ছোট ভাইয়ের মৃত্যুতে প্যারোলে মুক্তি পাননি আল্লামা সাঈদী (ভিডিও)

ছোট ভাইয়ের জানাজার নামাজ পড়াতে প্যারোলে মুক্তির আবেদনে সাড়া দেয়নি সরকার। ফলে মুক্তি পাননি আল্লামা দেলাওয়ার হোসেন সাঈদী। দুপুর দেড়টায় মতিঝিল সরকারী বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবার কথা থাকলেও আল্লামা সাঈদী প্যারোলে মুক্তি পেতে পারেন সেই আশায় জানাজার সময় পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল। অবশেষে বিকাল ৪.০০ টায় আল্লামা দেলাওয়ার হোসেন সাঈদীর ছেলে শামীম সাঈদীর ইমামতিতে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর পুত্র ইন্দুরকানী উপজেলা চেয়ারম্যান মাসুদ সাঈদী জানাযাপূর্ব সমাবেশে উপস্থিত মুসুল্লীদের উদ্দেশ্যে বলেন, সরকারের আশ্বাসের কারণে জানাজা দেরি করে অনুষ্ঠিত হয়েছে। মানবিক কারণে আমরা তার মুক্তির আশা করেছিলাম। কিন্তু এ সরকারের কাছে মানবিকতা আশা করা বোকামি।

তিনি বলেন, আমি এবং আমার আইনজীবী কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করলে আমাদেরকে বারবার আশ্বাস দেয়া হয়েছিল যে সাইদীকে প্যারোলে মুক্তি দেয়া হবে। তার মুক্তির বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তাই জানাজার নামাজ দেড়টা থেকে পিছিয়ে আসরের পর নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ আমাদের আবেদনে সাড়া দেননি।

তিনি বলেন, আপনাদের কাছে দোয়া চাই। আল্লাহ তায়ালা যেন আপনাদের সকলের প্রিয় মানুষ আল্লামা সাঈদীকে উত্তম ধৈর্যধারণের তৌফিক দান করেন। আল্লাহ যেন এই ময়দানে তাকে আবার ফিরিয়ে নিয়ে আসেন।

জানাযা পূর্ব সমাবেশে আল্লামা সাঈদীর মেঝ পুত্র শামীম সাঈদী বলেন, গতকাল আমরা এই সংবাদ জানানোর জন্য আব্বার সাথে সাক্ষাত করতে গিয়েছিলাম। কারা কর্তৃপক্ষ সাক্ষাত করার সুযোগ দিতে চায়নি। সাড়ে তিন ঘন্টা জেলগেটে অবস্থান করার পর তারা মাত্র একজনকে সাক্ষাতের অনুমতি দেয়। একজন বলতে শুধু আমার চাচী। অনেক অনুনয় বিনয় করার পর আমার আম্মাকে সাক্ষাতের অনুমতি দেয়।

জানাযায় ইমামতি করছেন আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মেঝ পুত্র শামীম সাঈদী

তিনি বলেন, আমার চাচার শেষ ইচ্ছা ছিল আমার বাবা আল্লামা সাঈদী যেন তার জানাযা পড়ান। আমরা তাকে প্যারোলে মুক্তি দিতে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আবেদন করেছিলাম। কিছুক্ষণ আগ পর্যন্ত তারা (কারাকর্তৃপক্ষ) বলছে প্রক্রিয়াধীন। একটা সিগনেচার বাকী। এই একটা সিগনেচারই আর শেষ হলো না।

শামীম সাঈদী বলেন, এর আগে আপনারা জানেন এই মাঠে আমার দাদীর জানাযা হলো, আমার শ্রদ্ধেয় বড় ভাইয়ের জানাযা হলো, ওনাকে ছয় ঘন্টার প্যারোল দিল ঠিকই। কিন্তু আপনারা সকলেই সাক্ষী। এইখানে আসলেন। জানাযা পড়ালেন। সাথে সাথে নিয়ে গেলেন। নিয়ম অনুযায়ী অন্তত তার পরিবারের সদস্যদের সাথে কিছুক্ষণ কথাবার্তা বলা, অন্তত আমার যে বড়ভাইটা চলে গেলেন তার স্ত্রীর সাথে সান্তনামূলক কথা বলা, আমার মায়ের সাথে একটু কথা বলা সেই সুযোগও তাকে দেয়নি। আজকে আমার চাচার এই ছেলেটা, একমাত্র ছেলে তাকে যে একটু সান্তনা দেবে সেই সুযোগ সেই মানবিক দৃষ্টিতে তারা দেখতে পারলেন না।

এদিকে আল্লামা সাঈদী প্যারোলে মুক্তি পেতে পারেন এমন সংবাদে জোহরের নামাজের পরপরই মতিঝিল সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠসহ আশেপাশের এলাকায় জনসমাগম বাড়তে থাকে। হাজার হাজার মানুষ জড়ো হন স্কুলের মাঠে। তাই সকলের কথা বিবেচনা করে বিকাল ৪ টায় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

সোমবার মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর পুত্র ইন্দুরকানী উপজেলা চেয়ারম্যান মাসুদ সাঈদী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে সাঈদীকে প্যারোলে মুক্তির জন্য আবেদন করেছিলেন। তারা সাঈদীর মুক্তির ব্যাপারে আশাবাদীও ছিলেন।

অন্তিম শয্যায় আল্লামা সাঈদীর ছোট ভাই আলহাজ্ব হুমায়ুন কবির সাঈদী

জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী ছোট ভাই আলহাজ্জ্ব হুমায়ুন কবির সাঈদী (৫৬) গতকাল সোমবার সকালে ঢাকার ইব্রাহীম কার্ডিয়াক (বারডেম) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। ইন্নানিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন। ৫ দিন ধরে নিউমেনিয়া জ্বর এবং হৃদরোগেও আক্রান্ত হয়ে তিনি ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, ২ মেয়ে ও ১ ছেলে রেখে গেছেন।

এর আগে ২০১১ সালের ২৭ অক্টোবর সাঈদীর মাতা গুলনাহার ইউসুফের মৃত্যুর পর এবং তার বড় ছেলে মাওলানা রাফিক বিন সাঈদী’র ২০১২ সালের ১৩ জুন মৃত্যুর পর তিনি প্যারোলে মুক্তি পেয়ে তিনি ২৮ অক্টোবর মায়ের এবং ১৪ জুন ছেলের জানাজার নামাজ পড়ান।

Comments

comments