কোটি টাকার ভবনের বিনিময়ে ডি-লিট ডিগ্রী!

ভারতে ডি- লিট ডিগ্রী গ্রহণ করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

ইতোপূর্বে রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যয় করে ডিগ্রী অর্জনের অভিযোগ থাকলেও এই প্রথমবারের মতো তা সাংবাদিকদের সামনে নিজেই স্বীকার করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

গত ২৫ মে, শুক্রবার দুই দিনের সফরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় যান শেখ হাসিনা। সেখানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যৌথভাবে শান্তিনিকেতনে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘বাংলাদেশ ভবন’ উদ্বোধন করেন।

পরে ২৬ মে, শনিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পশ্চিমবঙ্গের আসানসোলে কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ডি-লিট ডিগ্রি গ্রহণ করেন।

বুধবার (৩০ মে) বিকাল চারটায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন-উত্তর পর্বে ভারতের আনন্দ বাজার পত্রিকা ‘বাংলাদেশ ভারতের কাছে প্রতিদান চায়’ শীর্ষক প্রকাশিত খবরের সূত্র ধরে সাংবাদিক মনজুরুল আহসান বুলবুল প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানতে চান, ‘আপনি কোন প্রতিদান চেয়েছেন কিনা? চাইলে কোনও আশ্বাস পেয়েছেন কিনা।

জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি কোনও প্রতিদান চাই না। প্রতিদানের কী আছে? আর কারও কাছে পাওয়ার অভ্যাস আমার কম। দেওয়ার অভ্যাস বেশি।’

বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্মিত বাংলাদেশ ভবন উদ্বোধন করছেন শেখ হাসিনা

বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্মিত ‘বাংলাদেশ ভবন’ যে সম্পূর্ণ বাংলাদেশের অর্থায়নে নির্মাণ করা হয়েছে তা বাংলাদেশের গণমাধ্যম জানতেও পারেনি। কিংবা সঠিক তথ্য উদঘাটনের চেষ্টাও করেনি। কিন্তু আজ বিকেলে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে গিয়ে কথার ফাঁকে কোটি কোটি টাকা অর্থায়নের কথা ফাঁস করে দেন শেখ হাসিনা।

ভারতের বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশ ভবন নির্মাণ সম্পর্কে শেখ হাসিনা বলেন, ২৫ কোটি ভারতীয় রুপি খরচ করে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশ ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। এই ভবন রক্ষণাবেক্ষণ তহবিল থেকে প্রতি বছর ১০ জন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে ফেলোশিপ দেবে বিশ্বভারতী।

শেখ হাসিনা বলেন, আমি ২০০৯ সালে এই ভবন নির্মাণ করার মনস্থির করি। বাংলাদেশ ভবন রক্ষণাবেক্ষণে ১০ কোটি স্থায়ী তহবিল আমরা গঠন করব। এই তহবিল এর অর্জিত লভ্যাংশ থেকে প্রতি বছর বাংলাদেশের ১০ শিক্ষার্থীকে এমফিল ও পিএইচডি অর্জনের জন্য ফেলোশিপ দেয়া হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, ২০১১ সালে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের বাংলাদেশ সফরকালে যৌথ ইশতেহারে ‘বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশ ভবন নির্মাণের’ কথা উল্লেখ করা হয়। ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির বাংলাদেশ সফরের সময় ২০১৩ সালে এ বিষয়ে ঘোষণা দেয়া হয়।

তিনি আরো বলেন, এরই অংশ হিসেবে আমাদের শিক্ষা মন্ত্রণালয়, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং স্থাপত্য অধিদফতর যৌথভাবে এ ভবনটি নির্মাণ করেছে। এতে ২৫ কোটি ভারতীয় রুপি খরচ হয়েছে।

এত বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করে দেশের বাইরের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভবন নির্মাণ করা হলেও দেশের মানুষ এ সম্পর্কে কিছুই জানতে পারেনি। যেখানে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভবনের অভাবে ক্লাস করতে পারছেনা শিক্ষার্থীরা, সে অবস্থায় ২৫ কোটি রুপি ব্যয়ে ভারতের বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণ করে দেয়ার মধ্যে কি কারণ থাকতে পারে তা স্পষ্ট নয়। অন্যদিকে এত বিপুল অর্থায়নের পর প্রতিবছর মাত্র ১০ জন বাংলাদেশী শিক্ষার্থী বিশ্বভারতী  বিশ্ববিদ্যালয়ে এমফিল পিএইচডির সুযোগ পাবে, যা রীতিমত হাস্যকর।

তবে এই বিপুল রাষ্ট্রীয় অর্থ দিয়ে ভারতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভবন নির্মাণ করার সাথে ভারতের নিকট থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্মানসূচক ডি-লিট ডিগ্রি গ্রহণের সত্যিই কোন সম্পর্ক রয়েছে কিনা, নাকি দেয়ার অভ্যাস বেশি প্রমাণ করতেই তিনি এই ভবন নির্মাণ করেছেন, তার সঠিক ও সুনির্ধারিত তথ্য জানতে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতেই হচ্ছে।

Comments

comments