কোটা আন্দোলন দমাতে না পারায় পদ গেল তাদের!

কোটা সংস্কার আন্দোলন দমাতে না পারায় দলীয় পদ হারাচ্ছেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন। এমন তথ্যই সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে বরিশাল বিএম বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের এক ছাত্রলীগ নেতার বক্তব্যের ভিডিও থেকে।

ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছিল আগেই। কিন্তু দলের অভ্যন্তর থেকে শীর্ষ নেতাদের দুর্নীতি ও অনিয়ম নিয়ে নানা অভিযোগ উঠলেও কাউন্সিলের কোন সম্ভাবনাই ছিল না। কিন্তু হঠাৎ করেই কোটা সংস্কার আন্দোলন বেগবান হওয়ার পর তা দমাতে না পারায় তড়িঘড়ি করে কাউন্সিল করার চেষ্টা করে আওয়ামী লীগ। যদিও সে কাউন্সিলের ফলাফল আজও পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি।

কোটা সংস্কার আন্দোলন পুনরায় বেগবান হওয়ার চেষ্টা করলে সাথে সাথে আলোচনায় আসে ছাত্রলীগ। কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে বরাবরের মতই সংবাদ সম্মেলন করতে চাইলে অতর্কিত হামলা করে ছাত্রলীগ। এতে কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম শীর্ষ নেতা নুরুল হক নুরসহ বেশ কয়েকজ গুরুতর আহত হয়। গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে ছাত্রলীগের এহেন কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা হলেও পরের দিনও সারাদেশে হামলা অব্যাহত রাখে ছাত্রলীগ। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ বেশ কয়েক স্থানে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা ছাত্রলীগের হামলায় গুরুতর আহত হয়। শান্তিপূর্ণ কর্মসূচীতে ছাত্রলীগের হামলায় সারাদেশে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।

বরিশাল বিএম কলেজে কোটা সংস্কার আন্দোলনে বাধা দিতে আসা ছাত্রলীগ নেতা খায়রুল হাসান সৈকত

আজ বরিশালের ব্রজমোহন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের (বিএম কলেজ) সাধারণ শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচী পালন করতে গেলে সেখানেও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা তাদের বাধা দেয়। আর তাতেই বেরিয়ে আসে কোটা সংস্কার আন্দোলনে বাধা দেয়ার রহস্য। খাইরুল হাসান সৈকত নামে এক ছাত্রলীগ নেতা দলবল নিয়ে এসে কোটা সংস্কার আন্দোলনে অংশ নেয়া শিক্ষার্থীদের বিভিন্নভাবে হুমকি দিতে থাকে। নিজেকে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান দাবি করলেও তার দাবি অনুযায়ী সে নিজেও কোটা সংস্কার আন্দোলনে যোগ দিয়েছিল। কিন্তু দলীয় সিদ্ধান্তের কারণে সে নিজেকে এই আন্দোলন থেকে সরিয়ে নিয়েছে।

ওই ছাত্রলীগ নেতা সাধারণ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য করে বলেন- ‘এখানে ছাত্রলীগ আছো কে কে? যারা ছাত্রলীগের আছো তারা পোস্ট পাবে না। শেখ হাসিনার দেয়া ৫টি শর্তের মধ্যে ছাত্রলীগের মধ্যে যারা কোটা সংস্কার আন্দোলনে থাকবে তারা কেউ পোস্ট পাবে না। সোহাগ-জাকির কেন আজ সাবেক হইছে জানো? কোটা আন্দোলন দমাইতে পারে নাই সেই জন্য। আমি তো আমার ফ্লোর ছাড়বো না, ছাড়বো? আমার ৮ বছরের পরিশ্রম না? আমি তোমাদের স্বার্থে তো আর ছাইড়া দিমু না। আমি মুক্তিযোদ্ধার সন্তান।

এসময় ছাত্রলীগ নেতা সৈকত বলেন- ‘তোমরা ফেসবুকে পাইতেছো যে আন্দোলন হইতেছে, তোমার ভাইকে মারতেছে, সে ফেসবুকটা দিছে শেখ হাসিনা সরকার। শেখ হাসিনার সরকার বারবার দরকার।’ এসময় তার এই কথা সাধারণ শিক্ষার্থীরা কটাক্ষ করে বার বার পুনরাবৃত্তি করতে থাকে।

এদিকে এই ঘটনার ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক হাস্যরসের সৃষ্টি করে। অনেকেই বিভিন্ন রকম কমেন্ট করে জানতে চান কেন ছাত্রলীগ কোটা সংস্কারের বিরুদ্ধে? নাকি ছাত্রলীগের জন্য গোপন কোন কোটা পদ্ধতি রয়েছে? যে ভরসায় তারা কোটা সংস্কার আন্দোলনে অংশ নেয়া সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিভিন্নভাবে হেনস্তা করছেন?

Comments

comments