রাবি ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে আম লুটের অভিযোগ!

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে রাতের আঁধারে আম লুট করার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার ভোরে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা প্রায় ১০ মণ আম লুট করেছে বলে অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ক্যাম্পাসের শহীদুল্লাহ কলা ভবন, মমতাজউদ্দিন কলা ভবন, প্রশাসন ভবন এলাকার তিনটি আমবাগান টেন্ডার নিয়েছিলেন রাশেদ খান নামের এক ব্যবসায়ী। যার মূল্য ছিল ৩০ হাজার টাকা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাত ৪টার দিকে ছাত্রলীগের প্রায় ২৫ জন নেতাকর্মী কয়েকটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে গাছগুলো থেকে আম পেড়ে নিয়ে গেছে। দায়িত্বরত গার্ড তাদের আম পাড়তে নিষেধ করলেও তারা তা শোনেনি।

বাগানের ঠিকাদার রাশেদ খান বিপু জানান, সাহরি শেষ করার পর গার্ডের মাধ্যমে জানতে পারি এক দল লোক গাছ থেকে আম পাড়ছে। বাগানে উপস্থিত হয়ে দেখি আম পাড়া শেষ করে প্রায় ২৫ জন ব্যক্তি বস্তায় আম তুলছে। তাদের নিষেধ করলে তারা আবারও আম পাড়তে থাকে এবং তারা ছাত্রলীগের নেতা পরিচয় দেয়। তাদের মধ্যে কেউ সহসভাপতি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, সহসম্পাদক বলে জানান তারা। বাগানের যেসব ভালো ভালো আম বিশেষ করে (হিমসাগর, ল্যাংড়া) তারা সবগুলোই পেড়ে নিয়ে গেছে।

তিনি আরও জানান, বাগানগুলো টেন্ডার নেয়ার পর ছাত্রলীগের কয়েকজন ভাই কয়েকবার প্রকাশ্য আম পাড়তে এসেছিল। তাদের নিষেধ করায় তারা দাবি করেছিলেন, আম বিক্রি করার পর যে টাকা লাভ হবে তার কিছু অংশ যেন তাদের দেই। গত বুধবার তাদের সঙ্গে এ বিষয়ে মিটিং হয়েছিল। লাভ হলে কিছু দিতে চেয়েছিলাম। বর্তমানে লাভ তো দূরের কথা মূল টাকাও পাওয়া যাবে না।

এ বিষয়ে ছাত্রলীগ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি গোলাম কিবরিয়ার সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেনি। সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনুর ফোনটিও বন্ধ পাওয়া যায়।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান জানান, ‘আম পাড়ার বিষয়টি শুনেছি। এই বাগানগুলো কৃষি প্রকল্পের আওতায়। আমাকে এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। লিখিত অভিযোগ দিলে কৃষি প্রকল্পের প্রধানের সঙ্গে কথা বলে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় উপ-উপাচার্য ও কৃষি প্রকল্পের প্রধান অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা বলেন, ‘বিষয়টি শুনেছি। প্রশাসনিকভাবে ব্যবস্থা নেয়ার কথা প্রক্টরকে বলেছি।

সূত্র: যুগান্তর

Comments

comments