মাশরাফিকে বিতর্কিত করতে চায় আওয়ামী লীগ!

সংবাদ ডেস্ক: ক্রিকেট নিয়ে বাংলাদেশের মানুষের উম্মাদনার শেষ নেই। ক্রিকেটারদের তারা অনেকটা হিরো মনে করেন। তাই টানা ৯ বছর ক্ষমতা কুক্ষিগত করে জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়ায় এবার ক্রিকেটের জনপ্রিয়তাকে অপব্যবহার করার চেষ্টায় নেমেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। বিরোধী মত দমন, গুম, খুন, ব্যাংক ডাকাতি, দ্রব্যমূল্যের উর্দ্ধগতি, উন্নয়নের নামে সীমাহীন দুর্নীতি ও লুটপাটের রাজত্ব কায়েম করায় জনপ্রিয়তার তলানীতে অবস্থান করছে ক্ষমতাসীনরা। জনপ্রিয়তার এই দৈন্য দশা কাটাতে সেলিব্রেটিদের জনপ্রিয়তা কাজে লাগিয়ে ফের ক্ষমতায় আসতে চায় তারা। আর সেজন্য বেছে নিয়েছে দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্রিকেটার মাশরাফিকেও। এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

নড়াইল এক্সপ্রেস খ্যাত জাতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা আগামী সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি-একনেকের বৈঠক শেষে মন্ত্রী সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

তবে মাশরাফি কোন দলের টিকিটে কোন আসন থেকে নির্বাচন করবেন তা খোলাসা করেননি মুস্তফা কামাল। এর আগে অধিনায়ক মাশরাফিও এ ধরণের কোন ইঙ্গিত দেননি।

মাশরাফি আগামী সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন জনপ্রিয়তার প্রশ্নে দিশেহারা হয়ে ক্ষমতাসীনরা ক্রিকেটের জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগানোর চিন্তা করে থাকতে পারে। এটা রাজনৈতিক দূরভিসন্ধির বহিঃপ্রকাশ।

গোপন সূত্রে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজিব ওয়াজেদ জয়ের পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী নির্বাচনে প্রার্থী দেয়ার ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ রাজনীতিকদের চেয়ে সেলিব্রেটিদের অগ্রাধিকার দেয়ার চেষ্টা করবে। আর তারই অংশ হিসেবে চলচ্চিত্র ও সামাজিক সেলিব্রেটিদের দলে টানার চেষ্টা শুরু করেছে আওয়ামী লীগ।

এর আগে সাকিব আল হাসানকে বিভিন্ন রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে হাজির হতে বাধ্য করায় সমালোচনার ঝড় ওঠে সামাজিক মাধ্যমে। বিশেষ করে রংপুর সিটি নির্বাচনের আগে এ নিয়ে সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়। যেখানে রাজনৈতিক বিভিন্ন প্রোগ্রামে ক্রিকেটারদের ব্যবহার করে ফায়দা নেয়ার চেষ্টাকে অশুভ ইঙ্গিত বলে মন্তব্য করেন ফেসবুক ব্যবহারকারীরা। বিতর্কিত হয়ে পড়েন বিশ্বের শীর্ষ অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান।

এবার নতুন করে সে বিতর্কে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্রিকেটার মাশরাফি বিন মোর্তজাকে। নড়াইলের সন্তান মাশরাফি ক্রিকেটের পাশাপাশি নিজের এলাকায় জনকল্যাণমূলক কাজে সম্পৃক্ত। কিন্তু কখনই রাজনীতি নিয়ে মাথা ঘামাতে দেখা যায়নি তাকে। তাছাড়া ২০১৯ বিশ্বকাপ পর্যন্ত খেলা চালিয়ে যাবেন বলে ইতোমধ্যে তিনি ঘোষণা দিয়েছেন।

কিন্তু হঠাৎ করেই পরিকল্পনামন্ত্রী লোটাস কামালের ঘোষণায় সামাজিক মাধ্যম সরগরম হতে শুরু করেছে। আলোচনা সমালোচনার ঝড় উঠছে সবচেয়ে জনপ্রিয় এই ক্রিকেট তারকাকে নিয়ে। এখন দেশের মানুষ মাশরাফির ঘোষণা শোনার অপেক্ষায়। তার পক্ষ থেকে কোন স্পষ্ট ঘোষণা না আসা পর্যন্ত এ বিতর্ক চলতেই থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে।

Comments

comments