এক কিলোমিটার রাস্তায় ২৫৭ গর্ত

আর কে মিশন রোড। টিকাটুলী মোড় হয়ে এ রাস্তাটি গিয়ে মিশেছে মানিকনগর বিশ্ব রোডে। এক কিলোমিটারের এ রাস্তায় ২৫৭টি গর্ত। কোনোটি ছোট আবার কোনো কোনোটি বড় আকারের। বড় গর্তগুলোতে গাড়ির চাকা ঢুকে যায়। নির্দেশনার জন্য গর্তগুলোর ভেতরে বাঁশ ঢুকিয়ে রাখা হয়েছে, যাতে চালকেরা বুঝতে পারেন। তার পর প্রতিদিন অসংখ্য গাড়ি এই গর্তে আটকে যাচ্ছে।

টিকাটুলী ব্রাদার্স ক্লাব ও রামকৃষ্ণ মিশনের সামনে দিয়ে এ সড়কটি গিয়ে মিশেছে বিশ্ব রোডের সঙ্গে। কমলাপুর-নারায়ণগঞ্জ রেললাইনটি গেছে এ রাস্তার বুক চিড়ে। রাস্তাটির ডানে-বায়ে আরো কিছু ছোট ছোট রাস্তা ঢুকেছে। আর কে মিশন রোডটি দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের যাতায়াত। এরা প্রতিক্ষণ দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন চলাচলে। দিন যত যাচ্ছে রাস্তায় গর্ত, গর্তের আয়তন ও গভীরতাও ততই বাড়ছে। মানুষের ভোগান্তিও বেড়েছে।

সুমন নামের এক গাড়িচালক বলেন, দীর্ঘ দিন ধরেই এ রাস্তাটির বেহাল দশা। রাস্তাটির মধ্যে গাড়ি নিয়ে ঢুকতে ভয় লাগে। কখন কোন গর্তে গাড়ির চাকা আটকে যায় সেই আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হয়। তিনি বলেন, প্রতিদিনই এরূপ ঘটনা ঘটছে। কোনো সতর্কতায় কাজ হয় না। অপর গাড়িকে সাইড দিতে গেলেই ফসকে গাড়ির চাকা পড়ে যায় গর্তে।

দিদার নামের স্থানীয় এক ব্যবসায়ী বলেন, রাস্তার গর্তের মধ্যে পানি জমে গেলে গাড়ির চাকায় তা ছিটকে প্রায়ই দোকানে ঢুকে যায়। অনেক সময় দেখা গেছে দোকানের অনেক টাকার মালামাল নষ্ট হয়ে গেছে। দিদার বলেন, গোলাপবাগ, মানিকনগর, গোপীবাগ, মুগদা, বাসাবো, যাত্রাবাড়ী, সায়েদাবাদসহ ঢাকা পূর্ব এলাকার লাখ লাখ বাসিন্দা এ রাস্তাটি ব্যবহার করে থাকেন। অথচ এ রাস্তাটির কোনো বাবা-মা নেই। কে সংস্কার করবেন, কার কাছে বললে রাস্তাটি সংস্কার হবে তা-ও জানেন না স্থানীয়রা। মাঝে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলের কাছে তারা অনেকবার বলেছেন। কিন্তু কোনো ফল হয়নি।

জাকির নামের এক পথচারী বলেন, এ রাস্তাটিতে দিনভর যানজট লেগে থাকে। অথচ পুরো রাস্তাটি এখন নর্দমায় পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে রেললাইনের ওপার থেকে বিশ্ব রোড পর্যন্ত এখন আর চলাচলের উপযোগী নেই। মানুষ হাঁটতেও পারে না। একটু বৃষ্টি হলেই পানি ও কাঁদা জমে যায়। জাকির বলেন, কয়েক দিন আগে মোটরসাইকেলে তিনি বাসায় যাচ্ছিলেন। মোটরসাইকেলের পেছনে বাজার সদাই বাঁধা ছিল। গর্তে পড়ে তিনি ছিটকে পড়ে যান। আর অনেক টাকার বাজার সদাই রাস্তার পানিতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে যায়।

জসিম শিকদার নামের স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, রাস্তাটি এ এলাকার মানুষের জন্য আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক সময় দেখা যায় রাস্তার গর্তে রিকশার চাকা আটকে গিয়ে রিকশা উল্টে যাচ্ছে। অনেক সময় দেখা যায় না স্কুলগামী শিশুরা রিকশা থেকে ছিটকে পড়

ছে।
মোশাররফ নামের এক ব্যবসায়ী বলেন, সবচেয়ে বেশি সমস্যা হয় বৃষ্টি হলে। তখন আর গর্তগুলো দেখা যায় অপরিচিত গাড়ি চালকেরা বুঝতে না পেরে ওই গর্তের মধ্যে পড়ে যান। মোশাররফ বলেন, তারা সম্ভাব্য সবার সঙ্গে কথা বলেছেন। কিন্তু রাস্তাটির সংস্কার হচ্ছে না। মাঝে মধ্যে দেখা যায় আশপাশের বাড়িঘর ও দোকানপাটের ময়লা দিয়ে গর্ত ভরাটের চেষ্টা করা হয়। গর্তের মধ্যে ওই ময়লা ফেলার পর দুর্গতি আরো বাড়ে।

Comments

comments