নৌ মন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন উত্তাল

বাস চাপায় দুই কলেজ শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার ঘটনায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে অচল হয়ে পড়েছে ঢাকা। রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়ছে বিক্ষুব্ধ ছাত্রদের আন্দোলন। নৌ মন্ত্রী পদত্যাগ না করলে ঘরে ফিরে যাবে না বলে জানিয়েছে শিক্ষার্থীরা।

গত রোববার রাজধানী ঢাকার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সামনে বিমানবন্দর সড়কের পাশে দাড়িয়ে থাকা অবস্থায় অনিয়ন্ত্রিত বাস বাসচাপায় মৃত্যু হয় শহীদ রমিজউদ্দীন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র আবদুল করিম এবং একাদশ শ্রেণির ছাত্রী দিয়া খানমের। সাংবাদিকদের সামনে নিহত দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে নৌ-পরিবহন মন্ত্রী হাসি তামাশা করে প্রতিক্রিয়া জানায়।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে একাত্মতা প্রকাশ করছেন এক অভিভাবক

নৌ মন্ত্রীর এমন দায়িত্বহীন, তামাশা ও বিদ্রুপপূর্ণ আচরণের প্রতিবাদে বিক্ষোভে ফেটে পড়েছে লাখো শিক্ষার্থী। শিক্ষার্থীরা বলছে, এটি নিছক কোন দূর্ঘটনা নয় বরং দুই বাসের অসুস্থ প্রতিযোগিতা। যা এক প্রকার হত্যাকান্ড।

অথচ নৌ মন্ত্রী এর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন হেসে হেসে তুচ্ছ তাচ্ছিল্যের সাথে। মানুষের মৃত্যু নিয়ে এমন নিষ্ঠুর বিদ্রুপ কেউ করতে পারেনা। সে কোন সভ্য দেশের মন্ত্রী হতে পারে না বরং নৌ মন্ত্রী ভয়ংকর, নিষ্ঠুর ভিলেনের প্রতিচ্ছবি। এর আগেও সড়ক পরিবহন শ্রমিক ও মালিকেরা যতবার অন্যায় নির্মমতা দেখিয়েছে ততবারই নৌ মন্ত্রী ঘাতকদের পক্ষে সাফাই গেয়েছেন। যা সরাসরি খুনিদের সমর্থন। তার এই দায়িত্বহীন মদদেই পরিবহন শ্রমিকরা বেপরোয়া হয়ে উঠছে। অবলীলায় নানা নির্মম হত্যাকন্ড ঘটাচ্ছে।

শিক্ষার্থীরা বলেন, পরিবহন শ্রমিকদের বেপরোয়া আচরণে একের পর এক লোমহর্ষক ঘটনা ঘটলেও তা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। উল্টো নৌ মন্ত্রী ও বেপরোয়া পরিবহন শ্রমিকদের ইচ্ছাই প্রতিফলিত হচ্ছে। একের পর এক নির্মম মৃত্যু ঘটলেও মানুষের জীবন রক্ষায় কার্যকর কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করার সাহস করছে না সরকার। উল্টো যারা দূর্ঘটনার শিকার হচ্ছে তাদের উপরে দায় চাপানো হচ্ছে। এ অবস্থার অবশ্যই পরিবর্তন করতে হবে।

শিক্ষার্থীরা অবিলম্বে নৌমন্ত্রী শাহজাহান খানের পদত্যাগ, নিরাপদ সড়ক ও ঘাতক জাবালে নূরের চালকদের দ্রুত বিচার ও ফাঁসির দাবী জানিয়েছে। দাবী না মানলে তারা রাজপথ ছাড়বে না বলে ঘোষণা দিয়েছে।

Comments

comments