ব্যানারের আড়ালে ফুটওভারব্রিজে ছিনতাই

কাজী রফিকুল ইসলাম

রাজনৈতিক-সামাজিক নানা ব্যানারে ঢেকে আছে রাজধানীর ফুটওভার ব্রীজগুলি। যে কারণে বাহিরে থেকে বোঝার উপায় থাকে না ব্রীজের উপর বা ভেতরে কি হচ্ছে। সন্ধ্যার পর থেকেই এসব ফুটওভার ব্রিজে কমে যায় পথচারীর সংখ্যা। আর এসময় পারাপার করতে গিয়ে ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহারকারীদের অনেকেই শিকার হচ্ছেন ওৎ পেতে থাকা ছিনতাইকারীর।

সরেজমিনে দেখা গেছে, রাজধানীর কল্যানপুর ফুটওভার ব্রিজটি রমজানের শেষ দিকে এসে ছেয়ে যায় ঈদের শুভেচ্ছা সম্বলিত রাজনৈতিক ব্যানারে। ব্রিজের উভয় দিকেই এমনভাবে ব্যানার লাগনো হয়েছে যে, নিচ থেকে বোঝার উপায় নেই ফুটওভার ব্রীজে কি হচ্ছে। ফলে ছিনতাইকারীরা সহজেই ছিনতাই করে পথচারীদের সর্বস্ব কেড়ে নিচ্ছেন। এমনটাই বলছেন এ এলাকার বাসিন্দারা।

এছাড়াও পথচারী পারাপারের ফুটওভার ব্রিজটি ব্যবহার করা হচ্ছে খেয়াল-খুশি মতো। ডিশ ও ইন্টারনেটের তারের ছড়াছড়ি দেখা গেছে পুরো ফুটওভার ব্রিজ জুড়ে।

গত রমজানে একাধিকবার এমন ছিনতায়ের ঘটনা ঘটেছে এই ফুটওভার ব্রিজে। ছিনতাইয়ের শিকার অনেকেই পুলিশের কাছে অভিযোগ না করায় তা জনসম্মুখে আসেনি। ভুক্তভোগীরা বলছেন, থানায় অভিযোগ করেও লাভ হয় না। তাই যা খোয়া গেছে তা নিয়ে মাথা ব্যাথা বাড়াতে চান না তারা।

রমজানে রাজধানীতে ছিনতাইকারীদের কবলে প্রাণ গেছে অনেক মানুষের। এমনটি উল্লেখ করে এক ভুক্তভোগী রাসেল ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘২৫ রোজায় এই ওভারব্রিজ থেকে আমার মোবাইল, টাকা সব নিয়ে গেছে। দায়িত্ববান নাগরিকের পরিচয় দিতে ওভারব্রিজ দিয়ে রাস্তা পার হতে গিয়েছিলাম। পুরো ওভারব্রিজে ওরাই (ছিনতাই) ছয়জন ছিল। দুজন এসে ছুরি ধরলো, আমাকেও বাধ্য হয়ে সব দিয়ে দিতে হলো। টাকা-মোবাইলের জন্য জীবন দেব নাকি?’

তিনি আরো বলেন, ‘ওভারব্রিজে ব্যানার এমন ভাবে লাগানো হয়েছে যাতে ছিনতাইকারীদের পুরোপুরি সুবিধা হয়। খোলা থাকলে তো আশপাশ থেকে সব দেখা যাবে। তাই ব্যানার লাগিয়ে একেবারে ভাল ব্যবস্থা করা হয়েছে।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক ব্যবসায়ী ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘শুধু ঈদের আগে না। এহানে সারা বছরই ছিনতাই হয়। মাসের পাঁচ তারিখ থেকে ১০ তারিখ গার্মেন্টেসের শ্রমিকেরা বেতন পায়। তখন ছিনতাই বেশি হয়। তাছাড়া মানুষ যখন ঢাকার বাইরে বেশি যায় বা ভোরবেলা আসে তখনো হয়। নিজের দেখা, কত লোকরে ছুরি ধইরা বিজের উপরে নিয়া সবকিছু রাইখা দিল। চেহারা তো অনেকেরই চিনি, এরা সব কল্যাণপুরেই থাকে।’

তবে কল্যাণপুর ওভারব্রিজে ছিনতাই হয় এমন তথ্য নেই পুলিশের কাছে। দারুসসালাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিমুজ্জামান বলেন, ‘কল্যাণপুর ওভারব্রিজে ছিনতাই হয়, এমন কোনও অভিযোগ আমাদের কাছে নেই। ব্যানারের বিষয়টা সিটি করপোরেশনের, এটা তারা দেখবে। তারপরো আমরা বিষয়টি দেখবো।’

ওসি আরো বলেন, ‘মিরপুর ১ নম্বর ওভারব্রিজে সন্ধ্যার পর কিছু মেয়ে ওঠে সেটা আমরা জানি। আমাদের পুলিশ সদস্যরা তাদের দেখা মাত্র নামিয়ে দেয়। এছাড়া আমরা এসব বিষয়ে নজর রাখছি।’

শুধু মিরপুর-১ ও কল্যাণপুর নয় ফুটওভার ব্রিজকে কেন্দ্র করে ছিনতাই, গাঁজাসহ নানা মাদক বিক্রি ও যৌন ব্যবসা লক্ষ্য করা গেছে রাজধানীর অনেক ফুটওভার ব্রিজে। এর মধ্যে রয়েছে আসাদগেট ফুটওভার ব্রিজ, পরীবাগ, কারওয়ান বাজার, মিরপুর-১০, এলিফ্যান্ট রোড ফুটওভার ব্রিজ।

এসব ব্রিজে সম্প্রতি শুরু হয়েছে হিজড়াদের চাঁদাবাজি ও ছিনতাই। সন্ধ্যার পর থেকে সারারাত চলে এই ছিনতাইয়ের রাজত্ব। মিরপুর-১, ১০ ও রামপুরা, বনশ্রী এলাকায় ছিনতাইকারীদের অতিরিক্ত তৎপরতা দেখা যায় ভোরবেলা।

নানা প্রতিষ্ঠান ও রাজনৈতিক ব্যানারে ঘেরা ফুটওভার ব্রিজে এমন ছিনতাইতের ঘটনা ঘটছে বেশি। ব্যানারের আড়ালে খুব সহজেই আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের চোখ ফাঁকি দিচ্ছে এসব ছিনতাইকারীরা।

ঢাকাটাইমস

Comments

comments