ভারতীয় নাগরিক শ্যামল খুলনা জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসের ডি-ম্যান!

ভারতের পশ্চিম বঙ্গের নাগরিক শ্যামল কৃষ্ণ মিস্ত্রি খুলনা জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসের ডি-ম্যান। আর এই ডি-ম্যানের চাকরি করে অনিয়ম দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল অর্থ সম্পদের মালিক বনে গেছেন। এমনকি নিজের স্ত্রী থাকার পরও তার রয়েছে সুন্দরী রক্ষীতা। সম্প্রতি বয়রা পূজাখোলা মোড়ে রক্ষিতা সুজাতার ঘরে অনৈতিক কার্যকলাপ অবস্থায় স্থানীয় যুবকরা হাতেনাতে ধরে মারধর করে। এর আগে ভারতীয় নাগরিক শ্যামল কৃষ্ণ মিস্ত্রি পূজাখোলা মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক থাকাকালীন মন্দিরের অর্থ নিজের পকেটস্থ করার দায়ে তাকে কমিটি থেকে অব্যাহতিও দেয়া হয়।

পশ্চিমবঙ্গের নাগরিক পরিচয়পত্র এবং রেশন কার্ডধারী ও বাংলাদেশের ভোটার তালিকাভুক্ত হয়ে কিভাবে এ দীর্ঘ সময় শ্যামল ও তার স্ত্রী সরকারি চাকরিতে এখনো বহাল রয়েছে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তার সহকর্মীরা।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ নাগরিকত্ব আইন-২০১৬ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টে বিচারক, জাতীয় সংসদের সদস্য, সাংবিধানিক পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তি, সশস্ত্র বাহিনী বা প্রজাতন্ত্রের কোনো বেসামরিক পদে নিয়োজিত ব্যক্তিরা দ্বৈত নাগরিকত্ব গ্রহণ করতে পারবেন না। আর দ্বৈত নাগরিকরা স্থানীয় সরকার নির্বাচন, জাতীয় সংসদের সদস্য পদে নির্বাচন, রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচন, বিচারকসহ প্রজাতন্ত্রের কোনো কাজে নিয়োগলাভ বা কোনো রাজনৈতিক সংগঠন করতে পারবেন না।

পাশাপাশি মিথ্যা বা বিকৃত তথ্য প্রদান বা তথ্য গোপন করে এ আইনের অধীনে নাগরিকত্ব সংক্রান্ত অপরাধের জন্য অপরাধী অনধিক পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বা অনধিক এক লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, নগরীর ছোট বয়রাস্থ পুজাখোলা মন্দির এলাকার কৃষ্ণ কান্ত মিস্ত্রির ছেলে শ্যামল কৃষ্ণ মিস্ত্রি বাংলাদেশ ও ভারত দুই দেশের নাগরিক। বাংলাদেশে তার ভোটার আইডি নাম্বার ১৯৬৩৪৭৯৮৫১৭২৪১৮১২ এবং ভারতের নির্বাচন কমিশনের পরিচয়পত্র নম্বর UWN-০৩৬৩০৬৯ এটা প্রথমে ছিল। বার্তমানে তার ভারতের পশ্চিম বঙ্গের ঠিকানা পানিহাটি থেকে স্থানান্তর করে বারাসাত যাওয়ায় ভারতের নির্বাচন কমিশনের পরিচয়পত্র নম্বর RQL-২০২৮২২৩ এবং সিরিয়াল নম্বার-৪০৭। ভারতে বসবাসের ঠিকানা প্রথমে ছিল ৩৯০, ঠাকুর নিত্য গোপাল রোড, পানিহাটি খরদহ উত্তর ২৪ পরগণা-৭০০১১৪। বর্তমানে তিনি পশ্চিমবঙ্গের ২৪ পরগনার বারাসাত কাজী পাড়ার পাল পাকুরিয়ায় প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে দ্বিতল ভবন নির্মাণ করেছেন। সেখানে তার বড় ভাই এবং সেঝ ভাই থাকেন।

শ্যামল কৃষ্ণ মিস্ত্রি ভারতে নিয়মিত যাওয়ার জন্য যে পাসপোর্ট ব্যবহার করেন সে পাসপোর্টটিও নন-গভারমেন্ট এবং সরকারি চাকরীজীবী হওয়া সত্ত্বেও তিনি পাসপোর্টে পেশা হিসেবে ব্যবসায়ী উল্লেখ করেছেন। যার পাসপোর্ট নন্বর-এ এ ৩৬৯৫৯০০ । যার ব্যবসায়িক ঠিকানা ছিল-খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে শুভ মেডিকেল হলের প্রোপাইটর। আর এই শুভ মেডিকেল হল ছিল তার স্ত্রী ভারতী রায়ের খুমেক হাসপাতালের নার্স থাকাকালীন চোরাই ওষুদ বিক্রির স্পট। বর্তমানে ভারতী রায় শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালে সিনিয়র স্টাফ নার্স হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। পূজাখোলায় শ্যামল ও ভারতী রায়ের নামে বে-নামে রয়েছে প্রচুর ব্যাংক ব্যালেঞ্চ ও ভূ-সম্পত্তি ।

সম্প্রতি বয়রা বাজারের প্রত্যাশা প্লাজায় তার মৃত ছোট ভাই অনিমেষ কৃষ্ণ মিস্ত্রির ক্রয়কৃর্ত মেট্রোডিজিটাল স্টুডিওর পজিশন জনৈক ফকরুল নামক ব্যক্তির কাছে প্রতারণা করে শ্যামল কৃষ্ণ মিস্ত্রি বিক্রি করে প্রায় ১৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। তার এই প্রতারণার খেসারত দিচ্ছে তার মৃত ভাই অনিমেষের স্ত্রী ও সন্তান। প্রতারণার মাধ্যমে পজিশন বিক্রির কথা জানাজানি হলে শ্যামল তার মৃত ভাই অনিমেষের স্ত্রী ও সন্তানকে বাড়ি ছাড়ার হুমকি দিয়ে যাচ্ছে।

সু-চতুর শ্যামল কৃষ্ণ মিস্ত্রী ২০১৬ সালে ডুমুরিয়ায় চাকরি করা অবস্থায় তৎকালীন ডুমুরিয়ার সেটেলমেন্ট অফিসারের স্বাক্ষর জাল করে অপকর্মের মাধ্যমে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। তার এ সিন্ডিকেটের কাজ ছিল একজনের জমি অফিসারের স্বাক্ষর জাল করে অন্যজনের নামে রেকর্ড করিয়ে দেয়া। এ কাজ করতে যেয়ে তিনি হাতে নাতে ধরা পড়েন এবং চাকুরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত হন। কিন্তু পরবর্তীতে সেটেলমেন্টের তদন্ত কমিটিকে মোটা অংকের অর্থ দিয়ে ম্যানেজ করে চকুরীতে পূনর্বহাল হন। চকুরীতে পূনর্বহাল হলেও থেমে থাকেনি তার অপকর্মের মাধ্যমে অর্থ উর্পাজন। তার ছেলে শুভ, স্ত্রী ভারতী রায় ও শ্যামলের ব্যাংকে কালো টাকা ও ভারতী রায়েরর দ্বৈত নাগরিকত্ব গ্রহণ করার প্রমাণ পাওয়া যাবে।

শ্যামল কৃষ্ণ মিস্ত্রীর নন-গভর্নমেন্ট এবং সরকারি চাকরীজীবী হওয়া সত্ত্বেও তিনি পাসপোর্টে পেশা হিসেবে ব্যাবসায়ী উল্লেখ করার বিষয়ে কথা হয় খুলনা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসার সহকারী পরিচালক আবু সাইদ এর সাথে। তিনি বলেন, সরকারি চাকুরীজীবী হয়ে নন-গর্ভারমেন্ট পাসপোর্ট ব্যবহার আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এ ধরনের অপরাধে যারা জড়িত তাদের উদ্দেশ্য ভিন্নতা রয়েছে বলেই তারা সরকারি চাকুরীজীবী হয়ে নন-গভর্ণমেন্ট পাসপোর্ট ব্যবহার করেন। তিনি জানান, আমরা সু-নির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ ব্যাপারে শ্যামল কৃষ্ণ মিস্ত্রির সাথে হলে তিনি বলেন, কিছু কুচক্রী মহল আমার ফাসানোর জন্য এই ধরনের প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে। তার কাছে নাগরিকত্বের প্রমাণ দেখালে তিনি বলেন, কেহ আমার ছবি নিয়ে ভারতে ভোটার তালিকা ও আইডি কার্ড তৈরি করেছে। ভারতের নির্বাচন কমিশনের ওয়েব সাইটে আপনার পরিচয় পত্র দেখাচ্ছে জানালে তিনি কোন মন্তব্য না করে হঠাৎ উত্তেজিত কন্ঠে বলেন, আমার উপর মহলে হাত আছে। এ সব লিখে কোন কিছুই করতে পারবেন না যা পারেন লেখেন।

পশ্চিমবঙ্গ সরকার রেশন কার্ডে উল্লেখ আছে শ্যামল কৃষ্ণ মিস্ত্রি, পিতা-কৃষ্ণ কান্ত মিস্ত্রি, গ্রাম-পাল পাকুরিয়া, বারাসাত, উত্তর ২৪ পরগুনা, রেশন অঞ্চল-১৯, কার্ড নং-এল-আর-৭, যার ক্রমিক নং-৮৫১৯৪২।

সূত্র: দৈনিক সংগ্রাম

Comments

comments