‘কামু’ বেঁচে থাকলে নিহত ব্যক্তি কে?

কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত এই ব্যক্তির পরিচয় মেলেনি। পুলিশের দাবি সে কামু। কামুর স্ত্রীর দাবি কামু কারাগারেই আছে।
  • পুলিশের দাবি সে মাদক ব্যবসায়ী কামু
  • পুলিশের দেয়া ঠিকানায় এই নামের কারো হদিস মেলেনি
  • এখনও লাশ সনাক্ত করেনি নিহতের পরিবারের কেউ

গাজীপুরে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ কামরুল ইসলাম কামু (৩২) নামের একজন নিহত হয়েছে বলে পুলিশ দাবি করলেও তার স্ত্রী বলছেন তার স্বামী জীবিত। তিনি কাশিমপুর কারাগারে আছেন। কামুর স্ত্রী জোস্না বেগম বলেন,‘ আমার স্বামী তো মরে নাই, সে জীবিত।’ শুক্রবার দুপুরে কাশিমপুর কারাগারে গিয়ে স্বামীকে দেখেও এসেছেন তার স্ত্রী।

জোস্না বেগম বলেন, ‘কামু বিভিন্ন মামলায় গত দুই বছর ধরে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন। এর আগে গত ২০ মে তার সঙ্গে আমার সর্বশেষ কথা হয়েছে। শুক্রবার (১ জুন) দুপুরে সাংবাদিকরা ফোন করে বিভ্ন্নি রকম তথ্য জানতে চাইলে আমি আতঙ্কিত হয়ে পড়ি। পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি- কামু পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে। এর সত্যতা নিশ্চিত করতে আমি শুক্রবার দুপুর ৩টার দিকে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে গিয়ে স্বামীর সঙ্গে দেখা করি। তিনি জীবিত ও কারগারে আছেন।’

কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২ এর জেল সুপার প্রশান্ত কুমার বণিক জানান, টঙ্গীর এরশাদনগর এলাকার মৃত তমিজ উদ্দিনের ছেলে কামরুল ইসলাম কামু তার কারাগারে রয়েছে।

গাজীপুরে বৃহস্পতিবার রাত আড়াইটায় পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ এক ব্যক্তি নিহত হন। পুলিশ প্রথমে জানায়, তার নাম কামরুল ইসলাম কামু (৩২)। পরে পুলিশের কাছে জানতে চাইলে তারা দাবি করে, নিহত ব্যক্তির নাম কামাল খান ওরফে কামরুল ইসলাম ওরফে কামু। পুলিশ নিহত ব্যক্তির যে নাম ঠিকানা দিয়েছে সেখানে গিয়েও ওই নামে কারও কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি। নিহত ব্যক্তির লাশ গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে।

গাজীপুর জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের পরিদর্শক আমীর হোসেন অন্যান্য বন্দুকযুদ্ধের ঘটনার মত করেই জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ কালীগঞ্জের উলুখোলা এলাকায় রাত ১০টায় দিকে অভিযান চালায়। পুলিশ উলুখোলা মসজিদের পাশের রাস্তা থেকে মাদক বিক্রির সময় কামরুল ইসলামকে গ্রেফতার করে। এসময় তার কাছ থেকে চার হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার ও একটি এলিয়ন প্রাইভেটকার জব্দ করা হয়। তাকে নিয়ে কালীগঞ্জ থানায় যাওয়ার পথে তার সহযোগীরা মহানগরের ভাদুন এলাকায় পুলিশের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। পুলিশও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি ছুড়ে। এসময় কামরুল গাড়ি থেকে লাফ দিয়ে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে রয়েছে।

পুলিশ জানায়, বন্দুকযুদ্ধে নিহত কামু টঙ্গীর এরশাদ নগর এলাকার মৃত সিরাজ উদ্দিন খান ওরফে তমিজ উদ্দিন খানের ছেলে। কিন্তু বিকাল ৫টার পর পুলিশ জানায়, নিহতের নাম কামাল খান ওরফে কামু (৩২)। সে টঙ্গীর পূর্ব আরিচপুর এলাকার মৃত সিরাজ খানের ছেলে।

গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক আমীর হোসেন আরও জানান, কামাল খান ওরফে কামরুল ইসলাম ওরফে কামুর বিরুদ্ধে গাজীপুর, কালীগঞ্জ, ঢাকার শেরেবাংলা থানা ও নারায়ণগঞ্জ থানায় দু’টি হত্যা, ডাকাতির চেষ্টা, চাঁদাবাজি ও মাদক মামলাসহ ১৪টি মামলা রয়েছে। টঙ্গী থানায় জোড়া খুনের মামলাসহ (নং ২২ তারিখ ২২.০৫.২০১৬) মোট ১৪টি মামলা আসামি।

টঙ্গী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন জানান, নিহতের বিরুদ্ধে টঙ্গী থানায় শরীফ ও জুম্মন নামে দুই যুবক খুনের মামলাসহ একাধিক মামলা রয়েছে।

তবে শুক্রবার দুপুরে ডিবি পুলিশ গাজীপুরে কর্মরত সাংবাদিকদের স্বাক্ষরবিহীন একটি প্রেস রিলিজ সরবরাহ করেছে। সেটিতে টঙ্গী থানার জোড়া খুন মামলাসহ (নং ২২ তারিখ ২২.০৫.২০১৬) ১৪ মামলার আসামি হিসেবে কামরুল ইসলাম কামুকে চিহ্নিত করা হয়। দাবি করা হয় কারাগারে থাকা কামুও ওই মামলার আসামি।

পুলিশের কাছে এসব বিষয়ে জানতে চাইলে বিকাল ৫টার পর থেকে ডিবি পুলিশ সূত্র জানায়, কামরুল ইসলাম ওরফে কামাল খান ওরফে কামু (৩২) টঙ্গীর পূর্ব আরিচপুর এলাকার মৃত সিরাজ খানের ছেলে এবং তার নামে, মাদকসহ তিনটি মামলা রয়েছে। কিন্তু আরিচপুরে কামু নামে কারও সন্ধান দিতে পারেনি স্থানীয়রা।

বন্দুকযুদ্ধে নিহতের মরদেহ গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রয়েছে। গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক প্রণয় ভূষণ দাস বলেন, ‘কামুর বুকের বাম পাশে তিনটি গুলি বিদ্ধ হওয়ার চিহ্ন রয়েছে। তিনটি গুলিই পেছন দিক দিয়ে বেরিয়ে গেছে।’

সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন

Comments

comments