কৌশলগত অংশীদারের মতো আচরণ করুন, যুক্তরাষ্ট্রকে এরদোগান

আঙ্কারা: তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান ন্যাটো জোটের মিত্র যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, তুরস্কের অস্ত্র চুক্তিতে আইনি বাধা প্রদান না করে বরং দেশটির উচিৎ আঙ্কারার সঙ্গে আরো বেশি কৌশলগত অংশীদারের মতো আচরণ করা।

আঙ্কারার কাছে ‘এফ-৩৫’ যুদ্ধবিমান বিক্রি বাতিলে মার্কিন পরিকল্পনার জবাবে তুর্কি প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে এই মন্তব্য এলো।

শুক্রবার তুরস্কের স্টার টিভিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এরদোগান বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রকে আমরা আমাদের কৌশলগত অংশীদার হিসেবে বলে থাকি। আমাদের কৌশলগত অংশীদার হিসাবে, যুক্তরাষ্ট্রের এটা বলা উচিৎ নয় যে আমরা যেন অন্য কোনো দরজায় কড়া নাড়ি।’

আঙ্কারার কাছে বিক্রির জন্য ‘এফ-৩৫’ স্টিল্থ যুদ্ধবিমানের চালান স্থগিতের জন্য সম্প্রতি মার্কিন সিনেটে উত্থাপিত একটি বিলের রেফারেন্স টেনে এরদোগান বলেন, ‘আমরা যদি কৌশলগত অংশীদার হই, আমরা যদি আদর্শ অংশীদার হয়ে থাকি, তাহলে এখানে আমাদের সঙ্গে আইনত ভুল যুক্তরাষ্ট্রের উচিৎ হবে না।’

সামরিক ব্যয় সম্পর্কিত বিলটি ভোটের জন্য রিপাবলিকান এবং ডেমোক্রেটিক উভয় দলের সিনেটরা চাপ দিচ্ছেন। এই বিলে বলা হয়েছে, যদি আঙ্কারা ন্যাটোর আন্তঃক্রিয়ার অবনতি ঘটায় এবং ন্যাটোর সম্পদকে প্রতিক্রিয়াশীল দেশের নেতাদের কাছে প্রকাশ করে সেক্ষেত্রে আঙ্কারাকে প্রতিশ্রুত বিমান দেয়া হবে না।

মার্কিন নিষেধাজ্ঞার অধীন দেশগুলোর কাছে আঙ্কারা অস্ত্র বিক্রির চেষ্টা করতে পারে- এই শঙ্কা থেকেও সিনেটররা তুরস্ককে বিমান না দেয়ার কথা বলছেন।

‘এফ-৩৫’ যুদ্ধবিমান

মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্কের মধ্যে হঠাৎ এই তিক্ত সম্পর্কের কারণ আঙ্কারায় আটক মার্কিন নাগরিক অ্যান্ড্র ব্রানমানকে নিয়ে উত্তেজনা। তার বিরুদ্ধে তুরস্কের আদালতে সন্ত্রাসবাদ ও গোয়েন্দাগিরির অভিযোগ আনা হয়েছে।

ব্রানমান যদি দোষীসাব্যস্ত হন তাহলে তার ৩৫ বছর পর্যন্ত জেল হতে পারে। সম্প্রতি ব্রানমানকে মুক্ত করার বিষয় নিয়ে তুরস্ক ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে টানাপড়েন সম্পর্ক শুরু হয়। আর এ কারণেই যুক্তরাষ্ট্র এফ-৩৫ বিমান বিক্রি বন্ধ করে দেওয়ার উদ্যোগ নেয়।

২০১৬ সাল থেকে ব্রানমান সেখানে প্রাক বিচারিক আটকাদেশে রয়েছেন। তাকে ছাড়ার ব্যাপারে তুরস্কের কঠোর মনোভাবের কারণে এই সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। সিরিয়ার বিষয় নিয়েও তুরস্কের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের দূরত্ব রয়েছে।

রাশিয়া থেকে এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র কেনার তুর্কি পরিকল্পনার পাক্কালে বিলটি উত্থাপন করা হলো। চুক্তিটি গত ডিসেম্বর আঙ্কারা ও মস্কোর মধ্যে সম্পাদিত হয়েছিল।

সূত্র: আরটি ডটকম

Comments

comments