মুসলমানদের মদ ও শুকরের মাংস খেতে বাধ্য করছে চীন

পুনঃশিক্ষার নামে চীনের সরকার কর্তৃক মুসলমানদেরকে আটক করার পর বন্দীশিবিরগুলিতে শুকরের মাংস এবং মদ পান করতে বাধ্য করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন একসময় বন্দী শিবিরে থাকা ব্যাক্তি।

ওমির বিকালী, নামে ঐ ব্যক্তি জানান প্রায় ১০ লাখ লোককে গ্রেফতার করে এসব গণ-শিক্ষা ক্যাম্পে রাখা হয়েছে। এমনকি বন্দীদেরকে আইনজীবীর সাথে পরামর্শের অনুমতিও দেয়া হয়নি। তাদেরকে কমিউনিস্ট পার্টির প্রশংসা করতে বাধ্য করার পাশাপাশি ধর্মীয় বিশ্বাস অস্বীকার করতে বাধ্য করা হয়েছে।

মির বিকালী চীনের কাজাখের অধিবাসী। তিনি বলেন এই ক্যাম্পে থাকাকালীন তিনি আত্মহত্যার চিন্তাও করেছিলেন। পরে তাকে ৭ মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছিল।

গত বছরের বষন্তকাল পর্যন্ত চীনের মুসলিম অধ্যুষিত জিনজিয়াং প্রদেশের প্রায় কয়েক লক্ষ মুসলিমকে বন্দী করা হয়েছে। এদের মধ্যে কিছু বিদেশি নাগরিকও রয়েছে। একটি সূত্রের দাবি এ সংখ্যা দশ লাখেরও অধিক।

এক মার্কিন কমিশন এ ঘটনাকে সংখ্যালঘূদের জন্য সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় গণকারারুদ্ধকরণ বলে অভিহিত করেছে। এক ঐতিহাসিক এটাকে সাংস্কৃতিক নিধনযজ্ঞ বলে আখ্যায়িত করেছেন।

ইন্ডিপেন্ডেন্ট এপির সূত্রে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে বক্তব্য চাইলে তারা এ রকম কিছু ঘটছে না বলে দাবি করেন। কিন্তু জিনজিয়াং প্রদেশের কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলতে চাইলে তারা সাড়া দেন নি।

মি. বিকালী কারাগারের এসব নির্দেশ মানতে অস্বীকার করতেন । তাকে একটি দেয়ালের উপর পাঁচ ঘন্টা দাঁড়িয়ে থাকতে বাধ্য করা হত। এক সপ্তাহ পর তাকে নির্জন কারাবাসে পাঠানো হয়। যেখানে তাকে ২৪ ঘন্টা না খাইয়ে রাখা হয়েছিল।

তিনি জানান বন্দী শিবিরগুলোর মানসিক নির্যাতন অসহ্য ছিল। বিশেষ করে যখন নিজের বিশ্বাসকে অস্বীকার করতে চাপ দেয়া হত। নিজেকে এবং নিজের জাতিসত্ত্বাকে অস্বীকার করতে চাপ দেয়া হত, একথা বলে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। সেসব দিনের দুর্বিষহ যন্ত্রণার কথা ভেবে এখনও রাতে ঘুমাতে পারিনা।

গণগ্রেফতার অভিযানের মাধ্যমে ভারতের অর্ধেক আয়তনের সমান জিনজিয়াং প্রদেশ প্রায় জনশুণ্য করে ফেলা হয়েছে। চীনের গণমাধ্যম এটাকে ধর্ম স্বাধীনতাকামীদের সাথে রাষ্ট্রের দ্বন্দের কারণে ঘটছে। গত বছর শতাধিক উইঘুর মুসলিম নিহত হয়েছেন। চীনা কর্তৃপক্ষ সংখ্যালঘূ এই জনগোষ্ঠীকে স্বাধীনতার জন্য হুমকি মনে করে ব্যাপক দমন পীড়ণ চালিয়ে আসছে।

চীন সরকার সংখ্যালঘূদের ধর্মবিশ্বাস, পরিচয় ও সংস্কৃতি মুছে ফেলার জন্য এই গণগ্রেফতার ও কথিত পুনঃশিক্ষা কার্যক্রম অব্যহত রেখেছে। এই ধরণের বন্দীশিবিরের সংখ্যা বেড়েই চলেছে।

মি. বিকালী সহ আরও বেশ কয়েকজন সংবাদমাধ্যমকে বন্দীশিবিরের একই রকম ঘটনার কথা বলেছেন তবে তারা তাদের পরিবারের নিরাপত্তার কথা ভেবে নাম প্রকাশে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।

চীনের একজন শীর্ষ প্রসিকিউটর ঝাং জুন স্বাধীনতাকামী ও সংখ্যালঘূ মুসলিমদের আরও ব্যাপকভাবে এই কথিত এই পুনঃশিক্ষা কর্মসূচীর আওতায় আনার জন্য প্রস্তাব করেছেন।

২০১৭ এর জুনে জিনজিয়াং এর সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রকাশিত এক জরিপে দেখা গেছে ৫৮৮ জন বন্দীর কেউই জানেন না তাদের অপরাধ কী।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এক রিপোরর্টে চীনা কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন যে পুনঃশিক্ষা কেন্দ্র থেকে ফেরত আসা লোকেরা তাদের পরিবারের সাথে সুখে শান্তিতে বসবাস করছে। কিন্তু বাস্তবতা দেখা গেছে সম্পূর্ণ বিপরীত।

ইন্ডিপেন্ডেন্ট অবলম্বনে

Comments

comments