ফারুককে তুলে নেয় ছাত্রলীগ, মামলা দেয় পুলিশ

অবশেষে খোঁজ মিলেছে কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম শীর্ষনেতা ফারুক হোসেনের। গতকাল থেকে তার কোন খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। আজ শাহবাগ থানা পুলিশ পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) একটি মোটরসাইকেল পোড়ানোর মামলায় গ্রেফতার দেখিয়েছে।

গতকাল কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে জড়ো হতে গেলে ছাত্রলীগের কর্মীরা হামলা চালায়। তাঁদের কিল, ঘুষি, লাথি মেরে ছত্রভঙ্গ করে দেয় ছাত্রলীগ। এতে বেশ কয়েকজন আহত হন। এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী ফারুক হোসেনকে আল আমিন নামে এক ছাত্রলীগ কর্মী মোটরসাইকেলে করে তুলে শাহবাগ থানায় নিয়ে যায়। কিন্তু এরপর থেকেই পুলিশ ফারুক হোসেনের ব্যাপারে কোন তথ্য না দিয়ে তার বন্ধু-বান্ধব ও পরিবারকে হয়রানি করে। আজ সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে শাহবাগ থানায় যোগাযোগ করা হলেও জানানো হয় যে, ফারুক হোসেন নামের কেউ সেখানে গ্রেপ্তার নেই।

আন্দোলনকারীদের মারধর করে শহীদ মিনার এলাকা রক্তাক্ত করে ছাত্রলীগ। শ্লীলতাহানী করে আন্দোলনে অংশ নেয়া ছাত্রীদের।

ফারুকের বড় ভাই মো. আরিফুল ইসলাম বেশ কয়েকবার শাহবাগ, রমনা ও নিউমার্কেট থানায় গিয়েও তাঁর ভাইয়ের সন্ধান পাননি।

ফারুকের ভাই আরিফুল ইসলাম জানান, ভাইয়ের খোঁজে তিনি শাহবাগ, রমনা ও নিউমার্কেট থানায় যান। কিন্তু কোথাও পাননি। তিনি ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। আল আমিন নামে ছাত্রলীগের এক কর্মী তাঁকে জানান, তিনিই ফারুককে তুলে নিয়ে শাহবাগ থানায় দিয়ে আসেন।

কিন্তু পুলিশ রহস্যজনকভাবে ফারুককে আটক করার বিষয়টি অস্বীকার করে। এতে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে ফারুকের পরিবার ও বন্ধুমহলে।

আজ দুপুরের পর ফারুক হোসেনকে পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) একটি মোটরসাইকেল পোড়ানোর মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তাঁকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আজ মঙ্গলবার আদালতে তোলা হচ্ছে বলেও জানা যায়।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উপকমিশনার (মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন) মাসুদুর রহমান আজ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে হামলা চালায় ছাত্রলীগ। আহত হয় কোটা সংস্কার আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক নূরসহ বেশ কয়েকজন ছাত্রনেতা।

সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের ব্যানারে কোটা সংস্কারের প্রজ্ঞাপন জারির দাবিতে গত শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে সংবাদ সম্মেলনের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় ছাত্রলীগের কর্মীরা হামলা চালিয়ে পরিষদের নেতা–কর্মীদের মারধর করে। এতে বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারী সাধারণ শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হন। ওই সময় ঘটনাস্থলে একটি মোটরসাইকেল পোড়ানো হয়। মোটরসাইকেলটি এসবির উল্লেখ করে এবং সেটি পোড়ানোর মামলায় পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক হোসেনকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ। আজ বিকেলের মধ্যেই তাঁকে আদালতে তোলা হবে বলে জানা গেছে।

অথচ সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করার পর সেদিন ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরাই ওই মোটরসাইকেলটি পুড়িয়ে দেয়। যার ছবি ও ভিডিও ফুটেজ সাংবাদিকদের কাছে রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত শনিবার কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সংবাদ সম্মেলনের সময় অতর্কিত হামলা চালায় ছাত্রলীগ। এ নিয়ে কথা বলতে বেসরকারি টেলিভিশন ইন্ডিপেন্ডেন্ট টিভির নিয়মিত অনুষ্ঠান এডিটর’স পিক এ অংশ নিতে তাদের স্টুডিওতে যান কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম শীর্ষ নেতা ফারুক হোসেন। উক্ত অনুষ্ঠানের সঞ্চালক বিশিষ্ট সাংবাদিক খালেদ মহিউদ্দিনের প্রশ্নের জবাবও দেন তিনি। কিন্তু ঐ অনুষ্ঠানে যোগ দেয়া রাবি ছাত্রলীগ সভাপতি সঞ্চালকের রাখা প্রশ্নগুলোর যথাযথ উত্তর দিতে ব্যর্থ হন। এর পরের দিন সকালেই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকা থেকে ফারুক হোসেনকে উপর্যুপরি মারধর করে তুলে নিয়ে যায় ছাত্রলীগ।

Comments

comments