মডেলদের সাথে ফূর্তি করতে গিয়ে প্রাণ গেল পুলিশ কর্তার!

রাজধানীর অভিজাত এলাকা বনানীতে ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে অনৈতিক কাজের অভিযোগ নতুন নয়। বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়ায় বারবার তুলে ধরা হয়েছে এসব অনৈতিক কাজের চিত্র। একুশের চোখ, তালাশ, থ্রি সিক্সটি ডিগ্রিসহ বেশ কিছু অনুসন্ধানীমূলক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে এসব অনৈতিকতার বিষয়গুলো। কিন্তু তাতে কোন লাভ হয়নি। অনেক ক্ষেত্রে প্রশাসনের সম্পৃক্ততার কারণে প্রাণ নিয়ে কোনমতে ফিরে আসতে হয়েছে সাংবাদিকদের। কিন্তু এবার বনানীতেই এরকম এক ফ্ল্যাটে শোবিজের মডেলদের সাথে আড্ডা দিতে গিয়ে প্রাণ গেল মামুন ইমরান খান (৩৪) নামের এক তরুণ পুলিশ পরিদর্শকের। মামুন অবিবাহিত ছিল বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।

মামুন পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) পরিদর্শক ছিলেন। পুলিশ বলছে, মামুনকে হত্যা করা হয়েছে বনানীর একটি বাড়ির দোতলার ফ্ল্যাটে। এ ঘটনায় রহমতসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ করে বনানী থানায় হত্যা মামলা করেছেন মামুনের ভাই জাহাঙ্গীর আলম খান। রহমতকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের পূর্ব বিভাগ। রহমত পেশায় প্রকৌশলী। ঢাকা মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার মাসুদুর রহমান জানিয়েছেন, গতকাল আদালত রহমতকে সাত দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছেন।

এদিকে পুলিশের বিশেষ শাখা এসবি’র পরিদর্শক মামুন ইমরান খানের হত্যায় জড়িত সন্দেহভাজন কথিত তিন তরুণী মডেলকে শনাক্তের পর তাদেরকে গোয়েন্দা নজরদারি করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (১২ জুলাই) রাতেই অভিযান চালিয়ে তাদের আটকের কথা রয়েছে। এই তিন তরুণী মডেল হলো— মেহেরুন নেসা ওরফে আফরিন ওরফে শেখ আন্নাফি ওরফে আন্নাফি আফরিন, তার ছোট বোন ফারিয়া বিনতে মীম ওরফে মাইশা ও সুরাইয়া আক্তার কেয়া। মামুনকে হত্যার সময় এই তিন জনই বনানীর ওই ফ্ল্যাটে উপস্থিত ছিল।

সন্দেহভাজন এই তিন মডেলের বিরুদ্ধে মামুনকে হত্যায় সহযোগিতা ছাড়াও ফাঁদ পেতে অশ্লীল ছবি তুলে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। মামুন হত্যা মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এসব তথ্য জানিয়েছেন।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গুলশান-বনানীকেন্দ্রিক এই চক্রটিতে ১০-১২ জন সদস্য রয়েছে। চক্রের অন্যতম সদস্য হলো এই তিন তরুণী। আফরিন, কেয়া ও মাইশা বিভিন্ন লোকের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তুলে তাদেরকে বনানীর ওই ফ্ল্যাটে নিয়ে যেতো। নানারকম পার্টি করার আড়ালে তাদের অন্তরঙ্গ ছবি তুলে তা প্রকাশের ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায় করাই ছিল এই চক্রের কাজ।

গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, শোবিজ মিডিয়ায় কাজের সুবাদে পুলিশ কর্মকর্তা মামুনের সঙ্গে রহমতের সঙ্গে পরিচয় হয়। এছাড়া, আফরিনের সঙ্গে তিনি (মামুন) একাধিক টিভি নাটকে সহশিল্পী হিসেবে কাজও করেছেন। এ কারণে আফরিনের জন্মদিনের পার্টির কথা শুনে রহমতের ডাকে সাড়া দিয়েছিলেন মামুন। কিন্তু তিনি বুঝতেই পারেনি যে, সেখানে রহমতসহ তাকে ফাঁদে ফেলার জন্য ডাকা হয়েছিল।

উল্লেখ্য, গত রবিবার (৮ জুলাই) রাত থেকে মামুনের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন তার পরিবারের সদস্যরা। পরদিন এসবি কার্যালয়ে গিয়ে তার কোনও খোঁজ না পেয়ে সবুজবাগ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন তারা। এসবি ও ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের খিলগাঁও জোনাল টিম যৌথভাবে ঘটনাটি অনুসন্ধান শুরু করে। পরে প্রযুক্তির সহযোগিতায় তারা কিছু তথ্য পায়। সেই সূত্র ধরেই গাজীপুরের একটি বাঁশঝাড় থেকে লাশ খুঁজে বের করে।

এরপর মঙ্গলবার (১০ জুলাই) সন্ধ্যায় গ্রেফতার করা হয় রহমত উল্লাহকে। সে জিজ্ঞাসাবাদে মামুনকে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করে। জিজ্ঞাসাবাদে রহমত জানিয়েছে— ওই বাসায় আগে থেকেই আফরিন, কেয়া, মাইশা, স্বপন, মিজান, আতিক, দিদার, শেখ হৃদয় ওরফে আপন, রবিউল উপস্থিত ছিল।

জিজ্ঞাসাবাদে রহমত দাবি করেছে, সে আসলে এই হত্যার সঙ্গে জড়িত ছিল না। চক্রটি তাকেই টার্গেট করেছিল। কিন্তু সে মামুনকে সঙ্গে নিয়ে যাওয়ায় প্রতারকরা তাদের দুজনকেই টার্গেট করে। পরবর্তীতে মামুন মারা গেলে সে নিজে এই হত্যার দায় থেকে বাঁচতে চক্রটির সঙ্গে হাত মেলায় এবং লাশ গুমে সহায়তা করে। লাশ গুমের জন্য নিজের গাড়িও ব্যবহার করে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পুলিশ বুধবার রহমতের প্রাইভেট কারটি জব্দ করেছে।

সূত্র: প্রথম আলো ও বাংলাট্রিবিউন

Comments

comments