ধর্ষণচেষ্টায় গণপিটুনি: যুবলীগ নেতার ভিডিও ভাইরাল

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে এক তরুণীকে জোর করে প্রাইভেটকারে (ঢাকা মেট্রো- গ ২৯৫৪১৪) তুলে নিয়ে ধর্ষণকালে রনি হক নামে এক যুবলীগ নেতাকে ধাওয়া করে আটক করেছে জনতা।

পরে অভিযুক্ত রনি ও তার গাড়িচালককে প্রাইভেট থেকে বের করে বেধড়ক মারধর করে তারা। একপর্যায়ে ঘটনাস্থল থেকে চালক পালিয়ে গেলেও রনিকে শেরেবাংলা নগর থানার পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়েছে।

ধর্ষক রনি হক রাজধানীর ধানমণ্ডি থানার ১৫নং ওয়ার্ড যুবলীগের নেতা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যুবলীগের বিভিন্ন প্রোগ্রামে তার সরব উপস্থিতির প্রমাণ রয়েছে। এছাড়াও ঢাকা-১০ আসনের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপসের সঙ্গে তার কয়েকটি ছবি ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

শনিবার রাতে কলেজগেট সিগন্যাল থেকে যু্বলীগ নেতা রনিকে আটক করা হয় বলে জানিয়েছে শেরেবাংলা নগর থানার পুলিশ।

অভিযুক্ত রনি হক দুই সন্তানের জনক। বেসরকারি ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের এই সাবেক ছাত্র পেশায় ব্যবসায়ী।

জানা গেছে, কলেজগেট সিগন্যালে দাঁড়িয়ে থাকা প্রাইভেটকারের ভেতরে এক তরুণীর সঙ্গে ধস্তাধস্তি করছিলেন যুবলীগ নেতা রনি। ওই সময় আরেকটি গাড়িতে ছিলেন রাফি আহমেদ নামে এক ব্যক্তি। তিনি মনে করছিলেন গাড়ি নিয়ে পালানোর চেষ্টা চলছে।

এর পর রাফিসহ সেখানে থাকা আরও কয়েকজন এগিয়ে গিয়ে রনির প্রাইভেটকারটি আটকে ফেলেন। তখন তারা দেখতে পান গাড়ির পেছনের আসনে রনি এক তরুণীকে ধর্ষণের চেষ্টা করছে। পরে জনতা গাড়ির ভেতর থেকে আক্রান্ত তরুণী, অভিযুক্ত মদ্যপ তরুণ ও গাড়িচালককে বের করে আনেন।

তরুণী জনতাকে জানান, তাকে রাস্তা থেকে জোর করে গাড়িতে তুলে ধর্ষণের চেষ্টা করা হচ্ছিল। এরপর জনতা ওই তরুণ ও গাড়িচালককে উপর্যপুরি গণধোলাই দেন।

ঘটনা সম্পর্কে রাফি আহমেদের বিবরণ “আজ অফিস থেকে ফেরার পথে মোহাম্মদপুর, কলেজগেট সিগন্যালে ঠিক আমার সামনের গাড়িটাতে লক্ষ্য করে দেখি ভেতরে একটি ছেলে ও একটি মেয়ে ধস্তাধস্তি করছে এবং গাড়ির ড্রাইভারের গাড়ি চালানোর ভঙ্গিমা দেখে মনে হচ্ছিল যে, সে গাড়িটা নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। তবে দুর্ভাগ্য তাদের, রাস্তায় তীব্র জ্যাম থাকায় গাড়িটি বেশি দূর যেতে পারেনি। এমতাবস্তায় আমি আমার গাড়ি থেকে নেমে সামনে যেতে যেতে দেখি আরও কিছু লোক গাড়িটির দিকে লক্ষ্য করে এগোচ্ছে। তখনো ভাবতে পারিনি এতটা নিচ ও নিকৃষ্ট ঘটনার চাক্ষুস প্রমাণ হতে যাচ্ছি।

আমি গাড়িটির কাছে যেতেই দেখি ছেলেটি মেয়েটিকে ধর্ষণ করছে। গাড়ির দরজা খুলে প্রথমে আমরা মেয়েটিকে বাইরে বের করে নিয়ে আসি, পরে অপর পাশের দরজা খুলতেই দেখি অতিপরিচিত সেই ছেলেটি অর্থাৎ বড়লোক বাবার বখে যাওয়া নষ্ট সন্তান। ছেলেটিকে বাইরে বের করতে গিয়ে সহ্য করতে হয়েছে বাজে মদের গন্ধ। আর নিজেকে সামলাতে পারলাম না। অতঃপর বসিয়ে দিলাম ওই জানোয়ারের কানের নিচে আমার বাম হাতের পাঁচ আঙুলের চিহ্ন। এর পর ক্ষুব্ধ জনতা চিলের মতো করে আমার কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে তাদের বাকি দায়িত্ব পালন করল।

পরে মেয়েটির কাছ থেকে জানতে পারলাম, ওই নর-পিচাশটা মেয়েটিকে রাস্তা থেকে জোর করে তুলে নিয়ে এসেছে।”

এদিকে তরুণীকে ধর্ষণচেষ্টাকালে জনতার হাতে আটক ধানমণ্ডি ১৫ নং ওয়ার্ড ‍যুবলীগ নেতা মাহমুদুল হক রনির (৩২) বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

রোববার সন্ধ্যায় শেরেবাংলা নগর থানার ওসি জিজি বিশ্বাস মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, শ্লীলতাহানির শিকার ওই তরুণী (২১) বাদি হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

এর আগে শনিবার রাতে রনিকে আটক করে বেধড়ক মারধরের পর শেরেবাংলা নগর থানার পুলিশের কাছে সোপর্দ করে জনতা।

এরপর দুপুর পর্যন্ত রনিকে আটক ও ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলছিল না ওই থানার পুলিশ।

তবে দুপুর আড়াইটার দিকে থানার ওসি জিজি বিশ্বাস জানিয়েছিলেন, আটক রনি হককে থানায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। যে তরুণীকে ধর্ষণচেষ্টা করা হয়েছিল তাকে পুলিশ খুঁজছে। তাকে পাওয়ার পর রনির বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।

Comments

comments