ডুবে আছে হাসপাতাল, পুলিশ ফাঁড়ি

খাগড়াছড়ি জেলা সদর ও মহালছড়ির বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হলেও জেলার দীঘিনালার বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। দীঘিনালার মেরুং ইউনিয়নে এখনো ডুবে আছে হাসপাতাল, পুলিশ ফাঁড়ি এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ মেরুং বাজারের তিন শতাধিক দোকানসহ ঘরবাড়ি।

বন্যার শুরু থেকে গত তিন দিন ধরে ওই এলাকায় বিদ্যুৎ সেবা বন্ধ রয়েছে। চাষ করা পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে খাগড়াছড়ি-রাঙামাটি ও দীঘিনালা-লংগদু সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা। একইসঙ্গে নদীভাঙনের আতঙ্কে রয়েছেন মেরুংবাসী। আকস্মিক এই বন্যায় থমকে গেছে খাগড়াছড়িবাসীর ঈদ আনন্দ।

দীঘিনালা উপজেলা চেয়ারম্যান নব কমল চাকমা আমাদের সময়কে জানান, দীঘিনালা উপজেলার বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকায় প্রায় তিন হাজার মানুষ মানতেবর জীবন কাটাচ্ছে। বিভিন্ন আশ্রয় শিবিরে ও স্বজনদের বাড়ীতে দুই হাজার পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। সেনাবাহিনীর সহায়তায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা দুর্গতদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেছে।

খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক মো. রাশেদুল ইসলাম জানান, পর্যাপ্ত ত্রাণ রয়েছে। ক্ষয়ক্ষতি নিরুপন করে সবার কাছে সাহার্য্য পৌঁছে দেওয়া হবে।

এদিকে খাগড়াছড়ি জেলা সদর ও মহালছড়ির বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে এখনো নিজবসত বাড়িতে ফিরতে পারেনি লোকজন। ভাসিয়ে নিয়ে গেছে কয়েকশত পুকুরের মাছ, গবাদি পশু ও ক্ষেতের ফসল। চেঙ্গী নদীর পানি কমার সঙ্গে নদীভাঙনের তীরবর্তী মানুষের মাঝে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

টানা বর্ষণে স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যা খাগড়াছড়ি শহরের অধিকাংশ এলাকা ও মহালছড়ি উপজেলার পাঁচটি গ্রাম পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে অন্তত চার হাজার মানুষ পানিবন্দী ও সহস্রাধিক পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে এসেছে। পাহাড় ধসে মাটিচাপা পড়ে বেশ কিছু কাচা ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। খাগড়াছড়ির পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড এবং সড়ক ও জনপদ বিভাগের অফিসে পানি ঢুকে গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র নষ্ট হয়ে যায়।

Comments

comments