‘গ্যাং কালচার’-এর শেকড় সন্ধানে

অধ্যাপক ডা. মোহিত কামাল

‘গ্যাংকালচার’-এর ভয়াবহতা বুঝতে হলে কয়েকটি শব্দের মনস্তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা স্বচ্ছ হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। আর শব্দগুলো হচ্ছে অ্যাগ্রেশন, ভায়োলেন্স, ক্রোধ।

‘অ্যাগ্রেশন’ শব্দের আভিধানিক অর্থ হচ্ছে বিনা উসকানিতে বৈরি আচরণ, হামলা বা আগ্রাসন। কলহপরায়ণ, হামলাবাজ, ঝগড়াটে আক্রমণকারীরাই অন্যকে জখম বা ক্ষতি করার জন্য অনিয়ন্ত্রিত আচরণ করে। অন্যের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। ‘ফাইট’ করার জন্য আক্রান্ত ব্যক্তির প্রস্তুতি থাকে না, এমন পরিস্থিতি এড়িয়ে চলতে চায় তারা। কিন্তু হামলাবাজ ছাড় দেয় না তাকে। অন্যকে জখম বা ক্ষতি করার তাড়নার পেছনে থাকে কোনো-না-কোনো ঘটনা। সেই ঘটনার ভুল মূল্যায়ন সহিংসতায় ইন্ধন জোগায়, জন্ম দেয় দ্বন্দ্ব-হতাশার। পারস্পরিক সম্পর্কের দ্বন্দ্ব, টানাপড়েন, পরিবেশগত চাপ কিংবা দেহগত ও স্নায়বিক সমস্যার কারণেও নিজের মধ্যে জেগে উঠতে পারে প্রবল তাড়না বা ইমপালস। স্বাভাবিক তাড়না নিয়ন্ত্রণে রাখার ক্ষমতা রয়েছে মানুষের। জেগে ওঠা তাড়না ও নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতার মধ্যে রয়েছে সূক্ষ্ম ব্যালান্স বা ভারসাম্য। কিন্তু আচমকা সৃষ্ট ইমপালসটি শক্তিশালী হলে ভেঙে পড়ে নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা। অন্তর্গত মানসিক দুর্বলতা থাকলে সহজেই মানুষ হারিয়ে ফেলে নিজস্ব নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা, তারা হয়ে উঠতে পারে হিংস্র-পাষণ্ড। এরাই নির্মম, নিষ্ঠুর, নির্দয় আচরণ করতে মোটেই দ্বিধাগ্রস্ত হয় না। তারা কাউকে ক্ষমা করতে পারে না, বর্বরতা-অসভ্যতা দেখাতে কঠিন হূদয়ের অধিকারী এসব কিশোর-তরুণের বুক কাঁপে না। এরাই ঘটায় ব্যাপক সহিংসতা, নির্মমতা, নিষ্ঠুরতা। খুন-খারাপি, সেক্স, মাদক, ছিনতাই— এসবই গ্যাং কালচারের বিকৃত বিনোদনের বিষয়।

মানুষের মনে হিংস্র চিন্তা বা কল্পনা থাকতে পারে। কিন্তু নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা না হারালে সহিংস আচরণ ঘটাবে না সে। পারিবারিক, সামাজিক ও বিদ্যালয়ের পরিবেশের সঙ্গে মিথষ্ক্রিয়ার মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠে স্বাভাবিক নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা। পরিবারের মমতা, ভালোবাসা, সুখ-শান্তি, সৌহার্দ্য, মা-বাবার মধ্যে সুসম্পর্ক, পরিবারের অন্য সদস্যদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ সম্প্রীতি সন্তানের মানসিক বিকাশ সুগঠিত করে। ভালো ও নির্ভরশীল বিশ্বস্ত বন্ধু, সুন্দর ও নিরাপদ বাসস্থান, অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা— এসব বিষয় ভেতরের প্রেষণা সুসংহত করে, চাহিদার মধ্যে সামর্থ্যের আলোকে সীমারেখা তৈরি করে, বাস্তবতার আলোকে বপন করে দেয় আকাঙ্ক্ষার বীজ, উত্সাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে সন্তান এগোতে থাকে লক্ষ্যের দিকে। বিকাশমান এ ধরনের শিশু-কিশোর ও তরুণ প্রজন্মের অন্তর্গত মানসিক দুর্বলতা থাকে না। ফলে সহজে তারা শাসন করতে পারে নিজের মধ্যে জেগে ওঠা ইমপালস। এ তাড়না যত প্রবলই হোক না কেন, তারা হারায় না নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা। বাবা-মাকে মনে রাখতে হবে, অযৌক্তিকতা, রক্ষণশীলতা, প্রবল আধিপত্য, সন্তানের সব কাজে অনুমতি দেওয়া, অথবা সন্তানের খোঁজখবর না রাখা, বাবা-মায়ের সঙ্গে সন্তানের দূরত্ব কিংবা বাবা-মায়ের সম্পর্কের তিক্ততা, অবিশ্বাস, অশান্তি সন্তানকে মনের দিক থেকে দুর্বল করে দিতে পারে। এ ধরনের সন্তান মাদক গ্রহণের ঝুঁকিতে পড়ে যায়। অশুভকে ‘না’ বলার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে, সহজে প্রভাবিত হয়, সহজে সহিংস আচরণের বৈশিষ্ট্য চেপে বসে এদের ব্যক্তিত্বে, সহজেই হয়ে পড়ে নিয়ন্ত্রণহীন। এরাই গ্যাং কালচার গড়ে তোলে কিংবা নিজেরাই গ্যাংয়ের দলভুক্ত হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়ে যায়।

সাম্প্রতিক সময়ে গড়ে ওঠা দলবদ্ধ এই অশুভ সংস্কৃতির বেশি ঝুঁকিতে থাকে কারা, প্রশ্ন আসতে পারে আমাদের মনে। যে-সব সন্তান শিশুকাল থেকে মা-বাবার অ্যাটাচমেন্টে থাকার সুযোগ পায় না অথবা বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের কারণে মর্মযাতনায় ভোগে, ভাবে তাদের কেউ নেই, না বাবা না মা, নিজেদের ভাবে শেকড়হীন উদ্বাস্তু, যেকোনো অপরাধমূলক কাজে তারা জড়িয়ে যেতে পারে। এরাই এলাকার দলবদ্ধ ‘গ্যাং পরিবারে’ আশ্রয় গ্রহণ করে। এই দলে থেকে তারা অর্থ পায়, মমতা পায়, নিরাপত্তা পায়। তখন দলনেতার যেকোনো নির্দেশ তারা পালন করতে বাধ্য হয় কিংবা উত্সাহের সঙ্গে পালন করে। ভালো পরিবারের বাচ্চারাও ‘কমিউনিকেশন গ্যাপ’ বা পারিবারিক যোগাযোগের ঘাটতির কারণে এ ধরনের অশুভ দলের সঙ্গে জড়িয়ে যেতে পারে। শীতল প্রকৃতির অন্তর্মুখী, আত্মমর্যাদাহীন শিশুরাও পাড়ার মাস্তান বা সহিংস গ্রুপের প্রভাবে সহজেই প্রভাবিত হয়ে যেতে পারে। অশুভকে চিনতে পারলেও তারা না বলতে পারে না। ফেঁসে যেতে পারে অপরাধ জগতে। কিছু কিছু ভিডিও গেমস আছে যাতে দেখানো হয় ‘গ্যাং মেম্বার’ বা ‘গ্যাং লিডার’ অপরাধ করেও প্রশংসিত হচ্ছে, নায়কের মতো মর্যাদা পাচ্ছে, কোমরে পিস্তল গুঁজে চলাফেরা করে অন্যের উপর আধিপত্য বিস্তার করছে, অন্যের সমীহ পাচ্ছে। ধীরে ধীরে তারা ওই অলীক আনন্দময় জীবনের দাসে পরিণত হয়। নতুন নামে তারা পরিচিত হতে থাকে, নতুন এক অপসংস্কৃতিতে তারা ঢুকে যায়। কথায় আছে ‘সত্ সঙ্গে স্বর্গবাস, অসত্ সঙ্গে সর্বনাশ’।

স্যোসাল লার্নিং থিওরি অনুযায়ী ‘অ্যাগ্রেশন’ হচ্ছে সামাজিক শিক্ষণের ফল। অন্যের সহিংসতা দেখার মাধ্যমে শিশুর মনে সহিংসতার ছাপ বসে যায়। অনেকে অনুকরণ করে শেখে সহিংসতা। অনেক ভুল ব্যক্তিকে শনাক্ত করে হয়ে যায় সহিংস। দেখা যাচ্ছে সমাজে সহিংস ব্যক্তিরা ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে পুরস্কৃত হয় নানাভাবে। এই অভিজ্ঞতা শিশুকাল থেকে সন্তানের মনে সহিংসতার বীজ রোপণ করে দিতে পারে। ভায়োলেন্সের পেছনে কাজ করে আরো অনেক ধরনের মনোসামাজিক বিষয়-আশয়। যেমন— হতাশা। হতাশার কারণে রিলিজ হতে পারে অ্যাগ্রেশন। দৈহিক আক্রমণ কিংবা কথার খোঁচায়ও রিলিজ হতে পারে সহিংসতা, নিষ্ঠুরতা, বিবেক-বোধহীন পশুত্ব।

সম্পর্কের মধ্যে বেশি মাত্রায় অসততা দেখা যাচ্ছে ইদানীংকালে। একই তরুণ গোপনে অনেক তরুণীর সঙ্গে চালিয়ে যাচ্ছে সম্পর্ক। অনেক তরুণীরও রয়েছে একাধিক বয়ফ্রেন্ড। এই অসততা সহিংসতায় ইন্ধন জোগায়, মারপিট ও খুনাখুনির পথে টেনে নেয় তরুণ প্রজন্মকে। নিজের অসততা চোখে দেখে না মানুষ, কিন্তু অন্যের অসততা সইতে পারে না। নিজেকে সত্ হতে হবে প্রথম, স্বচ্ছ হতে হবে সম্পর্কের ব্যাপারে। স্বচ্ছতাই কমাতে সক্ষম তরুণ প্রজন্মের অস্থিরতা। কিশোররাই বেশি জড়িয়ে যাচ্ছে গ্রুপ কালচারে। সংখ্যায় কম হলেও কিশোরীরাও জড়ানোর খবর পাওয়া যাচ্ছে। আমাদের দেশে এর সংখ্যা কম হলেও উন্নত দেশগুলোতে এ হার উদ্বেগজনক। এর জন্য বয়ঃসন্ধিক্ষণের বিষয়টি বুঝতে পারাও গুরুত্বপূর্ণ। মস্তিষ্কে কী ঘটে এ সময়ে? আমাদের জানতে হবে ব্রেনে রয়েছে হাইপোথ্যালামাস নামক গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। বয়ঃসন্ধিক্ষণে এটি সক্রিয় হয়ে ওঠে। অনেকটা ঘুমন্ত বাঘের গা ঝাড়া দিয়ে উঠে দাঁড়ানোর মতো। ঢেউ ওঠে দেহে, মনে। ঢেউ ওঠার কারণে দেহের ভেতরে ঘটে বিপ্লব। হাইপোথ্যালামাস সক্রিয় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দেহের মাস্টার গ্ল্যান্ড পিটুইটারি গ্রন্থিতে আলোড়ন ওঠে। শুরু হয়ে যায় জোয়ার, হরমোনের নিঃসরণ। হরমোন দেহের জননেন্দ্রিয়, পেশি ও হাড়ের কোষে কোষে অভাবনীয় পরিবর্তন ঘটাতে শুরু করে, বাড়তে থাকে দেহ। ঝলসে ওঠে কিশোরীর মায়াবী লাবণ্য, সুঠাম হতে থাকে কিশোরের পেশী। পরিবর্তন ঘটে রোমে, স্বরে, আবেগে, চিন্তায়, আচরণে। দ্রুত, বাড়ন্ত পরিবর্তনশীল সময় হচ্ছে কৈশোরের মূল ফ্রেম। এই ফ্রেমটি ভবিষ্যত্ জীবনের ভিত গড়ে তোলে, যৌবনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করে, কৌশল আয়ত্ত করতে উদ্বুদ্ধ করে টিনএজারদের।

শৈশবের শেষ পর্যায় পর্যন্ত যৌন চেতনা সুপ্ত থাকে। বহিঃপ্রকাশ থাকে না বললেই চলে। এ সময় যৌনতার বহিঃপ্রকাশ না থাকলেও বিকাশ চলতে থাকে তলে তলে। পূর্ণতার দিকে এগিয়ে যায় অন্তর্গত সুপ্ত চেতনা। এ কারণে এ সময়ে আবেগের চাঞ্চল্য দেখা যায় না, কোনো ধরনের অসঙ্গতির প্রকাশ পায় না। বয়ঃসন্ধিক্ষণের পর থেকেই টিনএজারদের আবেগে ঝড় ওঠে, অস্থিরতা বেড়ে যায় যৌন অনুভূতির কারণে। যদিও যৌনতার পূর্ণতা ঘটে কৈশোরের শেষ পর্যায়ে— যৌনস্পৃহা, প্রেম, যৌন আগ্রহ ইত্যাদি তাড়না বিপর্যস্ত করে। ফলে অনেক টিনএজার বেসামাল হয়। এ রকম অবস্থাও তাদের ঠেলে দিতে পারে ভোগবাদী জগতের দিকে। খেলাধুলা, পড়াশুনা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকা টিনএজাররাও ‘গ্যাং কালচার’-এ ভিড়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে থাকে।

দেহের মধ্যে হরমোনের জোয়ার ও যৌনাঙ্গের বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে যৌন-চেতনা, স্নেহ-মমতা ও ভালোবাসার আকাঙ্ক্ষা স্ফীত হয়ে ওঠে। এ সময়ে যদি তারা ইউটিউবে প্রফেশনাল নারী-পুরুষের যৌনতা দেখার সুযোগ পেয়ে যায় তাহলে দেহের মধ্যে অনিয়ন্ত্রিত জোয়ারের পাশাপাশি যৌনতার চাহিদাও বিপুল রঙে রঞ্জিত হতে থাকে। কিশোর-কিশোরীরা তখন একে-অপরকে ভোগের বস্তু মনে করে। নৈতিকতা বিবর্জিত এরা যেকোনো অপরাধের দিকেও চলে যেতে পারে নিজেদের অজান্তে। পচা গর্তে তাদের পা ডুবে যেতে পারে। একবার সেখানে আটকে গেলে তাদের পক্ষে উঠে আসা সম্ভব হয় না। আমরা দেখছি এভাবে সমাজে ঘটছে ভয়ঙ্কর সব কাহিনি। পাড়ায়, মহল্লায়, শহরে, গ্রামে-গঞ্জে দোর্দণ্ডপ্রতাপশালী, কিশোর গ্রুপ শত অপরাধ করে যাচ্ছে— ইভটিজিং, ধর্ষণ, হত্যার মতো ঘটনা আমরা দেখতে পাচ্ছি প্রিন্টিং এবং ইলেকট্রিক মিডিয়াতে।

এই অপসংস্কৃতি প্রতিরোধে কী করব আমরা?

ঘরে ঘরে ভালো আবেগের চর্চা করতে হবে। ক্ষতিকর আবেগ উসকে ওঠার ঘটনার মূল্যায়ন করতে হবে ইতিবাচকভাবে। ধৈর্য তৈরির জন্য প্রয়োজন ‘থিংক পজিটিভ’ বা ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির চর্চা। কেবল টিনএজারকেই তা করলে চলবে না, মা-বাবা ও পরিবারের অন্য সদস্যদেরও করতে হবে। ঘরে ঘরে স্নেহ-মমতার বন্ধন অটুট রাখতে হবে। সন্তানের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত করতে হবে। যোগাযোগ বজায় রাখতে হবে সবসময়। পারিবারিক যেকোনো কাজে বা সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সন্তানের মতামত শুনতে হবে। তার বয়সের স্তরে নেমে বুঝতে হবে তাকে। সন্তানদের বোধের মধ্যে দিতে হবে বাবা-মা তাদের ভালোবাসেন, তাদের নিরাপত্তা, তাদের উন্নতির জন্যে সব কাজ করতে সদা সতর্ক থাকেন। সন্তানের যৌক্তিক চাহিদা পূরণ করতে হবে। অযৌক্তিক চাহিদা পূরণ করা যাবে না। তাকে বুঝিয়ে কৌশলে বিষয়টি সুরাহা করতে হবে।

পরিবারে নৈতিকতা চর্চা করতে হবে। শিশুর সামনে বা সরাসরি শিশুর সঙ্গে কোনো নিষ্ঠুর আচরণ করা যাবে না। টেলিভিশন, মোবাইল ফোন বা কম্পিউটারে আক্রমণাত্মক বা হত্যার দৃশ্য দেখা থেকে সন্তানকে বিরত রাখতে হবে। সন্তানের মধ্যে অবাধ্য আচরণ বা কনডাক্ট ডিস-অর্ডারের লক্ষণ দেখলে মনোরোগ বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে চিকিত্সার ব্যবস্থা করুন। বন্ধু কারা সে সম্পর্কে বাবা-মা যেন নির্বিকার না থাকেন। বন্ধুদের বাবা-মার সঙ্গে পরিচিত হন। তাদের বাসা চিনে রাখুন। সন্তানকে জানিয়ে দিন তোমার জীবনে ঘটা যে বিষয় বাবা-মাকে বলা যাবে না তার মধ্যে সমস্যা/বিপদ থাকে, থাকতে পারে। সুতরাং বাবা-মায়ের সঙ্গে খোলামেলা কথা বলার জন্য সন্তানকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। সন্তানের হাতে হঠাত্ দামি মোবাইল ফোন দেখলে কিংবা তাকে আপনার দেওয়া হাতখরচের বাইরে বেশি বেশি টাকা খরচ করতে দেখলে সতর্ক হোন। এগুলোর উত্স জানুন। তার সামনে পারিবারিক কলহ পরিহার করুন, পরিবারকে সুন্দর ও সুশৃঙ্খল রাখুন। সন্তানের কোনো অপরাধের পক্ষে সাফাই গাইবেন না। সন্তান মাদক নিচ্ছে কিনা, সেদিকে খেয়াল রাখুন। নিজেদের পাড়াকে মাদকমুক্ত রাখতে রাজনৈতিক মতামতের ঊর্ধ্বে উঠে সবাই সংঘবদ্ধ হোন। মনে রাখতে হবে এই পাড়া সবার সন্তানের বিচরণ ক্ষেত্র। এটাকে নিরাপদ রাখা সবার দায়িত্ব।

লেখক : কথাসাহিত্যিক ও মনোশিক্ষাবিদ।
ইমেইল: [email protected]

Comments

comments