সিলেটে কেন জামায়াতের প্রার্থী!

স্থানীয় নির্বাচন হলেও ইতোপূর্বে বিএনপির সাথে জোটগত দিক চিন্তা করেই বিএনপির প্রার্থীকেই সমর্থন দিয়েছে জামায়াত। এমনকি নিজেদের প্রভাবশালী প্রার্থী থাকলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিজেদের প্রার্থী প্রত্যাহারও করেছে তারা। কিন্তু সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে হঠাৎ কেন নিজেদের প্রার্থীকেই বহাল রেখেছে জামায়াত! এমন আলোচন এখন দেশজুড়ে।

বেসরকারি একটি টেলিভিশন চ্যানেলের টকশোতে সিলেটে বিএনপি এবং জামায়াতের মাঝে মূলত কি ঘটেছিলো তা নিয়ে মুখ খুললেন ২০ দলীয় জোটের শরীক এলডিপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম এবং খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের। টকশোর আলোচনার একটা পর্যায়ে তাঁরা পরিষ্কার করেই বলছিলেন, জামায়াত ২০১৩ সাল থেকে সিলেটের পৌরসভা মেয়র নির্বাচনে প্রার্থী দেবে বলে জানিয়ে রেখেছিলো, কিন্তু সে ব্যাপারে বিএনপি জোটের বৈঠকে আলোচনা না করেই নিজেদের স্থায়ী কমিটির বৈঠক করেই ঘোষণা দিয়েছে তাঁদের একক প্রার্থীর নাম। যা জামায়াত মেনে নিতে পারেনি।

তাঁরা আরও বলেন, জামায়াত বিএনপিকে ঢাকা এবং গাজীপুরে প্রার্থী ঘোষণা করেও পরে শুধু মাত্র বিএনপি এবং জোটের কল্যাণে প্রার্থিতা তুলে নিয়েছিল এবং আশা করেছিল সিলেট সিটি নির্বাচনে তাঁদের পূর্ব চাহিদাকৃত প্রার্থীকে জোটের প্রার্থী হিসেবে মেনে নেয়া হবে। কিন্তু সে ব্যাপারে বিএনপি অনেকটা স্বেচ্ছাচারীতার পরিচয় দিয়েছে।

এলডিপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, জুনের ২৭ তারিখ সিলেটের প্রার্থী চূড়ান্ত হওয়ার যে জোটের সভা ছিল, সে সভায় সকল দলের নেতার উপস্থিত থাকলেও আলোচনা করে চূড়ান্ত হবার আগেই পল্টন অফিস থেকে আরিফুল হককে প্রার্থী ঘোষণা করা হয় যা শুনার পর সে মিটিংয়ে জামায়াতের উপস্থিত প্রতিনিধি মাত্র ৩০ সেকেন্ড উপস্থিত থেকে চলে যান এবং বলে যান সিলেটে জামায়াতের প্রার্থী থাকছে। সেলিম মনে করেন সিলেট সিটি নিয়ে জোটের বড় দুই দলের প্রার্থী দেয়ার এ বিষয়টি সমাধা করা সহজ ছিল যদি বিএনপি তাঁদের প্রার্থী ঘোষণা করার পূর্বে জামায়াতের সাথে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করতেন। যা তারা করেননি বা করার প্রয়োজন মনে করেননি।

আলোচনার এ পর্যায়ে খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের বলেন বড় দলগুলোর একটা বাজে স্বভাব তারা প্রার্থিতা ঘোষণা করে জোটের দলগুলোকে সে প্রার্থীকে মেনে নিতে বাধ্য করে। এ কালচার বিএনপিতে যেমন আছে একই সমস্যা আওয়ামী লীগেও আছে। তিনি বলেন, বিএনপির প্রার্থীকে হয়তো সবাই মেনেই নিত, কিন্তু আলোচনা করে সে বিষয়টি ঘোষণা হলে বিষয়টি এমন হতোনা।

ড. আহমদ আবদুল কাদের আরো বলেন, আমরা জানতে পেরেছি জামায়াত সিটি নির্বাচনগুলোর মধ্যে তিনটিতে প্রার্থী ঘোষণা করবে বলে দাবি করলেও পরবর্তীতে একটি দাবি করেছিল এবং বলেছিল বাকি ১১ সিটিতে তারা বিএনপিকে সমর্থন দিবে, তিন মাস আগে এ বিষয়গুলো নিয়ে বিএনপির সাথে কথাও হয়েছিল কিন্তু তাঁদের সাথে তা করা হয়নি।

শাহাদাত হোসেন সেলিম আরো বলেন, জামায়াতের একজন ভাল প্রার্থী আছে তা তারা অনেক আগেই ঘোষণা করেছিল যা না শুনে বিএনপি চরম একটি ভুল করেছে এবং এ ধরনের ভুল অব্যাহত থাকলে আগামী নির্বাচনে ভাল করতে পারবেনা।

Comments

comments