এমপিপুত্রের এডভেঞ্চার: জীবনের মূল্য ২০ লাখ টাকা

ঘাতক সাবাবের ফেসবুকে শেয়ার করা বেপরোয়া গাড়ি চালানোর ছবি

ঢাকা: রাজধানী ঢাকার মহাখালীর ফ্লাইওভারে গাড়িচাপায় পথচারী সেলিম ব্যাপারী নিহত হওয়ার ঘটনায় নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরীর পরিবারের পক্ষ থেকে ২০ লাখ টাকার বিনিময়ে মামলা তুলে নেয়ার প্রস্তাবে রাজি হয়েছেন নিহতের পরিবার।

এ আপোষের মধ্য দিয়ে প্রমাণীত হলো জীবনের মূল্য মাত্র ২০ লাখ টাকা।

তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে নিহত সেলিম ব্যাপারীর ভগ্নিপতি আবদুল আলিম (৫৫) বলেন, সেলিমের স্ত্রী জায়না বেগমের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ২০ লাখ টাকা দেয়া হয়েছে। আর প্রতি মাসে ২০ হাজার টাকা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন এমপি সাহেব। ভবিষ্যতেও পাশে থাকবেন বলেছেন।

আবদুল আলিম বলেন, গত বৃহস্পতিবার রাতে মহাখালীর ডিওএইচএসে নায়ার প্রোপার্টিজের ব্যাবস্থাপনা পরিচালক ইমরান হোসেনের উপস্থিতিতে ওই আপোস বৈঠক হয়। সেলিম ব্যাপারীর পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি এমপি একরামুল করিমের পক্ষে কয়েকজন সেখানে ছিলেন।

তিনি বলেন, এমপির পক্ষে যারা এসেছিলেন, তারা আমাদের ২০ লাখ টাকা দিয়েছেন। পরে এমপি সাহেবের সঙ্গেও আমরা দেখা করেছি। ওই মামলাটি এখন আমরা তুলে নেব।

নোয়াখালি-৪ আসনের আওয়ামী এমপি একরামুল করিম চৌধুরীর সাথে ঘাতক পুত্র সাবাব

এর আগে মঙ্গলবার (১৯ জুন) রাতে রাজধানীর মহাখালীর জাহাঙ্গীর গেট সংলগ্ন ফ্লাইওভারে গাড়িচাপার ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর গাড়িটি দ্রুত এসে সংসদ ভবনের উল্টো দিকের ন্যাম ফ্ল্যাটে ঢুকে যায়। গাড়িটিকে অনুসরণ করেন একজন মোটরসাইকেল ও আরেকজন প্রাইভেটকার আরোহী। পরে ন্যাম ফ্ল্যাট ও এর আশপাশের সিকিউরিটি গার্ডরা জানান গাড়িটি নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য একরামুল করীম চৌধুরীর। এটি তার স্ত্রী ও নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার চেয়ারম্যান কামরুন্নাহার শিউলির নামে রেজিস্ট্রেশন করা।

এ ঘটনায় কাফরুল থানায় ‘অজ্ঞাত’ আসামির বিরুদ্ধে একটি মামলা করা হয়। তবে ‘সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রমাণের অভাবে’ একরামুলের ছেলে শাবাব চৌধুরীকে অভিযুক্ত করেনি পুলিশ।

সেলিম ব্যাপারী মহাখালীর ডিওএইচএসে নায়ার প্রোপার্টিজের একটি গাড়ি চালাতেন।

Comments

comments