চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা রাখার ইঙ্গিত প্রধানমন্ত্রীর

‘সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা থাকতে হবে, কমানো যাবে না’ বিরোধী দলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদের এই বক্তব্যকে সমর্থন করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘অবশ্যই, মুক্তিযোদ্ধাদের জন্যই তো আজ আমরা স্বাধীন। তাদের অবদানেই তো আমরা দেশ পেয়েছি।’

বুধবার জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে এ কথা বলেন তিনি। এর আগে রওশন এরশাদ তার বক্তব্যে বলেন, সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটাটা থাকতে হবে, কমানো যাবে না।

শেখ হাসিনা বলেন, আপনারা জানেন ১৯৭২ সালে মুক্তিযোদ্ধাদের কোটা দেয়া হয়। আমাদের অনেক এলাকা আছে যেসব এলাকা অনুন্নত, মেয়েদের জন্য, প্রতিবন্ধী এদের জন্য কোটা ব্যবস্থা। কিন্তু হঠাৎ দেখলাম আমাদের সব শিক্ষার্থীরা এর বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামলো- এই পদ্ধতি বাতিল করার জন্য। আমি চিন্তা করলাম হলে যারা থাকে তারা তো এসব গ্রাম থেকেই আসে। তারাই যদি এই পদ্ধতি না চায়, যাদের জন্য করি তারাই যদি না চায়, তাহলে এটি রাখার দরকারটা কি!

তিনি বলেন, এজন্য আমি কেবিনেট সেক্রিটারিকে দিয়ে একটি কমিটি গঠন করে দেই। এত বছর যে জিনিসটা চলছে তাকে তো রাতারাতি …। আমি বলেছি থাকবে না। ‘এই থাকবে না’-টাকে কীভাবে কার্যকর করা যায় তার জন্য কেবিনেট সেক্রেটারিকে দিয়ে একটি কমিটি করে দেয়া হয়েছে যাতে এটা বাস্তবায়ন করা যেতে পারে।

তিনি বলেন, তবে আমি ধন্যবাদ জানাই বিরোধী দলীয় নেতাকে। তিনি বলেছেন, মুক্তিযোদ্ধা কোটাটা থাকতে হবে। অবশ্যই মুক্তিযোদ্ধাদের জন্যই তো আজ আমরা স্বাধীন। তাদের অবদানেই তো আমরা দেশ পেয়েছি।

তিনি বলেন, আমাদের ছাত্ররা যারা উচ্চ শিক্ষা পায় সবচেয়ে কম খরচে তারা পড়ালেখা করেন। এ সময় তার দুই সন্তানের পড়ালেখার খরচ জোগানের কষ্টের কথা তুলে ধরে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন শেখ হাসিনা। টাকার অভাবে তার ছেলেমেয়েরা পড়ালেখার পাশাপাশি চাকরি করতেন বলেও তিনি সংসদে জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তবে প্রায় বিনাপয়সায় আমরা ছাত্রদের পড়াই। তারপরও যদি তারা রাস্তায় নামে, ভিসির বাড়ি ভাঙচুর করে, লুটপাট করে- এর চেয়ে লজ্জার আর কিছু নাই। সেজন্য আমরা কোটা পদ্ধতি বাদ দিয়েছি। এরপর মফস্বলের কেউ চাকরি না পায়, তার জন্য অত্যন্ত আমাদের দায়ী করতে পারবে না।’

Comments

comments