুণীর মাথায় কাগজের প্যাকেটে। সেই প্যাকেটের গায়ে লেখা ‘মাথা থাকার নিয়ম নাই’, ‘আমাদের জিহ্বা নাই, বাক্য নাই’।

রোববার বিকেল চারটা। রাজধানীর শাহবাগে জাদুঘরের সামনে এক তরুণীকে দেখা গেলো কাগজের একটি ঠোঙ্গা দিয়ে মাথা ঢাকা। সেই প্যাকেটের গায়ে লেখা ‘মাথা থাকার নিয়ম নাই’, ‘আমাদের জিহ্বা নাই, বাক্য নাই’।

গণতন্ত্র মুক্তি পাক: শৃঙ্খলিত ক্যামেরা বাঁধা আছে।

একটু দূরেই একটি শৃঙ্খলিত ক্যামেরা বাঁধা আছে। আশে পাশে ৩ তরুণকে দেখা গেলো খাঁচা বন্দি মাথা নিয়ে ঘুরছে। সামনে একটি ব্যানারে লেখা ‘গণতন্ত্র মুক্তি পাক!’ আলোকচিত্রী শহিদুল আলমসহ অটককৃত সাংবাদিকদের প্রতিকৃতি এই শৃঙ্খলিত ক্যামেরা বাঁধা আছে।

ভেতরে বন্দি এক গায়ক গান গেয়ে যাচ্ছেন। পাশের ল্যাপটপ কোলে নিয়ে বসে আছে এক শিক্ষার্থী। কারাগারের সামনে পড়ে আছে একটি হেলমেট ও হাতুড়ি। তারা মুক্ত

একটু দূরে দেখা গেলো একটি কারাগারের গারদ। ভেতরে বন্দি এক গায়ক গান গেয়ে যাচ্ছেন। পাশের ল্যাপটপ কোলে নিয়ে বসে আছে এক শিক্ষার্থী। কারাগারের সামনে পড়ে আছে একটি হেলমেট ও হাতুড়ি। তারা মুক্ত!

কি হচ্ছে জানতে চাইলে মাহতাব উদ্দিন আহমেদ নামের এক তরুণ বলেন, ‘বুঝতে পারছেন না? যারা মুক্ত থাকার কথা তারা ভেতরে আর যাদের কারাগারে থাকার কথা তারা বাইরে। তাই প্রতিবাদ চলছে।’

সমাবেশস্থল থেকে চলছে স্লোগান গনতন্ত্র মুক্তিপাক

তার একটু সামনেই সমাবেশস্থল ভেসে আসছে প্রতিবাদি কন্ঠে ‘মানুষের বাকস্বাধীনতা কেড়ে নেয়া হয়েছে। উন্নয়নের ঢোল বাজিয়ে নির্যাতন করা হচ্ছে। যারাই প্রতিবাদ করছে তাদেরই অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।

আলোকচিত্রী শহিদুল আলমসহ গ্রেপ্তারকৃত শিক্ষার্থীদের মুক্তির দাবিতে শাহবাগে অনুষ্ঠিত এক প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘিরেই এইসব প্রতীকী দৃশ্যের দেখা মেলে। সমাবেশ, গান, পারফরমেন্স আর্ট, গানের মিছিল ও চিত্রাংকনসহ নানা প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়।

সমাবেশ থেকে আলোকচিত্রী শহিদুল আলমসহ আটক ছাত্রদের মুক্তির দাবি জানানো হয়।

সমাবেশ স্থলেই তরুণ শিল্পীরা প্রতিবাদী চিত্র আঁকেন। সেখানে শহীদুল আলম, ছাত্রনেতা মারুফ-আশরাফের প্রতিকৃতি আঁকা হয়। পারফরম্যান্স আর্ট করেন শিল্পী অমল আকাশ, তুহিন কান্তি দাস, গান পরিবেশনা করেন বেতালসহ আরো অনেকে।

Comments

comments