দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স

বিজয়োৎসব করছে ফ্রান্সের ফুটবলাররা

দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর ২০১৮ বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হলো ফ্রান্স।   আর এতে করে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের শিরোপা ঘরে তুললো লস ব্লুজরা।  আর কোচ ও খেলোয়াড় হিসেবে শিরোপা ছুঁয়ে তৃতীয় ব্যক্তি হিসেবে রেকর্ড গড়লেন দিদিয়ের দেশম।

১৯৯৮ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পর ২০ বছরের আক্ষেপ কাটিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা ঘরে তুললো ফ্রান্স।

৩২ দিনের ফুটবল মিলন মেলা মস্কোর লুঝনিকি স্টেডিয়ামে শেষ হল রোববার।  শিরেপা নির্ধারণী যুদ্ধে মাঠে নেমেছিল ইউরোপের দুই পরাশক্তি ফ্রান্স ও ক্রোয়েশিয়া। ১৯৯৮ বিশ্বকাপে ফ্রান্সের কাছে হেরেই সেমিফাইনালে থেমেছিল ক্রোয়েশিয়ার স্বপ্ন যাত্রা। ক্রোয়েটদের সামনে সেই হারের প্রতিশোধ নেওয়ার দারুণ সুযোগ চলে আসে। অন্যদিকে ফান্সের অধিনায়ক ও কোচ হয়ে দুবার বিশ্বজয়ের ইতিহাস গড়ার সুযোগ দিদিয়ের দেশমের সামনে।

খেলা শুরুর ১৮তম মিনিটে ডি-বক্সের বাইরে গ্রিজম্যানকে ফাউল করলে রেফারি ফ্রি কিকের নির্দেশ দেন।  গ্রিজম্যানের ফ্রি-কিক ক্লিয়ার করতে গিয়ে নিজের জালে বল ঢুকিয়ে দেন আগের ম্যাচের নায়ক মারিও মানজুকিচ। আর এর মাধ্যমে বিশ্বকাপের ফাইনালে প্রথম আত্মঘাতী গোলদাতা হিসেবে নাম লেখালেন তিনি।

ঠিক এর দশ মিনিট পর ২৮তম মিনিটে পেরেসিচের গোলে স্বস্তি ফেরে ক্রোয়েট শিবিরে। ডি-বক্সের বাহির থেকে পেরিসিচের শট লরিসকে নড়ার সুযোগ না দিয়ে জালে অবস্থান করে।

কিন্তু এ গোলের রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও এগিয়ে যায় ফ্রান্স। ক্রোয়েশিয়াকে এগিয়ে দেয়া গোলদাতা পেরেসিচ এবার ভিলেনের ভূমিকায়।

ক্রোয়েশিয়ার বক্সের ভেতর উড়ে আসা ক্রসে ফ্রান্সের মাতুইদি হেড করতে ব্যর্থ হন। বল লাগে তার পেছনেই থাকা পেরিসিচের হাতে। রেফারি যদিও প্রথমে পেনাল্টি দেননি। অনেক সময় নিয়ে ভিডিও রিপ্লে দেখে পেনাল্টির বাঁশি বাজান আর্জেন্টাইন রেফারি। পেনাল্টি থেকে ঠাণ্ডা মাথায় গোল করেন গ্রিজমান। এটিই বিশ্বকাপের কোনও আসরের ফাইনালে প্রথম পেনাল্টি। স্পট কিক থেকে টুর্নামেন্টে এটি নিজের চতুর্থ গোল।

বিরতি থেকে ফিরে গোলের জন্য মরিয়া ক্রোয়েশিয়া আক্রমণে যায়। কিন্তু লরিসের কল্যাণে তারা গোল বঞ্চিত হয়। ম্যাচের ৫৯তম মিনিটে গোলটি করলেন পল পগবা। ডি-বক্সের প্রান্ত থেকে বাঁ-পায়ে জোরালো শট নেন পগবা। গোলরক্ষক সুবাসিচকে ফাঁকি দিয়ে বল চলে যায় জালে।

এর ছয় মিনিট পর অর্থাৎ ৬৫ মিনিটে ২৫ গজ দূর থেকে ডান পায়ের দুর্দান্ত শটে এই বিশ্বকাপে নিজের চতুর্থ গোলটি করেন এমবাপে। কিংবদন্তী ফুটবলার পেলের পর দ্বিতীয় তরুণ ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপের ফাইনালে গোল করলেন এই পিএসজি তারকা।

এবারের বিশ্বকাপ গোলরক্ষকদের জন্য অভিশাপ হয়েই রইল।  ফর্মের তুঙ্গে থাকা গোলরক্ষকরা শিশুসুলভ ভুল করলেও বাকি ছিলেন ফ্রান্সের হুগো লরিস। ফাইনালের মঞ্চে তিনিও দৃষ্টিকটু ভুল করে বসেন। ৬৯ মিনিটে ফ্রান্সের ডিফেন্ডার লরিসকে ব্যাক পাস দেন। কিন্তু রক্ষণমুখে থাকা মানজুকিচকে কাটাতে গিয়ে তার পায়ে লেগে গোল খেয়ে বসে ফ্রান্স।

যদিও প্রথমার্ধের বল পজিশনে এগিয়ে ছিল ক্রোয়েশিয়া। ক্রোয়েশিয়া তাদের পায়ে বল রাখে ৬০ শতাংশ। অন্যদিকে ফ্রান্সের পায়ে ছিল ৪০ শতাংশ। ক্রোয়েশিয়ার ৭টি শটের বিপরীতে ফ্রান্স নিতে পেরেছে মাত্র ১টি শট। প্রথমার্ধের ৪৫ মিনিটে ক্রোয়েটরা ২০৭টি পাস কমপ্লিট করেছে। অন্যদিকে ফ্রান্স করেছে মাত্র ৯০টি।

আর প্রথমবারের মতো ফাইনাল ওঠে রূপকথার চূড়ান্ত সমাপ্তি টানতে পারল না ক্রোয়েটরা। যে কারণে রানার্সআপ হিসেবেই সন্তুষ্ট থাকতে হলো দলটিকে।

Comments

comments